ঢাকা ১০:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ হচ্ছে যেসব স্মার্টফোনে Logo আলেকজান্দ্রিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের দুই দিনব্যাপী কনস্যুলার ক্যাম্প Logo ‘সাত ভাই চম্পা’ সিনেমায় পরা কবরীর সেই শাড়ি ৭ টাকায় কিনেছিলেন নূতন Logo ভেনিসে কঠিন অভিজ্ঞতার পর আবেগঘন পোস্টে যা বললেন বাঁধন Logo বৈঠক শেষে পুতিনের সাঁজোয়া লিমুজিনে চড়লেন মোদি Logo স্বর্ণ জব্দের মামলায় বিমানের কর্মী সোয়েব রিমান্ড শেষে কারাগারে Logo মুসলিমদের থেকে হিন্দুরাই বেশি গরু খায়: অভিনেত্রী ঝিলিক Logo মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) কিশোর থেকে বৃদ্ধ সবার আদর্শ: ডা. শফিকুর রহমান Logo কুমিল্লায় ছিনতাইচক্রের ১০ সদস্য গ্রেপ্তার Logo যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারীর প্রতারণা, ৭৬ মাসের কারাদণ্ড

আজ বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস

আজ ১০ সেপ্টেম্বর, বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস। ২০০৩ সাল থেকে প্রতিবছর এই দিনে বিশ্বব্যাপী আত্মহত্যা প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরির জন্য দিবসটি পালন করা হয়ে থাকে।

আন্তর্জাতিক আত্মহত্যা প্রতিরোধ সংস্থা (IASP), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেন্টাল হেলথ যৌথভাবে এই দিবসটি পালন করে আসছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী, প্রতি ৪০ সেকেন্ডে বিশ্বে একজন মানুষ আত্মহত্যার পথ বেঁছে নিচ্ছেন। প্রতিবছর প্রায় সাত লক্ষাধিক মানুষ আত্মহত্যা করেন এবং এর ৭৫ শতাংশের বেশি ঘটনা ঘটে নিন্ম ও মধ্যম আয়ের দেশে। যারমধ্যে বাংলাদেশে আত্মহত্যা একটি নীরব মহামারি।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ২০২১ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি একটি উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছে। ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে করোনায় মারা গেছেন পাঁচ হাজার দুইজন। অথচ একই সময়ে আত্মহত্যা করে মারা গেছেন প্রায় ১১ হাজার মানুষ। অর্থাৎ করোনার চেয়ে দ্বিগুণ মানুষ আত্মহত্যার মাধ্যমে মারা গেছেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, ২০১৮ সালে ১১ হাজারের বেশি, ২০১৭ সালে ১১ হাজার ৯৫ জন, ২০১৬ সালে ১০ হাজার ৬০০ জন মানুষ আত্মহত্যা করেছেন। এতে গড়ে প্রতিদিন ৩০ জন মানুষ আত্মহত্যায় মারা যাচ্ছেন।

কেন মানুষ এই পথ বেছে নিচ্ছেন : পারিবারিক ও সামাজিক অবক্ষয়, উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা, অর্থনৈতিক দৈন্যতা, চরম হতাশা থেকেই নেতিবাচক চিন্তার জন্ম। এছাড়া মাদকাসক্তি, দাম্পত্য কলহ, যৌন নির্যাতন, প্রেমে ব্যর্থতা, পরীক্ষায় খারাপ ফলাফল, প্রতারণার শিকার হওয়া থেকেও মানুষ এই ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন।

মূলত বিষন্নতা একটি রোগ, মস্তিষ্কের রাসায়নিক পরিবর্তন থেকে এটি হয় এবং সঠিক চিকিৎসায় এটি পুরোপুরি সারানো সম্ভব। তাই আত্মহত্যাকে না বলতে হবে।

এবারের প্রতিপাদ্য : আন্তর্জাতিক আত্মহত্যা প্রতিরোধ সংস্থা (IASP) ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত থিম নির্ধারণ করেছে “Changing the Narrative on Suicide” অর্থাৎ “আত্মহত্যা নিয়ে প্রচলিত ধারণা বদলাই”। এর আগে ২০২১-২০২৩ সালের থিম ছিল “Creating Hope Through Action”- কর্মের মাধ্যমে আশা তৈরি করা।

আমাদের করণীয় :

১. আত্মহত্যা প্রতিরোধযোগ্য। এ নিয়ে কথা বলতে হবে, লুকিয়ে রাখা যাবে না।
২. কেউ হতাশায় ভুগলে তাকে “নাটক করছে” বলে অবহেলা না করে মনোযোগ দিয়ে শুনুন।
৩. পরিবারে সন্তানদের শারীরিক ও মানসিক চাপ মোকাবেলায় ধৈর্য ও সহনশীলতার শিক্ষা দিন।
৪. স্কুল-কলেজে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা ও কাউন্সেলিং চালু করতে হবে।
৫. গণমাধ্যমকে আত্মহত্যার খবর প্রচারে দায়িত্বশীল ও কৌশলী হতে হবে, যাতে এটি অন্যকে প্ররোচিত না করে।

জীবন একটাই। বেঁচে থাকাটাই সবচেয়ে বড় উৎসব। আপনার পাশের মানুষটি চুপচাপ হয়ে গেলে, গুটিয়ে গেলে একবার জিজ্ঞেস করুন- “তুমি কেমন আছো?”

মনে রাখবেন, কথা বললে মুক্তি মেলে । আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ মানসিক কষ্টে থাকলে কথা বলুন। 

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ হচ্ছে যেসব স্মার্টফোনে

আজ বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস

আপডেট সময় ০৭:৫৮:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আজ ১০ সেপ্টেম্বর, বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস। ২০০৩ সাল থেকে প্রতিবছর এই দিনে বিশ্বব্যাপী আত্মহত্যা প্রতিরোধে সচেতনতা তৈরির জন্য দিবসটি পালন করা হয়ে থাকে।

আন্তর্জাতিক আত্মহত্যা প্রতিরোধ সংস্থা (IASP), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন ফর মেন্টাল হেলথ যৌথভাবে এই দিবসটি পালন করে আসছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী, প্রতি ৪০ সেকেন্ডে বিশ্বে একজন মানুষ আত্মহত্যার পথ বেঁছে নিচ্ছেন। প্রতিবছর প্রায় সাত লক্ষাধিক মানুষ আত্মহত্যা করেন এবং এর ৭৫ শতাংশের বেশি ঘটনা ঘটে নিন্ম ও মধ্যম আয়ের দেশে। যারমধ্যে বাংলাদেশে আত্মহত্যা একটি নীরব মহামারি।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ২০২১ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি একটি উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছে। ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে করোনায় মারা গেছেন পাঁচ হাজার দুইজন। অথচ একই সময়ে আত্মহত্যা করে মারা গেছেন প্রায় ১১ হাজার মানুষ। অর্থাৎ করোনার চেয়ে দ্বিগুণ মানুষ আত্মহত্যার মাধ্যমে মারা গেছেন।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, ২০১৮ সালে ১১ হাজারের বেশি, ২০১৭ সালে ১১ হাজার ৯৫ জন, ২০১৬ সালে ১০ হাজার ৬০০ জন মানুষ আত্মহত্যা করেছেন। এতে গড়ে প্রতিদিন ৩০ জন মানুষ আত্মহত্যায় মারা যাচ্ছেন।

কেন মানুষ এই পথ বেছে নিচ্ছেন : পারিবারিক ও সামাজিক অবক্ষয়, উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা, অর্থনৈতিক দৈন্যতা, চরম হতাশা থেকেই নেতিবাচক চিন্তার জন্ম। এছাড়া মাদকাসক্তি, দাম্পত্য কলহ, যৌন নির্যাতন, প্রেমে ব্যর্থতা, পরীক্ষায় খারাপ ফলাফল, প্রতারণার শিকার হওয়া থেকেও মানুষ এই ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন।

মূলত বিষন্নতা একটি রোগ, মস্তিষ্কের রাসায়নিক পরিবর্তন থেকে এটি হয় এবং সঠিক চিকিৎসায় এটি পুরোপুরি সারানো সম্ভব। তাই আত্মহত্যাকে না বলতে হবে।

এবারের প্রতিপাদ্য : আন্তর্জাতিক আত্মহত্যা প্রতিরোধ সংস্থা (IASP) ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত থিম নির্ধারণ করেছে “Changing the Narrative on Suicide” অর্থাৎ “আত্মহত্যা নিয়ে প্রচলিত ধারণা বদলাই”। এর আগে ২০২১-২০২৩ সালের থিম ছিল “Creating Hope Through Action”- কর্মের মাধ্যমে আশা তৈরি করা।

আমাদের করণীয় :

১. আত্মহত্যা প্রতিরোধযোগ্য। এ নিয়ে কথা বলতে হবে, লুকিয়ে রাখা যাবে না।
২. কেউ হতাশায় ভুগলে তাকে “নাটক করছে” বলে অবহেলা না করে মনোযোগ দিয়ে শুনুন।
৩. পরিবারে সন্তানদের শারীরিক ও মানসিক চাপ মোকাবেলায় ধৈর্য ও সহনশীলতার শিক্ষা দিন।
৪. স্কুল-কলেজে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা ও কাউন্সেলিং চালু করতে হবে।
৫. গণমাধ্যমকে আত্মহত্যার খবর প্রচারে দায়িত্বশীল ও কৌশলী হতে হবে, যাতে এটি অন্যকে প্ররোচিত না করে।

জীবন একটাই। বেঁচে থাকাটাই সবচেয়ে বড় উৎসব। আপনার পাশের মানুষটি চুপচাপ হয়ে গেলে, গুটিয়ে গেলে একবার জিজ্ঞেস করুন- “তুমি কেমন আছো?”

মনে রাখবেন, কথা বললে মুক্তি মেলে । আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ মানসিক কষ্টে থাকলে কথা বলুন। 

বাংলা৭১নিউজ/জেএস