ঢাকা ০৩:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অবৈধভাবে ইতালিযাত্রা ঠেকাতে ওয়ার্কশপ হবে : স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার প্রবণতা ঠেকাতে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুরসহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে সচেতনতামূলক ওয়ার্কশপ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রোর সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন—ইতালিতে বাংলাদেশিদের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ শরীয়তপুর, মাদারীপুর অঞ্চলসহ আশপাশের এলাকার। তিনি খুব উদ্বেগের সঙ্গে বলেছেন যে অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে অনেকেই সমুদ্রপথে পাড়ি দিয়ে লিবিয়া হয়ে ইতালিতে যায়, যা খুবই দুঃখজনক।’

দেশটি এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা চেয়েছেন জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুরসহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে যৌথভাবে একটি ওয়ার্কশপ আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ইতালি চায় স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে যৌথভাবে একটা ওয়ার্কশপ হোক।

যেখানে মানুষকে বোঝানো হবে যে তাদের আর অবৈধভাবে যাওয়ার দরকার নেই। যেহেতু পরিবার-পরিজন থাকে, বৈধভাবে যাওয়ারও সুযোগ আছে, সেই সুযোগটা যেন মানুষ কাজে লাগায়।

প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, ইতালির রাষ্ট্রদূতের দেওয়া তথ্যানুযায়ী বর্তমানে দেশটিতে প্রায় আড়াই লাখ বাংলাদেশি বসবাস করছেন, যার সিংহভাগ হচ্ছে শরীয়তপুর, মাদারীপুর।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ইতালির রাষ্ট্রদূত অবৈধ পথে বাংলাদেশিদের ইতালি যাওয়ার বিষয়টিকে মানবিক ও মানবাধিকারসংক্রান্ত সমস্যা হিসেবে দেখছেন।

বিশেষ করে সমুদ্রপথে যেতে গিয়ে অনেকের মৃত্যুর বিষয়েও তিনি উদ্বেগ জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রদূত বললেন যে এটা আমাদের জন্য কষ্ট হয়, তারা কষ্ট পায়, অনেক সময় সমুদ্র পাড়ি দিতে গিয়ে মারা যায় রাস্তার মধ্যে। বলছেন, এভাবে যাওয়ার দরকার নেই; আমাদের দেশে যেহেতু বৈধভাবে আমরা শ্রমিক নিই, সেহেতু যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।’

রাষ্ট্রদূত অবৈধভাবে লোক পাঠানোর ক্ষেত্রে ‘দালাল’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তবে স্থানীয় সরকারের পক্ষ থেকে এসব ব্যক্তিকে ‘অবৈধ এজেন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইতালিতে বাংলাদেশিদের বৈধভাবে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রদূত বলেছেন যে, আমাদের দেশ থেকে প্রায় ১০ হাজার লোক বৈধভাবে যাওয়ার সুযোগ আছে এবং ফ্যামিলিসহ আরো ১২ হাজার। তাহলে এত বড় একটা সুযোগ, তিনি বললেন যে এটা তোমরা কাজে লাগাতে পারো এবং এ ব্যাপারে ওয়ার্কশপ করো।’

প্রতিমন্ত্রী জানান, রাষ্ট্রদূত বলেছেন—প্রতিবছর একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক বাংলাদেশি নেওয়া সম্ভব হলেও সংখ্যাটি কমবেশি হতে পারে। তবে আগ্রহীদের বৈধ পথে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করতে হবে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

অবৈধভাবে ইতালিযাত্রা ঠেকাতে ওয়ার্কশপ হবে : স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী

আপডেট সময় ০১:৪৬:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে ইতালি যাওয়ার প্রবণতা ঠেকাতে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুরসহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে সচেতনতামূলক ওয়ার্কশপ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রোর সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন—ইতালিতে বাংলাদেশিদের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ শরীয়তপুর, মাদারীপুর অঞ্চলসহ আশপাশের এলাকার। তিনি খুব উদ্বেগের সঙ্গে বলেছেন যে অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে অনেকেই সমুদ্রপথে পাড়ি দিয়ে লিবিয়া হয়ে ইতালিতে যায়, যা খুবই দুঃখজনক।’

দেশটি এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা চেয়েছেন জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুরসহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে যৌথভাবে একটি ওয়ার্কশপ আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ইতালি চায় স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে যৌথভাবে একটা ওয়ার্কশপ হোক।

যেখানে মানুষকে বোঝানো হবে যে তাদের আর অবৈধভাবে যাওয়ার দরকার নেই। যেহেতু পরিবার-পরিজন থাকে, বৈধভাবে যাওয়ারও সুযোগ আছে, সেই সুযোগটা যেন মানুষ কাজে লাগায়।

প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, ইতালির রাষ্ট্রদূতের দেওয়া তথ্যানুযায়ী বর্তমানে দেশটিতে প্রায় আড়াই লাখ বাংলাদেশি বসবাস করছেন, যার সিংহভাগ হচ্ছে শরীয়তপুর, মাদারীপুর।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ইতালির রাষ্ট্রদূত অবৈধ পথে বাংলাদেশিদের ইতালি যাওয়ার বিষয়টিকে মানবিক ও মানবাধিকারসংক্রান্ত সমস্যা হিসেবে দেখছেন।

বিশেষ করে সমুদ্রপথে যেতে গিয়ে অনেকের মৃত্যুর বিষয়েও তিনি উদ্বেগ জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রদূত বললেন যে এটা আমাদের জন্য কষ্ট হয়, তারা কষ্ট পায়, অনেক সময় সমুদ্র পাড়ি দিতে গিয়ে মারা যায় রাস্তার মধ্যে। বলছেন, এভাবে যাওয়ার দরকার নেই; আমাদের দেশে যেহেতু বৈধভাবে আমরা শ্রমিক নিই, সেহেতু যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।’

রাষ্ট্রদূত অবৈধভাবে লোক পাঠানোর ক্ষেত্রে ‘দালাল’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তবে স্থানীয় সরকারের পক্ষ থেকে এসব ব্যক্তিকে ‘অবৈধ এজেন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইতালিতে বাংলাদেশিদের বৈধভাবে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রদূত বলেছেন যে, আমাদের দেশ থেকে প্রায় ১০ হাজার লোক বৈধভাবে যাওয়ার সুযোগ আছে এবং ফ্যামিলিসহ আরো ১২ হাজার। তাহলে এত বড় একটা সুযোগ, তিনি বললেন যে এটা তোমরা কাজে লাগাতে পারো এবং এ ব্যাপারে ওয়ার্কশপ করো।’

প্রতিমন্ত্রী জানান, রাষ্ট্রদূত বলেছেন—প্রতিবছর একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক বাংলাদেশি নেওয়া সম্ভব হলেও সংখ্যাটি কমবেশি হতে পারে। তবে আগ্রহীদের বৈধ পথে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করতে হবে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ