চিকিৎসা বা ব্যবস্থাপনার ভুলে যেন কোনো ডেঙ্গু রোগীর প্রাণ না যায়, সেজন্যই চিকিৎসকদের বিজ্ঞানভিত্তিক প্রশিক্ষণে দক্ষ করে মৃত্যুর হার শূন্যে নামানোর চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে আয়োজিত ‘ট্রেনিং অব ডক্টরস অন ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট অব ডেঙ্গু’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ তথ্য জানান তিনি।
সারা দেশে মানসম্মত ডেঙ্গু চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে একযোগে ৪০টি জেলায় ১ হাজার ৬০০ জন চিকিৎসককে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনায় বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ও চিকিৎসকদের পরিচালনায় জরুরি ভিত্তিতে এ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। অনুষ্ঠানে সারা দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ, সিভিল সার্জন ও তৃণমূল থেকে বিশেষায়িত হাসপাতালের চিকিৎসক প্রতিনিধিরা ভার্চুয়ালি ও সরাসরি যুক্ত হন।
ডেঙ্গু সচেতনতার কনটেন্ট তৈরির আহ্বান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত কোনো মানুষ যাতে চিকিৎসার অভাবে বা ভুল ব্যবস্থাপনায় প্রাণ না হারান, সেজন্যই বিজ্ঞানভিত্তিক এ প্রশিক্ষণ।
ডেঙ্গুর ক্লিনিক্যাল ম্যানেজমেন্ট স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী চিকিৎসকদের দক্ষ করে তোলা হচ্ছে, যা মৃত্যুর হার কমিয়ে বহু প্রাণ রক্ষা করবে।
স্বাস্থ্য খাতের সাফল্য ও চিকিৎসকদের নিরলস সেবার পরিসংখ্যান তুলে ধরে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, এবারের ডেঙ্গু মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৬৩ হাজার ৬২৭ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সীমিত সুযোগ-সুবিধা ও তীব্র রোগীর চাপের মধ্যেও চিকিৎসকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে ইতোমধ্যে ৫৯ হাজার ৮৩ জন রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন প্রায় ৪ হাজার ৩০০ জন।
তিনি উল্লেখ করেন, রোগী বেড়ে গেলেও আক্রান্তদের প্রায় ৯৯ শতাংশ রোগীকে সুস্থ করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিচ্ছেন দেশের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।
ধারণক্ষমতার ৩ গুণ রোগী, সাধারণ রোগীর পাশে ডেঙ্গু আক্রান্তরা আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্যবিদ স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. মুহিত আরও বলেন, শুধু আবেগ বা অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে একটি কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারে না। অতীতের অপরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়ন বা হঠাৎ ঘোষণার পরিবর্তে এখন রোগতাত্ত্বিক তথ্য সংগ্রহ ও বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনার মাধ্যমে চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সমন্বিতভাবে সংকট মোকাবিলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ























