দীর্ঘদিন ধরে হকারদের দখলে থাকা রাজধানীর মিরপুরের ফুটপাতগুলো অবশেষে দখলমুক্ত করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। সিটি করপোরেশনের উচ্ছেদ অভিযানের ফলে মিরপুরের প্রধান সড়ক ও ফুটপাতগুলোতে ফিরে এসেছে সুশৃঙ্খল পরিবেশ, যার ফলে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি শেষে স্বস্তি নিয়ে হাঁটতে পারছেন সাধারণ পথচারীরা।
মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর, হোপ মার্কেট এলাকা, মিরপুর ১০ থেকে ১৪ নম্বর পর্যন্ত সড়ক, ১০ থেকে ১৩ নম্বর পর্যন্ত সড়ক, বিআরটিএর সামনের সড়ক এবং মিরপুর সুইমিং কমপ্লেক্স এলাকা সড়কের ফুটপাতগুলো দীর্ঘদিন ধরে হকারদের অবৈধ পসরা এবং স্থায়ী-অস্থায়ী দোকানে দখল হয়ে ছিল। এতে সাধারণ মানুষকে মূল সড়ক দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করতে হতো, যা তৈরি করত মারাত্মক যানজট ও পথচারীদের জন্য নিরাপত্তাহীনতা।
সম্প্রতি সিটি করপোরেশন বিশেষ অভিযান চালিয়ে মিরপুর ও সংলগ্ন এলাকার এসব ফুটপাত সম্পূর্ণ দখলমুক্ত করে। অভিযানের পর ফুটপাতে পথচারীদের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
ফুটপাত মুক্ত হওয়ায় উচ্ছ্বাস ও স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা। নিয়মিত যাতায়াতকারী একাধিক পথচারী জানান, আগে হেঁটে যাওয়া অসম্ভব হলেও এখন স্বাচ্ছন্দ্যে ও নিরাপদে চলাচল করা যাচ্ছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে গেছে।
তবে ফুটপাত উচ্ছেদের এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
অতীতেও বিভিন্ন সময় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও কিছুদিন পর পুনরায় ফুটপাত দখলের ঘটনা ঘটেছে। তাই নিয়মিত তদারকি ও পুলিশি টহল জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী।
অন্যদিকে, ফুটপাত থেকে উচ্ছেদ হওয়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ও নির্ধারিত সময় সূচির আওতায় এনে স্থায়ী বা বিকল্প পুনর্বাসনের জোর দাবি জানিয়েছেন হকার প্রতিনিধিরা।
এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর গোল চত্বর এলাকার ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান চালায় ডিএনসিসি। এ সময় হকাররা সিটি করপোরেশনের লোকজন ও পুলিশের ওপর হামলা চালায়।
তারা সিটি করপোরেশনের একটি গাড়িতেও ভাঙচুর করে আগুন দেয় এবং সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশকে ধাওয়া করে।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ























