ঢাকা ০৭:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

হাম ও ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব, ধারণ ক্ষমতার তিনগুণ রোগী হাসপাতালে

পটুয়াখালীর গলাচিপায় হাম ও ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব প্রকট আকার ধারণ করেছে। ধারণক্ষমতার তিনগুণ রোগী ভর্তি করা হয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে।

গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত এক মাসে হামে আক্রান্ত হয়ে ৫৪ জন এবং ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ১০৩ জনকে সেখানে ভর্তি হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. মেজবাহ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের দেওয়া তথ্য মতে, চলতি মাসের ১ তারিখ থেকে ২৩ তারিখ পর্যন্ত গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে হামে আক্রান্ত হয়ে ৫৪ জন এবং ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১০৩ জন ভর্তি হয়। এর মধ্যে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত হাম আক্রান্ত ২১ জন এবং ডেঙ্গু আক্রান্ত ৯ জন ভর্তি রয়েছে।

সূত্র জানায়, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে বর্তমানে হাম ও ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগে সব মিলিয়ে ভর্তি রয়েছে ১৪৮ জন অর্থাৎ প্রায় তিনগুণ রোগী। অতিরিক্ত রোগী ভর্তি থাকায় সাধারণ রোগী ও সংক্রমিত রোগীদের আলাদা কোনো কক্ষ বা শয্যা সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে রোগীরা হাসপাতালের করিডর বা মেঝেতে চিকিৎসাসেবা নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

গলাচিপার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের চরবাংলা গ্রামের সালমা বেগম বলেন, চার দিন আগে আমার মেয়ে সারামনি হামে আক্রান্ত হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করি।

কিন্তু আমার বাচ্চার পাশের শয্যায়ই রয়েছে ডেঙ্গু রোগী। পাশাপাশি দুই রোগী থাকায় মেয়েকে নিয়ে শঙ্কায় আছি।

ওই ইউনিটের সারামনির পাশের শয্যায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন ডাকুয়া ইউনিয়নের বড়চত্রা গ্রামের এবাদুল মিয়া। তিনি বলেন, আমি তিন দিন ধরে হাসপাতালে আছি। কিন্তু আমার চারপাশে হামের রোগী।

এবাদুল বলেন, ‘হাসাপাতালের নার্সদের কাছে কয়েকবার মশারি চেয়েও পাইনি। হামে আক্রান্ত শিশুদের পাশাপাশি থাকতে আমারও খারাপ লাগে। কিন্তু চিকিৎসা তো নিতে হবে।’

এ ব্যাপারে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের এখানে ধারণক্ষমতার তিনগুণ রোগী ভর্তি রয়েছে। প্রতিদিনই এমন অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।

ডা. মেজবাহ আরো বলেন, ‘হাম রোগীদের জন্য আলাদা পাঁচটি শয্যার ব্যবস্থা করেছিলাম। কিন্তু অতিরিক্ত রোগীর চাপে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। তার পরও যতটুকু সম্ভব সেবা অব্যাহত রেখেছি।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

প্রাথমিক শিক্ষকদের এআইভিত্তিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে : ববি হাজ্জাজ

হাম ও ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব, ধারণ ক্ষমতার তিনগুণ রোগী হাসপাতালে

আপডেট সময় ০৫:২৫:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পটুয়াখালীর গলাচিপায় হাম ও ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব প্রকট আকার ধারণ করেছে। ধারণক্ষমতার তিনগুণ রোগী ভর্তি করা হয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে।

গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত এক মাসে হামে আক্রান্ত হয়ে ৫৪ জন এবং ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ১০৩ জনকে সেখানে ভর্তি হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মো. মেজবাহ উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের দেওয়া তথ্য মতে, চলতি মাসের ১ তারিখ থেকে ২৩ তারিখ পর্যন্ত গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে হামে আক্রান্ত হয়ে ৫৪ জন এবং ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১০৩ জন ভর্তি হয়। এর মধ্যে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত হাম আক্রান্ত ২১ জন এবং ডেঙ্গু আক্রান্ত ৯ জন ভর্তি রয়েছে।

সূত্র জানায়, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে বর্তমানে হাম ও ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগে সব মিলিয়ে ভর্তি রয়েছে ১৪৮ জন অর্থাৎ প্রায় তিনগুণ রোগী। অতিরিক্ত রোগী ভর্তি থাকায় সাধারণ রোগী ও সংক্রমিত রোগীদের আলাদা কোনো কক্ষ বা শয্যা সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে রোগীরা হাসপাতালের করিডর বা মেঝেতে চিকিৎসাসেবা নিতে বাধ্য হচ্ছেন।

গলাচিপার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের চরবাংলা গ্রামের সালমা বেগম বলেন, চার দিন আগে আমার মেয়ে সারামনি হামে আক্রান্ত হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করি।

কিন্তু আমার বাচ্চার পাশের শয্যায়ই রয়েছে ডেঙ্গু রোগী। পাশাপাশি দুই রোগী থাকায় মেয়েকে নিয়ে শঙ্কায় আছি।

ওই ইউনিটের সারামনির পাশের শয্যায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন ডাকুয়া ইউনিয়নের বড়চত্রা গ্রামের এবাদুল মিয়া। তিনি বলেন, আমি তিন দিন ধরে হাসপাতালে আছি। কিন্তু আমার চারপাশে হামের রোগী।

এবাদুল বলেন, ‘হাসাপাতালের নার্সদের কাছে কয়েকবার মশারি চেয়েও পাইনি। হামে আক্রান্ত শিশুদের পাশাপাশি থাকতে আমারও খারাপ লাগে। কিন্তু চিকিৎসা তো নিতে হবে।’

এ ব্যাপারে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের এখানে ধারণক্ষমতার তিনগুণ রোগী ভর্তি রয়েছে। প্রতিদিনই এমন অবস্থার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।

ডা. মেজবাহ আরো বলেন, ‘হাম রোগীদের জন্য আলাদা পাঁচটি শয্যার ব্যবস্থা করেছিলাম। কিন্তু অতিরিক্ত রোগীর চাপে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। তার পরও যতটুকু সম্ভব সেবা অব্যাহত রেখেছি।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ