দুই পাশ থেকে এভাবে চেপে আসায় সরু হয়ে পড়ছে সড়ক। তার ওপর রয়েছে বন্যপ্রাণীর চলাচল। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে।
এমন অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়ক ও নান্দাইল-তাড়াইল আঞ্চলিক সড়কের অনেক জায়গায়।
এ ব্যাপারে প্রতিকার দাবি যানবাহনচালক ও স্থানীয়দের।
সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ও গাড়ির চালকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ঝোপঝাড় পরিষ্কার না করায় পিচঢালা সড়কগুলো ক্রমে সরু হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর এসব ঝোপঝাড় থেকে হঠাৎ বন্যপ্রাণী চলন্ত গাড়ির সামনে লাফিয়ে পড়ে। এতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।
এ ছাড়া রাতে দুষ্কৃতকারীরা অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে জঙ্গলের আড়ালে ওত পেতে থাকে। তারা যানবাহনের চালক ও পথচারীদের জিম্মি করে ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা ঘটাচ্ছে। ফলে রুটগুলোতে চলাচলকারী ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এসব সড়কের বিভিন্ন বাঁকে ঝোপঝাড়ের কারণে বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন দূর থেকে দেখা যায় না। সম্প্রতি ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের শম্ভুগঞ্জ এলাকায় ট্রাফিক জটলা ও অসচেতনতার মধ্যে একটি দ্রুতগতির ট্রাক ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
এতে তিনজন নিহত হন।
এ ছাড়া ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের নান্দাইলের আমলিতলা জোরপুকুরপাড় এলাকায় চালবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর রেলিংয়ে ধাক্কা দিলে এর চালক নিহত হন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সড়কের দুই পাশে জঙ্গল থাকায় রাতে চালকেরা প্রায়ই রাস্তার সঠিক সীমানা বুঝতে ভুল করেন। শুধু দুর্ঘটনাই নয়, এসব ঝোপঝাড়ের সুযোগ নিয়ে নান্দাইল ও তাড়াইল সীমান্তের নির্জন অংশগুলোতে রাতে গাছের ডাল ফেলে বা ব্যারিকেড দিয়ে ডাকাতি হয়। ডাকাত দল সিএনজি ও মোটরসাইকেল আরোহীদের জিম্মি করে মোবাইল ও নগদ অর্থ লুট করে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নীতিমালা অনুযায়ী, নিরাপদ যানচলাচলের স্বার্থে সড়কের দুই পাশের ‘রাইট অব ওয়ে’ (সড়কসীমা) সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা, লতাপাতা ও জঙ্গলমুক্ত রাখার স্পষ্ট নিয়ম রয়েছে। বিশেষ করে মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কের বিভিন্ন বাঁক ও মোড়ে চালকের দৃষ্টিসীমা ঠিক রাখতে নিয়মিত বিরতিতে আগাছা কেটে পরিষ্কার করতে সরকারি বাজেট ও নির্দিষ্ট জনবল বরাদ্দ থাকে।
এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, বর্ষা মৌসুমের কারণে সড়কের দুই পাশে আগাছা কিছুটা দ্রুত বেড়েছে। আমাদের সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ নীতিমালার আওতায় এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট সড়কগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত পরিষ্কার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও দুর্ঘটনা এড়াতে শিগগিরই ঝোপঝাড় ও জঙ্গল কাটার কাজ শুরু করা হচ্ছে বলে জানান এই সওজ প্রকৌশলী।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ
























