ঢাকা ০৮:০৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo রাষ্ট্রপতি চাইলে পদত্যাগ করতে পারবেন, সংবিধানে সেই সুযোগ আছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo সুনামগঞ্জে ১ কোটি টাকার ভারতীয় কাপড় জব্দ, আটক ৩ Logo ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া লাইফ সাপোর্টে Logo দেশে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ২১ নারী ডিসি দায়িত্বে Logo শনিবার শুরু হচ্ছে দু’দিনব্যাপী ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম ও বেয়ার সামিট Logo যেভাবে সিআইএ’র গোপন স্থাপনায় নিখুঁত হামলা চালাচ্ছে ইরান: রিপোর্ট Logo চট্টগ্রামে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় যুবদল নেতা নিহত Logo রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে আসিয়ানের সহযোগিতা চাই‌লেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী Logo তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ মোদির Logo মার্কিন বিশেষ দূতের সফরে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও সুগম হবে

যেভাবে সিআইএ’র গোপন স্থাপনায় নিখুঁত হামলা চালাচ্ছে ইরান: রিপোর্ট

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সিআইএ’র বিভিন্ন স্থাপনায় নিখুঁত ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। এসব হামলার ক্ষেত্রে রাশিয়া কোনও ধরনের টার্গেটিং ইনফরমেশন কিংবা উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি দিয়ে সহায়তা করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষকরা। 

মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগের বিষয়ে অবগত চার ব্যক্তির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ব্যক্তিরা জানান, সিআইএ’র স্থাপনায় হামলার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য রুশ সম্পৃক্ততা নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এখনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি। তবে হামলাগুলোর কার্যকারিতা, নিখুঁত নিশানা এবং ইরানের প্রতি রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহায়তাকে সম্ভাব্য প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তারা।

এর আগে রয়টার্সসহ অন্যান্য সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ক্ষেত্রে ইরানকে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সহায়তা দিয়ে আসছে রাশিয়া। তবে সিআইএ’র স্থাপনায় হামলায় রাশিয়ার সম্ভাব্য সহায়তা নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থার এই তদন্তের বিষয়টি আগে প্রকাশ করা হয়নি।

রয়টার্স ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চে সিআইএ’র অন্তত দু’টি গোপন ঘাঁটিতে হামলা চালায় ইরান। এর মধ্যে একটি ছিল সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে থাকা সিআইএ স্টেশন এবং অন্যটি ছিল পূর্ব ইরাকে অবস্থিত একটি আলাদা ঘাঁটি। কিছু সূত্র জানিয়েছে, সিআইএ’র আরও কিছু ঘাঁটিতে হামলা হয়েছিল, তবে তারা বিস্তারিত জানায়নি।

নথি দেখার সুযোগ রয়েছে এমন এক কর্মকর্তার বর্ণনা অনুযায়ী, পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থার একটি অভ্যন্তরীণ মেমোতে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়েছে যে, আঞ্চলিক সিআইএ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর পেছনে রাশিয়ার ভূমিকা থাকার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ওই কর্মকর্তা মেমোটির নির্দিষ্ট রচয়িতার নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ বিষয়ে কথা বলেন।

উপসাগরীয় অঞ্চলে নিয়োজিত দুই পশ্চিমা কর্মকর্তা জানান, গোয়েন্দা প্রতিবেদন সম্পর্কে তাদের যে ব্রিফিং দেওয়া হয়েছে, তাতে বিশ্লেষকদের ধারণা-সৌদি আরবে হামলায় শাহেদ ড্রোনের উন্নত দুটি রুশ সংস্করণ ব্যবহার করা হয়েছিল। তাদের ভাষ্যমতে, ড্রোন দুটির মধ্যে প্রথমটি দূতাবাসের বাইরের দেয়ালের একটি দুর্বল অংশে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে গর্ত তৈরি করে। আর দ্বিতীয় ড্রোনটি সেই পথ দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে বিস্ফোরিত হয়। এই ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে গত সপ্তাহে জর্ডানে একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে মার্কিন সেনা ব্যারাক লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরান। এতে অন্তত দুই মার্কিন সেনা নিহত হন। এই ঘটনার পর ইরানকে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণসংক্রান্ত তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে রাশিয়া–এমন আশঙ্কা আরও তীব্র হয়।

অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, ইরানকে স্যাটেলাইট নেভিগেশন সিস্টেম ‘কোমেটা-এম’ সরবরাহ করার মাধ্যমে তাদের শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের নিখুঁত নিশানাভেদের ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করেছে রাশিয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তির তুলনায় এই ব্যবস্থা অনেক বেশি নিখুঁত এবং জ্যাম করা (বাধাগ্রস্ত করা) কঠিন।

যদিও ইরানকে সমরাস্ত্র প্রযুক্তি দিয়ে সহায়তার বিষয়টি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি রাশিয়া। 

সূত্র: রয়টার্স

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রপতি চাইলে পদত্যাগ করতে পারবেন, সংবিধানে সেই সুযোগ আছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

যেভাবে সিআইএ’র গোপন স্থাপনায় নিখুঁত হামলা চালাচ্ছে ইরান: রিপোর্ট

আপডেট সময় ০৭:০২:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সিআইএ’র বিভিন্ন স্থাপনায় নিখুঁত ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। এসব হামলার ক্ষেত্রে রাশিয়া কোনও ধরনের টার্গেটিং ইনফরমেশন কিংবা উন্নত ড্রোন প্রযুক্তি দিয়ে সহায়তা করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষকরা। 

মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগের বিষয়ে অবগত চার ব্যক্তির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ব্যক্তিরা জানান, সিআইএ’র স্থাপনায় হামলার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য রুশ সম্পৃক্ততা নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এখনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেননি। তবে হামলাগুলোর কার্যকারিতা, নিখুঁত নিশানা এবং ইরানের প্রতি রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহায়তাকে সম্ভাব্য প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তারা।

এর আগে রয়টার্সসহ অন্যান্য সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ক্ষেত্রে ইরানকে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সহায়তা দিয়ে আসছে রাশিয়া। তবে সিআইএ’র স্থাপনায় হামলায় রাশিয়ার সম্ভাব্য সহায়তা নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থার এই তদন্তের বিষয়টি আগে প্রকাশ করা হয়নি।

রয়টার্স ও অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চে সিআইএ’র অন্তত দু’টি গোপন ঘাঁটিতে হামলা চালায় ইরান। এর মধ্যে একটি ছিল সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে থাকা সিআইএ স্টেশন এবং অন্যটি ছিল পূর্ব ইরাকে অবস্থিত একটি আলাদা ঘাঁটি। কিছু সূত্র জানিয়েছে, সিআইএ’র আরও কিছু ঘাঁটিতে হামলা হয়েছিল, তবে তারা বিস্তারিত জানায়নি।

নথি দেখার সুযোগ রয়েছে এমন এক কর্মকর্তার বর্ণনা অনুযায়ী, পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থার একটি অভ্যন্তরীণ মেমোতে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়েছে যে, আঞ্চলিক সিআইএ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর পেছনে রাশিয়ার ভূমিকা থাকার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ওই কর্মকর্তা মেমোটির নির্দিষ্ট রচয়িতার নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ বিষয়ে কথা বলেন।

উপসাগরীয় অঞ্চলে নিয়োজিত দুই পশ্চিমা কর্মকর্তা জানান, গোয়েন্দা প্রতিবেদন সম্পর্কে তাদের যে ব্রিফিং দেওয়া হয়েছে, তাতে বিশ্লেষকদের ধারণা-সৌদি আরবে হামলায় শাহেদ ড্রোনের উন্নত দুটি রুশ সংস্করণ ব্যবহার করা হয়েছিল। তাদের ভাষ্যমতে, ড্রোন দুটির মধ্যে প্রথমটি দূতাবাসের বাইরের দেয়ালের একটি দুর্বল অংশে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে গর্ত তৈরি করে। আর দ্বিতীয় ড্রোনটি সেই পথ দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে বিস্ফোরিত হয়। এই ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

এদিকে গত সপ্তাহে জর্ডানে একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে মার্কিন সেনা ব্যারাক লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইরান। এতে অন্তত দুই মার্কিন সেনা নিহত হন। এই ঘটনার পর ইরানকে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণসংক্রান্ত তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে রাশিয়া–এমন আশঙ্কা আরও তীব্র হয়।

অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, ইরানকে স্যাটেলাইট নেভিগেশন সিস্টেম ‘কোমেটা-এম’ সরবরাহ করার মাধ্যমে তাদের শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের নিখুঁত নিশানাভেদের ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করেছে রাশিয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তির তুলনায় এই ব্যবস্থা অনেক বেশি নিখুঁত এবং জ্যাম করা (বাধাগ্রস্ত করা) কঠিন।

যদিও ইরানকে সমরাস্ত্র প্রযুক্তি দিয়ে সহায়তার বিষয়টি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি রাশিয়া। 

সূত্র: রয়টার্স

বাংলা৭১নিউজ/এসএএইচ