বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগকে (বিপিএল) নামকাওয়াস্তে আয়োজন না করে, সময় নিয়ে একটি টেকসই ও সুন্দর মডেলে রূপান্তর করায় উত্তম বলে মন্তব্য করেছেন রংপুর রাইডার্সের প্রধান নির্বাহী (সিইও) ইশতিয়াক সাদেক।
গত কয়েক বছরে ইতিবাচকের চেয়ে নেতিবাচক খবরেই তুলনামূলক বেশি শিরোনামে এসেছে বিপিএল।
কখনো ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক না দেওয়া, কখনো ফ্র্যাঞ্চাইজির শেষ মুহূর্তে দল ছেড়ে দেওয়া, আবার কখনো ফিক্সিং ইস্যুতেও জড়িয়েছে বিপিএলের নাম।
এর বাইরে গত তিন বছরের বিপিএল আয়োজন করে কোনো আর্থিক লাভ করতে পারেনি বিসিবি। উল্টো তিন বছরে প্রায় ৪০ কোটি টাকার মতো লোকসান গুনতে হয়েছে তাদের। তাই সবকিছু বিবেচনা করে ২০২৬ সালে বিপিএল আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন বর্তমান ক্রিকেট বোর্ড।
এই বিষয়ে আলোচনা করতে শনিবার বিপিএলের ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্ণধার ও প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানায় বিসিবি। যেখানে উপস্থিত ছিলেন রংপুর রাইডার্স, রাজশাহী ওয়ারিয়র্স ও ঢাকা ক্যাপিটালসের প্রতিনিধিরা।
মতবিনিময়ের পর সংবাদিকদের সাথে আলোচনায় রংপুর রাইডার্সের প্রধান নির্বাহী ইশতিয়াক সাদেক বলেন, ‘বিসিবির যে ভাবনা… এখন বিসিবি একটা ছোট ব্রেক নিয়েছে যেন পুরো টুর্নামেন্টটা আরো সুন্দর মতো, আরো সাসটেইনেবল মডেলে করা যায়। আলোচনা খুবই ফলপ্রসূ হয়েছে।
আমরা যে তিনটা ফ্র্যাঞ্চাইজি ছিলাম, রাজশাহীর একটা শব্দ আমার কাছে খুব ভালো লেগেছে যে, সংস্কার। বিপিএলটার সংস্কার প্রয়োজন।’
আমরা গত ১০ বছর ধরে আছি কিন্তু আমাদের কোনো কনস্ট্রাকটিভ আইডিয়া নেই, সাসটেইনেবল কোনো মডেল নেই। এই মডেলগুলোকে যদি আমরা দুই পক্ষ বিসিবি ও ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো একসঙ্গে ডেভেলপ করতে পারি, দীর্ঘ মেয়াদে বিপিএলের জন্য অনেক ভালো হবে বলে যোগ করেন।
প্রায় প্রতি বিপিএলেই দেশি ও বিদেশি তারকা ক্রিকেটার নিয়ে দল সাজায় রংপুর রাইডার্স।
তবে নির্দিষ্ট কোনো সূচি না থাকায়, আগেভাগে তাদের সঙ্গে চুক্তির সুযোগ থাকে না। যে কারণে প্রায়ই শেষ সময়ে গিয়ে চড়া মূল্যে আনতে হয় ক্রিকেটার।
এ ছাড়া একই সময়ে আরো অন্যান্য ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ চলতে থাকায় বিশ্ব মানের তেমন বেশি ক্রিকেটারও পাওয়া যায় না। এই সমস্যা সমাধানের জন্য পরবর্তীতে বিপিএল আয়োজনের আগে অন্তত ৫ বছরের স্থায়ী সূচি চেয়েছে রংপুর রাইডার্স উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা যখন ক্রিকেটারদের সঙ্গে চুক্তি করতে যাই, আন্তর্জাতিক বাজারে ন্যূনতম ২০টা ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট চলে। এখানে আমাদের বিপিএল সবচেয়ে কম গুরুত্ব পায়, যখন টপ ক্লাস ক্রিকেটার আনতে চাই। এই জায়গায় আমরা সূচিটা ৫ বছরের জন্য দেওয়ার কথা বলেছি।”
২০২৬ সালে বিপিএল না হলে দেশি ক্রিকেটারদের আর্থিক লোকসানের শঙ্কা রয়েছে প্রচুর। ইশতিয়াক সাদেকের মনে করেন, অগোছালোভাবে টুর্নামেন্ট আয়োজন করে প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করার চেয়ে বরং গুছিয়ে নিয়ে ভালোভাবেই বিপিএল করাই হবে উত্তম।
তিনি আরো বলেন, ‘ক্রিকেটারদের রুটিরুজির ব্যাপার এখানে যেমন আছে, একইভাবে যখন আবার বিপিএল শেষ হয়ে যায় তখন কিন্তু এই ক্রিকেটাররাই ফ্র্যাঞ্চাইজির পেছনে ছোটে। আমার বলতে কোনো লজ্জা নেই যে, রংপুর রাইডার্স ১০ বছর ধরে এখানে আছি, আমাদের কখনও এটা হয়নি।
তবে ৭-৮ মাস চলছে, আমাদের এখনও কিছু ক্রিকেটারের পারিশ্রমিক দেওয়া বাকি। কারণ আমাদের সঙ্গে যেসব স্পন্সররা চুক্তি করেছিল, তারা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী টাকাগুলো দেয়নি। বাজারের পরিস্থিতি দিনকে দিন এত খারাপ হচ্ছে, যেটা আরও বেশি খারাপই হবে।’
তো একটা নামকাওয়াস্তে বিপিএল করে প্রতিশ্রুতি দিলাম যে ৩০ লাখ টাকা দেব। কিন্তু ক্রিকেটারকে আমি শেষের ১৫ লাখ টাকা দিচ্ছি না, ফোন ধরছি না, হারিয়ে যাচ্ছি—এর থেকে বরং একটু সময় নিয়ে ভালো কোনো একটা মডেলে করাটাই উত্তম বলে যোগ করেন রংপুর রাইডার্সের এই প্রধান নির্বাহী।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ




























