ঢাকা ০৩:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মঙ্গলে প্রাচীন সৈকতের চিহ্ন পেল নাসার রোভার

নাসার পারসিভিয়ারেন্স রোভার মঙ্গলে প্রাচীন সৈকতের স্পষ্ট চিহ্ন খুঁজে পেয়েছে। এই আবিষ্কার ইঙ্গিত দিচ্ছে, কোটি কোটি বছর আগে লাল গ্রহটিতে পানি, বৃষ্টি এবং আর্দ্র পরিবেশ ছিল। বিজ্ঞানীদের মতে, এতে মঙ্গলে অতীতে জীবনের উপযোগী পরিবেশ থাকার সম্ভাবনা আরও জোরালো হলো।

লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের নেতৃত্বে এক আন্তর্জাতিক গবেষক দল ২৬ জানুয়ারি এই তথ্য নিশ্চিত করে। তারা জানায়, মঙ্গলের জেজেরো গহ্বরে (একটি বড় গর্ত) স্তরযুক্ত বালুকাপাথর পাওয়া গেছে। এসব পাথরের দানা গোলাকার, যা সাধারণত ঢেউয়ের আঘাতে তৈরি হয়। গবেষকদের ধারণা, এখানে একসময় হ্রদের তীর ছিল এবং ঢেউ আছড়ে পড়ত।

বিজ্ঞানীরা জানান, প্রায় ৩৫০ কোটি বছর আগে জেজেরো গহ্বরে বিশাল একটি হ্রদ ছিল। সেই হ্রদের পানিতে স্থানীয় আগ্নেয় শিলা ক্ষয় হয়ে বালিতে পরিণত হয় এবং তীরে জমা পড়ে। পারসিভিয়ারেন্স রোভারের ক্যামেরায় তোলা উচ্চমানের ছবির বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

আরও জানা গেছে, ওই এলাকায় কার্বোনেট খনিজ রয়েছে, যা সাধারণত পানির উপস্থিতিতে তৈরি হয় এবং পৃথিবীতে জৈব অণু ধরে রাখতে পারে। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় সাদা কাওলিনাইট কাদামাটি পাওয়া গেছে। এই খনিজ গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় দীর্ঘদিনের ভারী বৃষ্টির ফলে তৈরি হয়।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, জেজেরো গহ্বর প্রমাণ করছে—মঙ্গল একসময় উষ্ণ, ভেজা এবং জীবনের জন্য উপযোগী ছিল।

বাংলা৭১নিউজ/এসএইচ

Tag :

মঙ্গলে প্রাচীন সৈকতের চিহ্ন পেল নাসার রোভার

আপডেট সময় ০৩:১৭:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

নাসার পারসিভিয়ারেন্স রোভার মঙ্গলে প্রাচীন সৈকতের স্পষ্ট চিহ্ন খুঁজে পেয়েছে। এই আবিষ্কার ইঙ্গিত দিচ্ছে, কোটি কোটি বছর আগে লাল গ্রহটিতে পানি, বৃষ্টি এবং আর্দ্র পরিবেশ ছিল। বিজ্ঞানীদের মতে, এতে মঙ্গলে অতীতে জীবনের উপযোগী পরিবেশ থাকার সম্ভাবনা আরও জোরালো হলো।

লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজের নেতৃত্বে এক আন্তর্জাতিক গবেষক দল ২৬ জানুয়ারি এই তথ্য নিশ্চিত করে। তারা জানায়, মঙ্গলের জেজেরো গহ্বরে (একটি বড় গর্ত) স্তরযুক্ত বালুকাপাথর পাওয়া গেছে। এসব পাথরের দানা গোলাকার, যা সাধারণত ঢেউয়ের আঘাতে তৈরি হয়। গবেষকদের ধারণা, এখানে একসময় হ্রদের তীর ছিল এবং ঢেউ আছড়ে পড়ত।

বিজ্ঞানীরা জানান, প্রায় ৩৫০ কোটি বছর আগে জেজেরো গহ্বরে বিশাল একটি হ্রদ ছিল। সেই হ্রদের পানিতে স্থানীয় আগ্নেয় শিলা ক্ষয় হয়ে বালিতে পরিণত হয় এবং তীরে জমা পড়ে। পারসিভিয়ারেন্স রোভারের ক্যামেরায় তোলা উচ্চমানের ছবির বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

আরও জানা গেছে, ওই এলাকায় কার্বোনেট খনিজ রয়েছে, যা সাধারণত পানির উপস্থিতিতে তৈরি হয় এবং পৃথিবীতে জৈব অণু ধরে রাখতে পারে। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় সাদা কাওলিনাইট কাদামাটি পাওয়া গেছে। এই খনিজ গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় দীর্ঘদিনের ভারী বৃষ্টির ফলে তৈরি হয়।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, জেজেরো গহ্বর প্রমাণ করছে—মঙ্গল একসময় উষ্ণ, ভেজা এবং জীবনের জন্য উপযোগী ছিল।

বাংলা৭১নিউজ/এসএইচ