বাংলাদেশের কৃষি, পরিবেশ ও খাদ্য সুরক্ষায় যুগান্তকারী পরিবর্তনের অঙ্গীকার নিয়ে এগিয়ে চলছে দেশের অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামোগত উদ্যোগ ‘পদ্মা ব্যারেজ (১ম পর্যায়)’ প্রকল্প। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকা ব্যয়ের এই মেগা প্রকল্পের বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) অভিজ্ঞ প্রকৌশলী হাসান মাহমুদকে নতুন ‘প্রকল্প পরিচালক’ (পিডি) হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন-২ শাখা থেকে উপসচিব মোহাম্মদ আব্দুর রহিম রিপন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এই নিয়োগের কথা জানানো হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, ফেনী পানি উন্নয়ন সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (পুর) হাসান মাহমুদ নিজ দায়িত্বের পাশাপাশি অতিরিক্ত হিসেবে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের পিডি পদের দায়িত্ব সামলাবেন।
সরকারি অর্থায়নে নির্মিত এই বিশাল প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং অপচয় রোধে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন (পিপিএ) ২০০৬ ও পিপিআর ২০২৫-সহ সরকারের সব ধরনের আর্থিক ও পরিকল্পনা সংক্রান্ত বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নতুন প্রকল্প পরিচালককে প্রকল্পের সার্বিক গতি ও আর্থিক বরাদ্দের বিষয়ে মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের কাছে জবাবদিহি করতে হবে। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের লিখিত পূর্বানুমতি ব্যতিরেকে তাকে এই পদ থেকে অন্যত্র বদলি করা যাবে না বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়।
পদ্মা ব্যারেজ (১ম পর্যায়) প্রকল্প
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সামগ্রিক পুনর্জাগরণের লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তাবিত এই সুবিশাল প্রকল্পটি গত ১৩ মে ২০২৬ একনেক-এ অনুমোদন হয়।
পানি সম্পদ বিশেষজ্ঞদের মতে, পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণ কেবল একটি প্রকৌশলগত অবকাঠামো নয়; এটি উপকূলীয় অঞ্চলে মিষ্টি পানির সুপেয় প্রবাহ ধরে রাখা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলার একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ।
শুষ্ক মৌসুমে সমুদ্রের নোনা পানি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অভ্যন্তরীণ নদ-নদীতে প্রবেশ করে ভূ-উপরিস্থ পানির আধার ধ্বংস করছে। ব্যারেজ নির্মাণের মাধ্যমে মিষ্টি পানির প্রবাহ ধরে রেখে এই ধ্বংসাত্মক লবণাক্ততা কার্যকরভাবে ঠেকানো যাবে।
সংরক্ষিত পানি শুষ্ক মৌসুমে সেচের কাজে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। এতে করে উপকূলীয় ও পার্শ্ববর্তী বিপুল পরিমাণ অনাবাদী জমি চাষাবাদের আওতায় আসবে এবং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার হবে।
গঙ্গা ও পদ্মার মিষ্টি পানির সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের স্পর্শকাতর ইকো-সিস্টেম মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। ব্যারেজের ফলে পর্যাপ্ত মিষ্টি পানি প্রবাহিত হলে সুন্দরবনের বিরল জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা পাবে।
সুপরিকল্পিত ক্যানাল নেটওয়ার্ক ও ক্যানাল স্ট্রাকচারের মাধ্যমে নদীর গতিপথ ও পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে, যা তীব্র নদীভাঙন হ্রাস করবে এবং পলি ব্যবস্থাপনাকে সুসংহত করবে।ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ হ্রাস: ভূ-উপরিস্থ মিষ্টি পানির ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দেবে যাওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাবে দেশের একটি বিশাল এলাকা।
বাংলা৭১নিউজ/এসএইচবি




























