ঢাকা ০১:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যেসব প্রশিক্ষণ নিলে বিদেশে মিলবে ভালো কাজের সুযোগ

ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। তবে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে আধুনিক চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় দক্ষতা না থাকায় তাদের অনেকেই প্রত্যাশিত সুযোগ ও ভালো বেতন পাচ্ছেন না। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, কোন দেশে কী ধরনের দক্ষ কর্মীর চাহিদা রয়েছে—তা আগেই নির্ধারণ করে সে অনুযায়ী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে অভিবাসী কর্মীদের সুযোগ বহুলাংশে বাড়ানো সম্ভব।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ১ কোটি ৩৯ লাখ বাংলাদেশি অভিবাসী হিসেবে কর্মরত আছেন। শুধু ২০২৫ সালেই কাজের খোঁজে বিদেশে গেছেন প্রায় ১১ লাখ ২৮ হাজার বাংলাদেশি, যার মধ্যে প্রায় ৭৭ শতাংশই কম দক্ষ বা সাধারণ শ্রেণির কর্মী।

দক্ষ জনশক্তির এই ঘাটতি মেটাতে নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি জানান, বিদেশি নিয়োগকর্তাদের চাহিদা অনুযায়ী সব সময় দক্ষ কর্মী পাঠানো সম্ভব হয় না। এই সংকট কাটাতে একটি নতুন পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যেখানে কোনো দেশ নির্দিষ্ট দক্ষতার কর্মী চাইলে সে দেশের নিয়োগকর্তা বা প্রশিক্ষক নিজেই বাংলাদেশে এসে কর্মীদের কাজের দক্ষতা যাচাই ও প্রশিক্ষণ দেবেন। তাদের মূল্যায়নে সন্তুষ্ট হওয়ার পরই চূড়ান্ত নিয়োগ দেওয়া হবে।

কোন দেশে কোন প্রশিক্ষণের চাহিদা বেশি

বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির প্রধান বাজার এখনও মধ্যপ্রাচ্য। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সাবেক মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী জানান, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে শিল্প, নির্মাণ ও যান্ত্রিক খাতে দক্ষ কর্মীর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরবে মেগা প্রকল্প ও ব্যাপক উন্নয়নকাজের ফলে মেকানিক্যাল ওয়েল্ডিং এবং দক্ষ নির্মাণশ্রমিকদের বড় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

অন্যদিকে ইউরোপের দেশগুলোতে সেবাশুশ্রূষা বা কেয়ারগিভার এবং কৃষিখাতের প্রাথমিক কাজ জানা কর্মীদের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এছাড়া জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো এশীয় দেশগুলোতে কর্মসংস্থানের জন্য কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি ভাষাগত দক্ষতা অর্জন করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজ নির্মাণ শিল্পে ওয়েল্ডিংয়ে অভিজ্ঞ কর্মীদের বিপুল সুযোগ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশে যাওয়ার জন্য সবার জন্য এক ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যকর নয়। যেমন—মধ্যপ্রাচ্যের জন্য নির্মাণকাজ, ওয়েল্ডিং, মেকানিক্যাল ও শিল্পভিত্তিক কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রয়োজন, ইউরোপের জন্য কেয়ারগিভিং ও আধুনিক কৃষিভিত্তিক প্রশিক্ষণ জরুরি, আর জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য বিশেষ কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি ভাষার ওপর জোর দেওয়া দরকার। তাই বৈদেশিক শ্রমবাজারের চাহিদা সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর্মী তৈরি করা গেলে একদিকে যেমন কম দক্ষ শ্রমিকের হার কমবে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থানও আরও শক্তিশালী হবে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

যেসব প্রশিক্ষণ নিলে বিদেশে মিলবে ভালো কাজের সুযোগ

আপডেট সময় ১২:২৩:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। তবে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে আধুনিক চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় দক্ষতা না থাকায় তাদের অনেকেই প্রত্যাশিত সুযোগ ও ভালো বেতন পাচ্ছেন না। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, কোন দেশে কী ধরনের দক্ষ কর্মীর চাহিদা রয়েছে—তা আগেই নির্ধারণ করে সে অনুযায়ী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা গেলে অভিবাসী কর্মীদের সুযোগ বহুলাংশে বাড়ানো সম্ভব।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রায় ১ কোটি ৩৯ লাখ বাংলাদেশি অভিবাসী হিসেবে কর্মরত আছেন। শুধু ২০২৫ সালেই কাজের খোঁজে বিদেশে গেছেন প্রায় ১১ লাখ ২৮ হাজার বাংলাদেশি, যার মধ্যে প্রায় ৭৭ শতাংশই কম দক্ষ বা সাধারণ শ্রেণির কর্মী।

দক্ষ জনশক্তির এই ঘাটতি মেটাতে নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি জানান, বিদেশি নিয়োগকর্তাদের চাহিদা অনুযায়ী সব সময় দক্ষ কর্মী পাঠানো সম্ভব হয় না। এই সংকট কাটাতে একটি নতুন পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যেখানে কোনো দেশ নির্দিষ্ট দক্ষতার কর্মী চাইলে সে দেশের নিয়োগকর্তা বা প্রশিক্ষক নিজেই বাংলাদেশে এসে কর্মীদের কাজের দক্ষতা যাচাই ও প্রশিক্ষণ দেবেন। তাদের মূল্যায়নে সন্তুষ্ট হওয়ার পরই চূড়ান্ত নিয়োগ দেওয়া হবে।

কোন দেশে কোন প্রশিক্ষণের চাহিদা বেশি

বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির প্রধান বাজার এখনও মধ্যপ্রাচ্য। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজের (বায়রা) সাবেক মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী জানান, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে শিল্প, নির্মাণ ও যান্ত্রিক খাতে দক্ষ কর্মীর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে সৌদি আরবে মেগা প্রকল্প ও ব্যাপক উন্নয়নকাজের ফলে মেকানিক্যাল ওয়েল্ডিং এবং দক্ষ নির্মাণশ্রমিকদের বড় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

অন্যদিকে ইউরোপের দেশগুলোতে সেবাশুশ্রূষা বা কেয়ারগিভার এবং কৃষিখাতের প্রাথমিক কাজ জানা কর্মীদের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এছাড়া জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো এশীয় দেশগুলোতে কর্মসংস্থানের জন্য কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি ভাষাগত দক্ষতা অর্জন করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজ নির্মাণ শিল্পে ওয়েল্ডিংয়ে অভিজ্ঞ কর্মীদের বিপুল সুযোগ রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশে যাওয়ার জন্য সবার জন্য এক ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যকর নয়। যেমন—মধ্যপ্রাচ্যের জন্য নির্মাণকাজ, ওয়েল্ডিং, মেকানিক্যাল ও শিল্পভিত্তিক কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রয়োজন, ইউরোপের জন্য কেয়ারগিভিং ও আধুনিক কৃষিভিত্তিক প্রশিক্ষণ জরুরি, আর জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য বিশেষ কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি ভাষার ওপর জোর দেওয়া দরকার। তাই বৈদেশিক শ্রমবাজারের চাহিদা সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর্মী তৈরি করা গেলে একদিকে যেমন কম দক্ষ শ্রমিকের হার কমবে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের অবস্থানও আরও শক্তিশালী হবে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস