ঢাকা ১১:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ওরাকলের ৩০০ বিলিয়ন ডলারের ‘এআই বাজি’ কি ডোবাচ্ছে ল্যারি এলিসনকে

টেক জায়ান্ট ওরাকল যখন চলতি বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর তাদের বহুল আলোচিত ‘প্রজেক্ট জুপিটার’ ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ সরবরাহ ইস্যুতে ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ জারি করল, তখন পুরো ওয়াল স্ট্রিটে যেন একটি বড় ধরনের ভূমিকম্প অনুভূত হলো। ফোর্স ম্যাজিউর হলো একটি চুক্তিগত সুরক্ষা, যা কোনো পক্ষকে তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটলে চুক্তির বাধ্যবাধকতা পূরণ থেকে মুক্তি দেয়।

নিউ মেক্সিকোতে ওপেনএআইয়ের জন্য তৈরি হতে যাওয়া এই বিশাল ডেটা সেন্টারের অগ্রগতিতে বাধা পড়ার খবরে সেদিনই শেয়ারবাজারে ওরাকলের শেয়ার পড়ে যায় ৭ দশমিক ৭ শতাংশ। আর মধ্যাহ্নভোজের আগেই ল্যারি এলিসনের ব্যক্তিগত সম্পদ থেকে গায়েব হয়ে যায় প্রায় ৭২০ কোটি ডলার।

এক বছর আগেই যিনি বিশ্বের শীর্ষ ধনী নির্বাচিত হয়েছিলেন, সেই এলিসন বর্তমানে চাপে পড়ে ফোর্বসের ধনী তালিকায় নেমে গেছেন আট নম্বরে। আর শিখর থেকে ওরাকলের শেয়ার মূল্য কমেছে প্রায় ৫৮ শতাংশ, যার আর্থিক মূল্য ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি! এই পরিস্থিতি কি তবে নির্দেশ করছে, ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় চাল চেলে এবার নিজেই ফাঁদে পড়েছেন ল্যারি এলিসন?

হঠাৎ দেখলে মনে হতে পারে, ল্যারি এলিসন বুঝি ওপেনএআইয়ের সঙ্গে মেগা ডিল থেকে সরে আসার পথ খুঁজছেন।

কিন্তু বাস্তবতা হলো—এই চুক্তি থেকে সহজে বের হওয়ার কোনো আইনি পথ ওরাকলের নেই। রয়টার্সের সূত্র অনুসারে, নিউ মেক্সিকোর ডেটা সেন্টারে নির্ধারিত সময়ে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ওরাকলেরই দায়িত্ব।

সমস্যা শুধু একটি ডেটা সেন্টার বা প্রজেক্ট জুপিটারে সীমাবদ্ধ নয়। গত আগস্ট পর্যন্ত ওরাকলের ত্রৈমাসিক ফাইলিং অনুযায়ী, তারা প্রজেক্ট জুপিটারের মতো আরও প্রায় ২৮৮ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের ১৫ থেকে ১৯ বছর মেয়াদি দীর্ঘমেয়াদি ইজারা সই করে রেখেছে।

যা ওরাকলের বাৎসরিক মোট রাজস্বের চার গুণেরও বেশি!

ডেটা সেন্টারগুলো পুরোপুরি হস্তান্তর করার আগ পর্যন্ত এই বিপুল পরিমাণ চুক্তি ওরাকলের মূল ঋণের হিসাব বা ব্যালেন্স শিটে সরাসরি দেখা যায় না। ফলে আড়ালের এই বিশাল দেনা এখন কোম্পানির ঝুলিতে এক বড় বোমার মতো কাজ করছে।

এদিকে, নিউ মেক্সিকো ডেটা সেন্টারে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ আসার কথা ছিল পার্শ্ববর্তী একটি প্রাকৃতিক গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে। কিন্তু সেই বিদ্যুৎকেন্দ্রটির রাষ্ট্রীয় পরিবেশগত অনুমোদন এবং গ্যাস পাইপলাইনের কেন্দ্রীয় অনুমোদন এখনও ঝুলে আছে।

আইটি ও সফটওয়্যার জগতে চার দশক ধরে ওরাকলের পরিচিতি ছিল এক কঠোর ও অনমনীয় চুক্তিকারক হিসেবে।

নিজেদের সফটওয়্যার বা সার্ভার লাইসেন্স ব্যবহারের ক্ষেত্রে ওরাকলের নিয়মই ছিল শেষ কথা—‘ব্যবহার করুন বা না করুন, পুরো বিল শোধ করতেই হবে।’ আইটি সেক্টরে গ্রাহকদের ঠাট্টা করে বলা হতো ‘ওরাকলের জিম্মি’।

কিন্তু আজ সেই একই কৌশলের উল্টো পিঠ দেখছে ওরাকল নিজে। ওরাকলের লম্বা ১৫ থেকে ১৯ বছরের ইজারার বিপরীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদা বদলাচ্ছে প্রতি প্রান্তিকে। ওরাকলের প্রধানতম ক্রেতা ওপেনএআই নিজেই ইতোমধ্যে স্পষ্ট করেছে যে তারা এএমডি, মাইক্রোসফট অ্যাজুরি, অ্যামাজন এডব্লিউএসের মতো ভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিজেদের ক্লাউড চাহিদা ছড়াতে শুরু করেছে।

ফলে ওরাকলের দীর্ঘমেয়াদি ডেটা সেন্টারের বিপরীতে ওপেনএআই যদি হঠাৎ চুক্তি ছোট করে আনে, তবে ওরাকলকে সেই খালি জায়গায় কোটি কোটি ডলারের লোকসান গুণতে হবে।

ওরাকলের এই মেগা প্রজেক্ট গড়ে তোলার জন্য মার্কিন শীর্ষস্থানীয় প্রায় ২০টি ব্যাংক ১৮ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়েছে। কিন্তু বন্ড মার্কেটে ব্যাংকগুলো সেই ঋণ অন্য কোথাও বিক্রি করতে গিয়ে এখন চরম হিমশিম খাচ্ছে।

বর্তমানে ওরাকলের কর্পোরেট বন্ড এবং ক্রেডিট ডিফল্ট সোয়াপের (সিডিএস) চিত্র ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ক্রেডিট মার্কেট ওরাকলের ডিফল্ট বা খেলাপী হওয়ার ঝুঁকি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে উঁচুতে দেখছে। ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি এসঅ্যান্ডপি ওরাকলকে ‘জঙ্ক বন্ড’ শ্রেণি থেকে মাত্র এক ধাপ ওপরে ট্রিপল-বি মাইনাস রেটিংয়ে রেখেছে।

তবে সবচেয়ে বড় বিপদে আছেন ল্যারি এলিসন নিজে। ওরাকলের প্রায় ৩৮ শতাংশ শেয়ারের মালিক এলিসন। তিনি তার নিজস্ব ব্যাংকিং ও ব্যক্তিগত ঋণের জামানত হিসেবে কোম্পানির প্রায় ৪১ কোটি ৩ লাখ শেয়ার বন্ধক রেখেছেন।

অর্থশাস্ত্রের সহজ হিসাবে—ওরাকলের শেয়ার মূল্য এক ডলার কমলে এলিসনের বন্ধকী কোল্যাটেরালের মূল্য সরাসরি ৪১ কোটি ৩০ লাখ ডলার কমে যায়! এর পাশাপাশি তিনি তার ছেলের প্রযোজনা সংস্থার প্যারামাউন্ট-ওয়ার্নার ব্রাদার্স চুক্তির জন্য ব্যক্তিগতভাবে ৪৬.৭ বিলিয়ন ডলারের জামিনদার হয়ে আছেন।

এতো কিছুর মাঝেও আগামী কয়েক সপ্তাহে বেশ কয়েকটি স্পর্শকাতর তারিখ ওরাকল ও এলিসনের ভাগ্য নির্ধারণ করবে। আগামী ২৩ নভেম্বর নিউ মেক্সিকো রাজ্য সরকার প্রজেক্ট জুপিটারের জন্য প্রস্তাবিত বিদ্যুৎকেন্দ্রটির পরিবেশ ছাড়পত্র চূড়ান্ত করবে কি না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে। এরপর গ্যাস পাইপলাইনের ওপর কেন্দ্রীয় সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে ৩ ডিসেম্বর। আর ১৪ ডিসেম্বর ওরাকলের পরবর্তী ত্রৈমাসিক আয়ের রিপোর্ট বা ক্যাশ ফ্লো পরিসংখ্যান প্রকাশ পাবে।

চার দশক ধরে যে কৌশলে প্রতিপক্ষ ও গ্রাহকদের চুক্তির বেড়াজালে আটকে রেখে শত কোটি ডলার আয় করেছেন ল্যারি এলিসন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই উত্তাল জোয়ারে এসে তিনি নিজেই সেই একই চুক্তির বেড়াজালে আটকা পড়েছেন।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

ওরাকলের ৩০০ বিলিয়ন ডলারের ‘এআই বাজি’ কি ডোবাচ্ছে ল্যারি এলিসনকে

আপডেট সময় ১০:২০:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

টেক জায়ান্ট ওরাকল যখন চলতি বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর তাদের বহুল আলোচিত ‘প্রজেক্ট জুপিটার’ ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ সরবরাহ ইস্যুতে ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ জারি করল, তখন পুরো ওয়াল স্ট্রিটে যেন একটি বড় ধরনের ভূমিকম্প অনুভূত হলো। ফোর্স ম্যাজিউর হলো একটি চুক্তিগত সুরক্ষা, যা কোনো পক্ষকে তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটলে চুক্তির বাধ্যবাধকতা পূরণ থেকে মুক্তি দেয়।

নিউ মেক্সিকোতে ওপেনএআইয়ের জন্য তৈরি হতে যাওয়া এই বিশাল ডেটা সেন্টারের অগ্রগতিতে বাধা পড়ার খবরে সেদিনই শেয়ারবাজারে ওরাকলের শেয়ার পড়ে যায় ৭ দশমিক ৭ শতাংশ। আর মধ্যাহ্নভোজের আগেই ল্যারি এলিসনের ব্যক্তিগত সম্পদ থেকে গায়েব হয়ে যায় প্রায় ৭২০ কোটি ডলার।

এক বছর আগেই যিনি বিশ্বের শীর্ষ ধনী নির্বাচিত হয়েছিলেন, সেই এলিসন বর্তমানে চাপে পড়ে ফোর্বসের ধনী তালিকায় নেমে গেছেন আট নম্বরে। আর শিখর থেকে ওরাকলের শেয়ার মূল্য কমেছে প্রায় ৫৮ শতাংশ, যার আর্থিক মূল্য ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি! এই পরিস্থিতি কি তবে নির্দেশ করছে, ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় চাল চেলে এবার নিজেই ফাঁদে পড়েছেন ল্যারি এলিসন?

হঠাৎ দেখলে মনে হতে পারে, ল্যারি এলিসন বুঝি ওপেনএআইয়ের সঙ্গে মেগা ডিল থেকে সরে আসার পথ খুঁজছেন।

কিন্তু বাস্তবতা হলো—এই চুক্তি থেকে সহজে বের হওয়ার কোনো আইনি পথ ওরাকলের নেই। রয়টার্সের সূত্র অনুসারে, নিউ মেক্সিকোর ডেটা সেন্টারে নির্ধারিত সময়ে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ওরাকলেরই দায়িত্ব।

সমস্যা শুধু একটি ডেটা সেন্টার বা প্রজেক্ট জুপিটারে সীমাবদ্ধ নয়। গত আগস্ট পর্যন্ত ওরাকলের ত্রৈমাসিক ফাইলিং অনুযায়ী, তারা প্রজেক্ট জুপিটারের মতো আরও প্রায় ২৮৮ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের ১৫ থেকে ১৯ বছর মেয়াদি দীর্ঘমেয়াদি ইজারা সই করে রেখেছে।

যা ওরাকলের বাৎসরিক মোট রাজস্বের চার গুণেরও বেশি!

ডেটা সেন্টারগুলো পুরোপুরি হস্তান্তর করার আগ পর্যন্ত এই বিপুল পরিমাণ চুক্তি ওরাকলের মূল ঋণের হিসাব বা ব্যালেন্স শিটে সরাসরি দেখা যায় না। ফলে আড়ালের এই বিশাল দেনা এখন কোম্পানির ঝুলিতে এক বড় বোমার মতো কাজ করছে।

এদিকে, নিউ মেক্সিকো ডেটা সেন্টারে প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ আসার কথা ছিল পার্শ্ববর্তী একটি প্রাকৃতিক গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে। কিন্তু সেই বিদ্যুৎকেন্দ্রটির রাষ্ট্রীয় পরিবেশগত অনুমোদন এবং গ্যাস পাইপলাইনের কেন্দ্রীয় অনুমোদন এখনও ঝুলে আছে।

আইটি ও সফটওয়্যার জগতে চার দশক ধরে ওরাকলের পরিচিতি ছিল এক কঠোর ও অনমনীয় চুক্তিকারক হিসেবে।

নিজেদের সফটওয়্যার বা সার্ভার লাইসেন্স ব্যবহারের ক্ষেত্রে ওরাকলের নিয়মই ছিল শেষ কথা—‘ব্যবহার করুন বা না করুন, পুরো বিল শোধ করতেই হবে।’ আইটি সেক্টরে গ্রাহকদের ঠাট্টা করে বলা হতো ‘ওরাকলের জিম্মি’।

কিন্তু আজ সেই একই কৌশলের উল্টো পিঠ দেখছে ওরাকল নিজে। ওরাকলের লম্বা ১৫ থেকে ১৯ বছরের ইজারার বিপরীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর চাহিদা বদলাচ্ছে প্রতি প্রান্তিকে। ওরাকলের প্রধানতম ক্রেতা ওপেনএআই নিজেই ইতোমধ্যে স্পষ্ট করেছে যে তারা এএমডি, মাইক্রোসফট অ্যাজুরি, অ্যামাজন এডব্লিউএসের মতো ভিন্ন প্ল্যাটফর্মে নিজেদের ক্লাউড চাহিদা ছড়াতে শুরু করেছে।

ফলে ওরাকলের দীর্ঘমেয়াদি ডেটা সেন্টারের বিপরীতে ওপেনএআই যদি হঠাৎ চুক্তি ছোট করে আনে, তবে ওরাকলকে সেই খালি জায়গায় কোটি কোটি ডলারের লোকসান গুণতে হবে।

ওরাকলের এই মেগা প্রজেক্ট গড়ে তোলার জন্য মার্কিন শীর্ষস্থানীয় প্রায় ২০টি ব্যাংক ১৮ বিলিয়ন ডলার ঋণ দিয়েছে। কিন্তু বন্ড মার্কেটে ব্যাংকগুলো সেই ঋণ অন্য কোথাও বিক্রি করতে গিয়ে এখন চরম হিমশিম খাচ্ছে।

বর্তমানে ওরাকলের কর্পোরেট বন্ড এবং ক্রেডিট ডিফল্ট সোয়াপের (সিডিএস) চিত্র ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ক্রেডিট মার্কেট ওরাকলের ডিফল্ট বা খেলাপী হওয়ার ঝুঁকি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে উঁচুতে দেখছে। ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি এসঅ্যান্ডপি ওরাকলকে ‘জঙ্ক বন্ড’ শ্রেণি থেকে মাত্র এক ধাপ ওপরে ট্রিপল-বি মাইনাস রেটিংয়ে রেখেছে।

তবে সবচেয়ে বড় বিপদে আছেন ল্যারি এলিসন নিজে। ওরাকলের প্রায় ৩৮ শতাংশ শেয়ারের মালিক এলিসন। তিনি তার নিজস্ব ব্যাংকিং ও ব্যক্তিগত ঋণের জামানত হিসেবে কোম্পানির প্রায় ৪১ কোটি ৩ লাখ শেয়ার বন্ধক রেখেছেন।

অর্থশাস্ত্রের সহজ হিসাবে—ওরাকলের শেয়ার মূল্য এক ডলার কমলে এলিসনের বন্ধকী কোল্যাটেরালের মূল্য সরাসরি ৪১ কোটি ৩০ লাখ ডলার কমে যায়! এর পাশাপাশি তিনি তার ছেলের প্রযোজনা সংস্থার প্যারামাউন্ট-ওয়ার্নার ব্রাদার্স চুক্তির জন্য ব্যক্তিগতভাবে ৪৬.৭ বিলিয়ন ডলারের জামিনদার হয়ে আছেন।

এতো কিছুর মাঝেও আগামী কয়েক সপ্তাহে বেশ কয়েকটি স্পর্শকাতর তারিখ ওরাকল ও এলিসনের ভাগ্য নির্ধারণ করবে। আগামী ২৩ নভেম্বর নিউ মেক্সিকো রাজ্য সরকার প্রজেক্ট জুপিটারের জন্য প্রস্তাবিত বিদ্যুৎকেন্দ্রটির পরিবেশ ছাড়পত্র চূড়ান্ত করবে কি না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে। এরপর গ্যাস পাইপলাইনের ওপর কেন্দ্রীয় সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে ৩ ডিসেম্বর। আর ১৪ ডিসেম্বর ওরাকলের পরবর্তী ত্রৈমাসিক আয়ের রিপোর্ট বা ক্যাশ ফ্লো পরিসংখ্যান প্রকাশ পাবে।

চার দশক ধরে যে কৌশলে প্রতিপক্ষ ও গ্রাহকদের চুক্তির বেড়াজালে আটকে রেখে শত কোটি ডলার আয় করেছেন ল্যারি এলিসন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই উত্তাল জোয়ারে এসে তিনি নিজেই সেই একই চুক্তির বেড়াজালে আটকা পড়েছেন।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ