ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়রপ্রার্থী ঘোষণা করেছে জনতার দল। ঢাকা উত্তরে দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক ও মুখপাত্র ডেল এইচ খান এবং দক্ষিণে যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক সুহানি শিফাকে প্রার্থী করা হয়েছে।
একই সঙ্গে দেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিভাজন, প্রতিহিংসা ও ঐতিহাসিক বিরোধ নিরসনে জাতীয় সত্য ও পুনর্মিলন কমিশন গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে দলটি।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘জাতীয় ঐক্য, ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রার্থীর নাম প্রকাশ ও গণযোগদান’ অনুষ্ঠানে এসব ঘোষণা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে ডেল এইচ খান মূল প্রবন্ধে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার পথে বিদ্যমান ঐতিহাসিক, রাজনৈতিক, সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিরোধের কারণ অনুসন্ধান এবং সেগুলো সমাধানে সময়সীমাবদ্ধ জাতীয় রোডম্যাপ প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই।
এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, কীভাবে সেই ঐক্য নিশ্চিত করা যায়। এ জন্য প্রথমে সমস্যাগুলোর প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করতে হবে। এরপর রাষ্ট্র, সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগে বাস্তবায়নযোগ্য জাতীয় রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে।
মূল প্রবন্ধে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনার দলীয়করণ, স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে বিতর্ক, জাতীয় সংগীত, সংবিধানের মৌলিক নীতি ও রাষ্ট্রধর্ম, নির্বাচনব্যবস্থা ও নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা, আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচারপ্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির অসম্পূর্ণ বাস্তবায়ন, ভূমি বিরোধ এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অধিকারসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়।
এসব বিরোধ নিষ্পত্তিতে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক জাতীয় সত্য ও পুনর্মিলন কমিশন গঠনের প্রস্তাব দেন তিনি।
ডেল এইচ খান বলেন, কমিশনের কার্যক্রম জাতীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিস্তৃত থাকবে। এ ক্ষেত্রে রুয়ান্ডার গাকাকা আদালতের অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশের আইন ও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ স্থানীয় পর্যায়ে সত্য উদ্ঘাটন এবং আইনত আপসযোগ্য বিরোধ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলা হয়। তবে গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়া ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
জনতার দলের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামীম কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর জাকির, মহাসচিব আজম খান, যুগ্ম মহাসচিব ফুয়াদ সাকী, রাজশাহী বিভাগীয় প্রধান আব্দুর রহমান, খুলনার সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়াসিন আরাফাত মামুন, কৌশল ও পরিকল্পনা কমিটির সম্পাদক এম আর উদ্দিন এবং আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক মিজানুর রহমানসহ অনেকেই।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পেশা, সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের বেশ কয়েকজন ব্যক্তি জনতার দলে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দেন। জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় দলমত-নির্বিশেষে সব রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, পেশাজীবী ও সচেতন নাগরিকদের অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় সংলাপে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ





















