আগস্টের শেষ বিকেলের নরম রোদে নীল-সাদা জার্সিটা সযত্নে তুলে রেখেছেন তিনি। বুটজোড়া কপালে ঠেকিয়ে ফুটবল ঈশ্বরকে বিদায় জানিয়েছেন লিওনেল মেসি। তাঁর সেই নীরব প্রস্থানে শুধু একটা অধ্যায়েরই অবসান ঘটেনি, বিশ্বফুটবলের ঝিলমিল করা আকাশ থেকেও যেন হঠাৎ খসে পড়েছে একটা ধ্রুবতারা। আর সেই তারার আলো নিভে যেতেই বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে এক গভীর শূন্যতা, যার ঢেউ এসে আছড়ে পড়েছে চিনের প্রাচীরের ওপারেও।
সেপ্টেম্বরের শেষান্তে চিনের মাটিতে পা রাখার কথা ছিল বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা দলের। এশিয়ার এই প্রকাণ্ড দেশে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলার প্রস্তাব পেয়েছিল ‘লা আলবিসেলেস্তে’। কিন্তু ফুটবল কূটনীতির অদৃশ্য খাতায় শুরু থেকেই এক কড়া শর্তঁ সেঁটে রেখেছিল চিন—সেই ম্যাচে জাদুকর মেসির উপস্থিতি থাকতেই হবে বাধ্যতামূলক। নিয়তির কী নির্মম পরিহাস, ঠিক সেই মুহূর্তেই ব্যক্তিগত পারিবারিক শোকের ছায়ায় আচ্ছন্ন ছিলেন লিও; বাবাকে হারিয়ে তিনি তখন মানসিকভাবে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। অনিশ্চয়তার চাদরে ঢাকা পড়েছিল তাঁর সবুজ গালিচায় ফেরা না ফেরা।
এরই মধ্যে এল সেই ধ্রুব সত্যের ঘোষণা—আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে চিরতরে সরে দাঁড়ালেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা। চিন স্পষ্ট বুঝে গেল, চিনা ড্রাগনের দেশে এবার আর নামবেন না সেই বাঁ-পায়ের জাদুকর। প্রীতি ম্যাচের সবুজ গালিচায় যখন মেসির জাদুকরি ড্রিবলই দেখা যাবে না, তখন শুধু দলটার নাম দেখে গ্যালারি ভরাতে রাজি নয় চিনের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন। এক লহমায় তাই বাতিল হয়ে গেল আর্জেন্টিনা বনাম চিনের সেই প্রতীক্ষিত দ্বৈরথ।
ফুটবল আজ কেবলই এগারো জন খেলোয়াড়ের লড়াই নয়, বিশ্ববাজারের বিশাল এক অর্থনীতি। আর সেই অর্থনীতির সবচেয়ে উজ্জ্বল ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর তো এই একটাই নাম—মেসি। তিনি মানেই ক্যামেরার ফ্ল্যাশে ঝলমলে লাইমলাইট, তিনি মানেই বিজ্ঞাপনের বাজারে কোটি টাকার সুনামি। মেসি নেই তো মাঠে টিকিটের চাহিদা নেই, স্পনসরদের থলিতেও টান।
চিনের এই আকস্মিক ম্যাচ বাতিলের সিদ্ধান্ত তাই কেবল এক প্রীতি ম্যাচের সলিলসমাধি নয়, এ যেন বিশ্বফুটবলের এক রূঢ় সত্যের প্রকাশ—মঞ্চে ম্যাজিশিয়ান না থাকলে তসর কাপড়ের চাকচিক্যও কেমন যেন ম্লান হয়ে যায়।
বাংলা৭১নিউজ/এসএইচবি


























