ঢাকা ০১:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সরাসরি সম্প্রচারকালে ইউক্রেনের টিভি চ্যানেলে রুশ ড্রোন হামলা, নিহত বেড়ে ৫ Logo ফ্যাসিবাদের আমলে নারী-শিশুরা বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছে: রিজভী Logo নেত্রকোনায় ছেলের দায়ের কোপে প্রাণ হারালেন বাবা, আটক ছেলে Logo হামজার লড়াকু পারফরম্যান্সে জয়ে ফিরল শেফিল্ড Logo দেশের অগ্রগতি নারীদের ছাড়া অসম্পূর্ণ : রিজভী Logo ডেঙ্গুর প্রকোপ চলতি মাসের শেষ থেকে বাড়তে পারে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী Logo রিট খারিজ, ছবি ছাড়া করা যাবে না জাতীয় পরিচয়পত্র Logo ক্যান্সার আক্রান্ত ফুটবলারের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ বাড়াল ক্লাব Logo বৃহস্পতিবার ৮ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না রাজধানীর ৯ এলাকায় Logo প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ঝুঁকিপূর্ণ লিবিয়া-গ্রিস রুট: প্রাণ হাতে ইউরোপের পথে বাংলাদেশি ও সুদানিরা

মেডিটেরিনিয়ান বা ভূমধ্যসাগরের বিপজ্জনক পথ পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টাকালে গ্রিসের দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রিট দ্বীপের কাছ থেকে বাংলাদেশিসহ ৭৯ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে দেশটির কোস্টগার্ড। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমার কাছাকাছি এলাকা থেকে দুটি নৌকায় ভেসে থাকা এসব অভিবাসীদের উদ্ধার করা হয়।

গ্রিক কোস্টগার্ড সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি নজরদারি ড্রোন ক্রিট দ্বীপের ‘কালি লিমেনেস’ বন্দরের নিকটে অভিবাসীবাহী কাঠের দুটি পথহারা নৌকা শনাক্ত করে। খবর পেয়ে দ্রুত অভিযান চালিয়ে অন্তত দুজন নারী ও দুটি শিশুসহ মোট ৭৯ জনকে নিরাপদে তীরে নিয়ে আসা হয়। উদ্ধার পাওয়া ব্যক্তিদের একটি বড় অংশই যুদ্ধকবলিত সুদান এবং বাংলাদেশের নাগরিক।

ঝুঁকিপূর্ণ রুটে ক্রিট ও গাভদোস দ্বীপ
উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়া উপকূল থেকে প্রায় ৩২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গ্রিসের ক্রিট এবং এর সীমান্তবর্তী গাভদোস দ্বীপটি বর্তমানে ইউরোপে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য অন্যতম প্রধান অবৈধ প্রবেশপথে পরিণত হয়েছে। মানবপাচারকারী চক্রগুলো লিবিয়ার দুর্বল নিরাপত্তাব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে এই পথ দিয়ে ইউরোপগামী ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় অভিবাসীদের পাঠাচ্ছে।

কঠোর হচ্ছে ইইউ নীতি
গ্রিসের ইমিগ্রেশন মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইউরোপমুখী অভিবাসীদের স্রোত সার্বিকভাবে কিছুটা কমেছে। ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত দেশটিতে যেখানে প্রায় ৬১ হাজার অভিবাসী প্রবেশ করেছিল, পরবর্তী ১২ মাসে সেই সংখ্যা ৩১ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রায় ৪২ হাজারে নেমে এসেছে।

তবুও অনিয়মিত এই মানবপ্রবাহ ঠেকাতে বেশ কিছু ইউরোপীয় দেশ এবং ইইউ যৌথভাবে অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করার পথে হাঁটছে। একই সাথে, ইউরোপের সীমানার বাইরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণাধীন বিশেষ ‘রিটার্ন হাব’ বা ফেরত কেন্দ্র স্থাপনের মতো আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের বিষয়েও সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আলোচনা জোরদার হয়েছে।

উদ্ধারকৃতদের চিকিৎসা ও প্রাথমিক আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি তাদের আইনি প্রক্রিয়া নির্ধারণে কাজ করছে গ্রিসের স্থানীয় প্রশাসন।

বাংলা৭১নিিউজ/এসএইচবি

Tag :

সরাসরি সম্প্রচারকালে ইউক্রেনের টিভি চ্যানেলে রুশ ড্রোন হামলা, নিহত বেড়ে ৫

ঝুঁকিপূর্ণ লিবিয়া-গ্রিস রুট: প্রাণ হাতে ইউরোপের পথে বাংলাদেশি ও সুদানিরা

আপডেট সময় ০৯:২১:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

মেডিটেরিনিয়ান বা ভূমধ্যসাগরের বিপজ্জনক পথ পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টাকালে গ্রিসের দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রিট দ্বীপের কাছ থেকে বাংলাদেশিসহ ৭৯ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে দেশটির কোস্টগার্ড। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমার কাছাকাছি এলাকা থেকে দুটি নৌকায় ভেসে থাকা এসব অভিবাসীদের উদ্ধার করা হয়।

গ্রিক কোস্টগার্ড সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একটি নজরদারি ড্রোন ক্রিট দ্বীপের ‘কালি লিমেনেস’ বন্দরের নিকটে অভিবাসীবাহী কাঠের দুটি পথহারা নৌকা শনাক্ত করে। খবর পেয়ে দ্রুত অভিযান চালিয়ে অন্তত দুজন নারী ও দুটি শিশুসহ মোট ৭৯ জনকে নিরাপদে তীরে নিয়ে আসা হয়। উদ্ধার পাওয়া ব্যক্তিদের একটি বড় অংশই যুদ্ধকবলিত সুদান এবং বাংলাদেশের নাগরিক।

ঝুঁকিপূর্ণ রুটে ক্রিট ও গাভদোস দ্বীপ
উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়া উপকূল থেকে প্রায় ৩২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত গ্রিসের ক্রিট এবং এর সীমান্তবর্তী গাভদোস দ্বীপটি বর্তমানে ইউরোপে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য অন্যতম প্রধান অবৈধ প্রবেশপথে পরিণত হয়েছে। মানবপাচারকারী চক্রগুলো লিবিয়ার দুর্বল নিরাপত্তাব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে এই পথ দিয়ে ইউরোপগামী ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় অভিবাসীদের পাঠাচ্ছে।

কঠোর হচ্ছে ইইউ নীতি
গ্রিসের ইমিগ্রেশন মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইউরোপমুখী অভিবাসীদের স্রোত সার্বিকভাবে কিছুটা কমেছে। ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত দেশটিতে যেখানে প্রায় ৬১ হাজার অভিবাসী প্রবেশ করেছিল, পরবর্তী ১২ মাসে সেই সংখ্যা ৩১ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রায় ৪২ হাজারে নেমে এসেছে।

তবুও অনিয়মিত এই মানবপ্রবাহ ঠেকাতে বেশ কিছু ইউরোপীয় দেশ এবং ইইউ যৌথভাবে অভিবাসন নীতি আরও কঠোর করার পথে হাঁটছে। একই সাথে, ইউরোপের সীমানার বাইরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রণাধীন বিশেষ ‘রিটার্ন হাব’ বা ফেরত কেন্দ্র স্থাপনের মতো আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের বিষয়েও সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আলোচনা জোরদার হয়েছে।

উদ্ধারকৃতদের চিকিৎসা ও প্রাথমিক আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি তাদের আইনি প্রক্রিয়া নির্ধারণে কাজ করছে গ্রিসের স্থানীয় প্রশাসন।

বাংলা৭১নিিউজ/এসএইচবি