দিনের শুরু একেক জনের একেকভাবে হয়। তবে সকালের নাশতা করতে খুব একটা বাদ রাখেন না স্বাস্থ্য সচেতন মানুষজন। আর নিজেকে ফিট রাখা ও শরীর সুস্থ রাখার জন্য সকালে নাশতায় অনেকেই নিয়মিত কাঁচা ছোলা রাখেন। রাতে ভিজিয়ে রাখা ছোলা সকালে খাওয়া হলে বেশ পুষ্টিগুণ মেলে, যা কারও অজানা নয়।
ছোলা হচ্ছে উচ্চ মাত্রার প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার। ভিটামিন, ফাইবার, প্রোটিন―সবই রয়েছে ছোলায়। এতে ফ্যাটের পরিমাণও বেশ কম। ফলে ওজন কমানোর জন্যও উপকারী। শারীরিক পরিশ্রম বা শরীরচর্চার পরও ছোলা খাওয়া ভালো। এমনকি হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী ফ্যাটের ভাণ্ডার এই ছোলা। এখন প্রশ্ন জাগতে পারে, পুষ্টিগুণে ভরপুর ছোলা পানিতে ভিজিয়ে রেখে খাবেন। কারণ, ছোলা ভিজিয়ে রাখলে এর প্রোটিন ও ভিটামিনের পুষ্টিগুণ বৃদ্ধি পায় এবং তা হজমও সহজ হয়।
স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম হেলথ শটসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাইট-ক্যালোরিসের প্রতিষ্ঠাতা ও ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশনিস্ট ও ডায়েটিশিয়ান ঋতু খানেজা পরামর্শ দিয়েছেন, ভিজিয়ে রাখা ছোলার সর্বোচ্চ পুষ্টিগুণ সর্বোচ্চ পেতে এটি কীভাবে এবং কতটুকু খাবেন, তা জানা জরুরি। একমুঠো ছোলা অন্তত ৮ ঘণ্টা ঠান্ডা পানিতে ভিজিয়ে রাখা উচিত। হালকা গরম পানিতে ভেজানো হলে ৪-৫ ঘণ্টাই যথেষ্ট। তবে একসঙ্গে বেশি পরিমাণ ভেজানো ছোলা খাওয়া ঠিক নয়। এতে পেট খারাপ হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
এ পুষ্টিবিদ বলেন, ভেজানো ছোলা খাওয়ার সেরা সময় হচ্ছে সকাল বেলা। এর পেছনেও যুক্তিযুক্ত কারণ রয়েছে। খালি পেটে ছোলা খাওয়া হলে এটি দিনভর আপনাকে কর্মক্ষম রাখবে ও শক্তি সরবরাহ করবে। সকালের নাশতায় অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণ করা হলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমায় ও ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে থাকে। আবার ডায়াবেটিস থাকলে সেদ্ধ করা ছোলা অন্যসব শাকসবজির সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। যা দিনভর রক্তের শর্করার সমতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা:
ভিজিয়ে রাখা ছোলায় থাকা কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও ফাইবার হজম প্রক্রিয়া ধীর করে দেয় এবং শরীরে শর্করার শোষণ নিয়ন্ত্রণ করে। খাবারে ভেজানো ছোলা যোগ করা হলে তা রক্তের শর্করার মাত্রা হ্রাস করে এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা:
ভেজানো ছোলায় ক্যালোরি কম থাকে এবং পুষ্টিতে ভরপুর হয়। প্রোটিন, ফাইবারের ভালো উৎস এবং এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্সও কম। ফলে ছোলায় থাকা উচ্চ মাত্রার ফাইবার ক্ষুধাভাব মেটায়, যা দীর্ঘক্ষণ অতিরিক্ত খাবার খাওয়া বা অস্বাস্থ্যকর নাশতা খাওয়া থেকে দূরে রাখে।
চুলের স্বাস্থ্যে উপকারী:
স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুল চাইলে খাদ্যতালিকায় ভেজানো ছোলা রাখতে পারেন। ভিজিয়ে রাখা ছোলায় ভিটামিন এ, বি৬, জিঙ্ক ও ম্যাঙ্গানিজের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ও খনিজ উপাদান রয়েছে, যা চুলের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। আবার অকালে চুল পেকে যাওয়া রোধেও ভিজিয়ে রাখা ছোলা খাওয়া উপকারী।
দীর্ঘস্থায়ী রোগ প্রতিরোধে কার্যকরী:
ভিজিয়ে রাখা ছোলা ম্যাগনেশিয়াম ও পটাশিয়ামের মতো খনিজের দুর্দান্ত উৎস, যা উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধে এবং ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাসে ভূমিকা রাখে। এ কারণে হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যও ভালো থাকে। নিয়মিত ভেজানো ছোলা বিউটিরেট নামক ফ্যাটি অ্যাসিড তৈরিতে সহায়তা করে, যা প্রদাহ কমায়। এছাড়া ছোলায় বিদ্যমান অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোলন, স্তন ও ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়।
হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়ায়:
অনেকেই আছেন যারা নিরামিষ পছন্দ করেন। তাদের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় আয়রনের ক্ষেত্রে সেরা উৎস হচ্ছে ভেজানো ছোলা। যা রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়ায় এবং রক্তশূন্যতায় ভোগা রোগীর জন্য দুর্দান্ত খাবার।
বার্ধক্যের ছাপ রোধ:
বয়স যদি ৩০-এর বেশি হয় এবং মুখে বলিরেখা থাকলে অনেকেই এ নিয়ে চিন্তিত থাকেন। এই চিন্তা থেকে মুক্তি পেতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ভেজানো ছোলা যুক্ত করুন। ভিজিয়ে রাখা ছোলা বার্ধক্যের ছাপ প্রতিরোধ করে। কারণ, এতে ম্যাঙ্গানিজ রয়েছে, যা বলিরেখা সৃষ্টিকারী ফ্রি র্যাডিকেলের বিরুদ্ধে লড়াই করে থাকে।
বাংলা৭১নিউজ/জেএস

























