ঢাকা ১০:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাঁচা পাটে উৎসে কর প্রত্যাহারের দাবি ব্যবসায়ীদের

কাঁচা পাটের ওপর আরোপিত শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ উৎসে কর (টিডিএস) প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশন। সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ দাবি জানানো হয়।

এ সময় ব্যবসায়ীরা দেশের পাটশিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা এবং করব্যবস্থার কারণে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরেন।

পাশাপাশি তারা পাটজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর করপোরেট কর পরিশোধের নির্ধারিত সময়সীমা যৌক্তিকভাবে বাড়ানো, রপ্তানি ও উৎপাদন ব্যয় কমাতে বিভিন্ন কর সুবিধা ও শিল্পের বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানেরও আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানায়, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পাটশিল্প ক্রমেই প্রতিযোগিতার সক্ষমতা হারাচ্ছে। বিশেষ করে কাঁচা পাটের ওপর শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ অতিরিক্ত উৎসে কর আরোপ করায় শিল্পের নগদ অর্থপ্রবাহে চাপ তৈরি হচ্ছে।

জুট স্পিনিং মিলগুলোর প্রধান কাঁচামাল কাঁচা পাট। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকরা হাটবাজারে পাট বিক্রি করেন এবং মিলগুলো সেখান থেকেই প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহ করে। ফলে পাট ক্রয়ের সময় উৎসে কর আরোপ করা হলে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে মিলগুলোর নগদ অর্থপ্রবাহে।

সংগঠনটি বলছে, দেশের বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে এমন উৎসে কর নেই।

বিশেষ করে টেক্সটাইল খাত আমদানিনির্ভর কাঁচা তুলা ব্যবহার করে এবং এক্ষেত্রে উৎসে করের চাপ তুলনামূলকভাবে কম। অথচ দেশের নিজস্ব কৃষিপণ্য কাঁচা পাটের ওপর উৎসে কর আরোপ করা হচ্ছে। এতে পাটশিল্প বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।

বৈঠকে বলা হয়েছে, পাটশিল্পে গত কয়েক বছরে উৎসে করের হার বিভিন্ন পর্যায়ে পরিবর্তন করা হয়েছে। বর্তমানে কাঁচা পাটের ওপর শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ উৎসে কর বিদ্যমান।

সংগঠনটির দাবি, পাটশিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত কাঁচা পাটের ক্ষেত্রে এ কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার অথবা শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনা প্রয়োজন। এ ছাড়া পাটজাত পণ্য উৎপাদনকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষা দিতে করপোরেট কর পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

সংগঠনটি বলছে, পাটজাত পণ্যের উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং রপ্তানি মূল্য প্রতিযোগিতামূলক রাখার জন্য কয়েক বছর ধরে করহার কমিয়ে দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া প্রয়োজন।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

কাঁচা পাটে উৎসে কর প্রত্যাহারের দাবি ব্যবসায়ীদের

আপডেট সময় ০১:০০:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

কাঁচা পাটের ওপর আরোপিত শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ উৎসে কর (টিডিএস) প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশন। সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ দাবি জানানো হয়।

এ সময় ব্যবসায়ীরা দেশের পাটশিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা এবং করব্যবস্থার কারণে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরেন।

পাশাপাশি তারা পাটজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর করপোরেট কর পরিশোধের নির্ধারিত সময়সীমা যৌক্তিকভাবে বাড়ানো, রপ্তানি ও উৎপাদন ব্যয় কমাতে বিভিন্ন কর সুবিধা ও শিল্পের বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানেরও আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানায়, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় পাটশিল্প ক্রমেই প্রতিযোগিতার সক্ষমতা হারাচ্ছে। বিশেষ করে কাঁচা পাটের ওপর শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ অতিরিক্ত উৎসে কর আরোপ করায় শিল্পের নগদ অর্থপ্রবাহে চাপ তৈরি হচ্ছে।

জুট স্পিনিং মিলগুলোর প্রধান কাঁচামাল কাঁচা পাট। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকরা হাটবাজারে পাট বিক্রি করেন এবং মিলগুলো সেখান থেকেই প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহ করে। ফলে পাট ক্রয়ের সময় উৎসে কর আরোপ করা হলে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে মিলগুলোর নগদ অর্থপ্রবাহে।

সংগঠনটি বলছে, দেশের বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে এমন উৎসে কর নেই।

বিশেষ করে টেক্সটাইল খাত আমদানিনির্ভর কাঁচা তুলা ব্যবহার করে এবং এক্ষেত্রে উৎসে করের চাপ তুলনামূলকভাবে কম। অথচ দেশের নিজস্ব কৃষিপণ্য কাঁচা পাটের ওপর উৎসে কর আরোপ করা হচ্ছে। এতে পাটশিল্প বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।

বৈঠকে বলা হয়েছে, পাটশিল্পে গত কয়েক বছরে উৎসে করের হার বিভিন্ন পর্যায়ে পরিবর্তন করা হয়েছে। বর্তমানে কাঁচা পাটের ওপর শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ উৎসে কর বিদ্যমান।

সংগঠনটির দাবি, পাটশিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত কাঁচা পাটের ক্ষেত্রে এ কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার অথবা শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনা প্রয়োজন। এ ছাড়া পাটজাত পণ্য উৎপাদনকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষা দিতে করপোরেট কর পরিশোধের সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।

সংগঠনটি বলছে, পাটজাত পণ্যের উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং রপ্তানি মূল্য প্রতিযোগিতামূলক রাখার জন্য কয়েক বছর ধরে করহার কমিয়ে দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া প্রয়োজন।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ