ঢাকা ০৬:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বিচারকের বিরুদ্ধে প্রেসব্রিফ : ব্যারিস্টার সারোয়ারকে হাইকোর্টে তলব Logo জঙ্গল থেকে নকশাল নির্মূল হলেও চেতনায় রয়ে গেছে: নরেন্দ্র মোদি Logo সাভারে এক রাতে তিন ককটেল বিস্ফোরণ, বাসে আগুন Logo শান্তি আলোচনার মধ্যেই ইউক্রেনের অর্থনীতি ধ্বংসে রাশিয়ার জোরদার হামলা Logo সাতক্ষীরায় পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু Logo জিডিপির হিসাবে গরমিল পাওয়া গেছে, জানালেন অর্থমন্ত্রী ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী Logo মহেশখালীতে হচ্ছে আরও তিন এলএনজি টার্মিনাল Logo দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে পাকিস্তান গেলেন বিসিএসের ৩৪ কর্মকর্তা Logo সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক শুরু, যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী Logo সাংবাদিককে হুমকি ও জাতীয় সংগীত অবমাননায় পরীমনিকে আইনি নোটিশ

জিয়াউর রহমানের কথা বলার স্টাইল ও আবেগ তারেক রহমানের বক্তব্যে ফুটে উঠেছে: প্রতিমন্ত্রী নুর

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যেভাবে মানুষের সঙ্গে কথা বলতেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যেও সেই আবেগ ও বলার ধরন খুঁজে পেয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।

তিনি বলেন, ‘গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে আমাদের সাবেক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের টোনে কথা বলার ধরন, মানুষের প্রতি একটা দরদ এবং অধিকারের স্বর উপলব্ধি করেছি। আমার কাছে মনে হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী মানুষের মাঝে সেই আবেগটা তৈরি করতে পেরেছেন। তিনি আসলে উত্তরাধিকার সঞ্চয় করেছেন এবং তাঁর মধ্যে সেই নেতৃত্বের বোধ রয়েছে।’

রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল ১০টায় পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে নুরুল হক নুর বলেন, ‘গতকালকে আর্মি স্টেডিয়ামে একটি জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে আমাদের সাবেক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের টোনে কথা বলার ধরন, একটা দরদ দিয়ে, মানুষের প্রতি একটা অধিকারের স্বরে কথা বলার বিষয়টি আমি উপলব্ধি করেছি। আপনারা যারা সিনিয়র লোক আছেন, গতকালের ভাষণ দুটি শুনবেন। জিয়াউর রহমান যেই স্টাইলে কথা বলতেন, গতকাল আমার কাছে মনে হয়েছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মানুষের মাঝে সেই আবেগটা তৈরি করতে পেরেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও রাজনীতির একটি সুন্দর উপস্থাপনা ছিল। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান থেকে শুরু করে আমাদের প্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতিতে আগমন, প্রস্থান এবং মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থনের বিষয়গুলো তিনি সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন। আমার মনে হয়েছে, স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিষয়গুলো গভীরভাবে অনুভব করতে পেরেছেন। তাঁর কথায় জিয়াউর রহমানের ভাষণের সেই অ্যাকসেন্ট ও টোন আমরা দেখতে পেয়েছি।’

জিয়াউর রহমানের শাসনামল ও দেশের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত দেশে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছিল। একপর্যায়ে সেনাবাহিনীর দেশপ্রেমিক সদস্য ও সাধারণ জনগণ সম্মিলিতভাবে জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করেন। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ একটি ষড়যন্ত্র থেকে মুক্ত হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নুরুল হক নুর বলেন, ‘১৯৭৫ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত এই ছয় বছরে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে যে জায়গায় নিয়ে গিয়েছেন, তা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি গ্রামের মাটির রাস্তার দুই পাশে ফলদ গাছ লাগানো, বাড়িতে বাড়িতে হাঁস-মুরগি পালনসহ গ্রামীণ অর্থনীতি ও মানুষের পুষ্টি উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা বলেছিলেন। তখন দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা করুণ ছিল। সবার পক্ষে মাছ, মাংস ও দুধ কেনা সম্ভব ছিল না। বাড়িতে হাঁস-মুরগি পালন এবং রাস্তার পাশে ফলদ গাছ লাগানোর মতো উদ্যোগ মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারত।’

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে বাংলাদেশের কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতিশীলতা আসে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গেও তাঁর সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। এর ফলে বাংলাদেশের মানুষের জন্য কর্মসংস্থান ও সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হয়। জিয়াউর রহমান আরও কয়েক বছর সময় পেলে দেশের উন্নয়নে আরও ভূমিকা রাখতে পারতেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বক্তব্যের শেষাংশে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহবান জানিয়ে নুরুল হক নুর বলেন, ‘আপনারা ১৭ বছর অনেকেই নির্যাতিত ছিলেন, বঞ্চিত ছিলেন। আপনাদের প্রত্যাশা, এখন আমাদের সরকার ক্ষমতায় আছে, কাজেই যারা ক্ষতিগ্রস্ত, নির্যাতিত ও নিপীড়িত হয়েছেন, দল বা সরকার তাদের মূল্যায়ন করবে। কিন্তু বর্তমান সরকারের পলিসি ও নীতিনির্ধারণের বিষয়টি সবাইকে বুঝতে হবে।’

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

বিচারকের বিরুদ্ধে প্রেসব্রিফ : ব্যারিস্টার সারোয়ারকে হাইকোর্টে তলব

জিয়াউর রহমানের কথা বলার স্টাইল ও আবেগ তারেক রহমানের বক্তব্যে ফুটে উঠেছে: প্রতিমন্ত্রী নুর

আপডেট সময় ০৪:২০:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যেভাবে মানুষের সঙ্গে কথা বলতেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্যেও সেই আবেগ ও বলার ধরন খুঁজে পেয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।

তিনি বলেন, ‘গতকাল প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে আমাদের সাবেক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের টোনে কথা বলার ধরন, মানুষের প্রতি একটা দরদ এবং অধিকারের স্বর উপলব্ধি করেছি। আমার কাছে মনে হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী মানুষের মাঝে সেই আবেগটা তৈরি করতে পেরেছেন। তিনি আসলে উত্তরাধিকার সঞ্চয় করেছেন এবং তাঁর মধ্যে সেই নেতৃত্বের বোধ রয়েছে।’

রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল ১০টায় পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে নুরুল হক নুর বলেন, ‘গতকালকে আর্মি স্টেডিয়ামে একটি জাতীয় পর্যায়ের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠে আমাদের সাবেক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের টোনে কথা বলার ধরন, একটা দরদ দিয়ে, মানুষের প্রতি একটা অধিকারের স্বরে কথা বলার বিষয়টি আমি উপলব্ধি করেছি। আপনারা যারা সিনিয়র লোক আছেন, গতকালের ভাষণ দুটি শুনবেন। জিয়াউর রহমান যেই স্টাইলে কথা বলতেন, গতকাল আমার কাছে মনে হয়েছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মানুষের মাঝে সেই আবেগটা তৈরি করতে পেরেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও রাজনীতির একটি সুন্দর উপস্থাপনা ছিল। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান থেকে শুরু করে আমাদের প্রিয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতিতে আগমন, প্রস্থান এবং মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থনের বিষয়গুলো তিনি সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন। আমার মনে হয়েছে, স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিষয়গুলো গভীরভাবে অনুভব করতে পেরেছেন। তাঁর কথায় জিয়াউর রহমানের ভাষণের সেই অ্যাকসেন্ট ও টোন আমরা দেখতে পেয়েছি।’

জিয়াউর রহমানের শাসনামল ও দেশের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত দেশে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছিল। একপর্যায়ে সেনাবাহিনীর দেশপ্রেমিক সদস্য ও সাধারণ জনগণ সম্মিলিতভাবে জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করেন। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ একটি ষড়যন্ত্র থেকে মুক্ত হয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নুরুল হক নুর বলেন, ‘১৯৭৫ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত এই ছয় বছরে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে যে জায়গায় নিয়ে গিয়েছেন, তা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি গ্রামের মাটির রাস্তার দুই পাশে ফলদ গাছ লাগানো, বাড়িতে বাড়িতে হাঁস-মুরগি পালনসহ গ্রামীণ অর্থনীতি ও মানুষের পুষ্টি উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা বলেছিলেন। তখন দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা করুণ ছিল। সবার পক্ষে মাছ, মাংস ও দুধ কেনা সম্ভব ছিল না। বাড়িতে হাঁস-মুরগি পালন এবং রাস্তার পাশে ফলদ গাছ লাগানোর মতো উদ্যোগ মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারত।’

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে বাংলাদেশের কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতিশীলতা আসে। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গেও তাঁর সুসম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। এর ফলে বাংলাদেশের মানুষের জন্য কর্মসংস্থান ও সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হয়। জিয়াউর রহমান আরও কয়েক বছর সময় পেলে দেশের উন্নয়নে আরও ভূমিকা রাখতে পারতেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বক্তব্যের শেষাংশে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহবান জানিয়ে নুরুল হক নুর বলেন, ‘আপনারা ১৭ বছর অনেকেই নির্যাতিত ছিলেন, বঞ্চিত ছিলেন। আপনাদের প্রত্যাশা, এখন আমাদের সরকার ক্ষমতায় আছে, কাজেই যারা ক্ষতিগ্রস্ত, নির্যাতিত ও নিপীড়িত হয়েছেন, দল বা সরকার তাদের মূল্যায়ন করবে। কিন্তু বর্তমান সরকারের পলিসি ও নীতিনির্ধারণের বিষয়টি সবাইকে বুঝতে হবে।’

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ