ঢাকা ০২:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo জামায়াতের ওপর বিএনপির লোকেরা আক্রমণ করা শুরু করেছে: আখতারুজ্জামান Logo আশুলিয়ায় ফের শ্রমিকদের বিক্ষোভের চেষ্টা, শতাধিক কারখানায় ছুটি Logo মিরপুরে শ্রমিক বিক্ষোভে গ্রেপ্তার অর্ধশতাধিক, ৩০ জনই কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের নেতাকর্মী: পুলিশ Logo বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আরো কমল Logo এআই যেন দেশে বেকারত্ব বাড়াতে না পারে : রাষ্ট্রপতি Logo জয়পুরহাটে বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে মোটরসাইকেল আরোহী নিহত Logo মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর Logo নাহিদ ইসলামকে আইনি নোটিশ Logo গাজীপুরে কাজে ফিরছেন শ্রমিকরা, কারখানায় কর্মচাঞ্চল্য Logo জামায়াত-এনসিপি হাদীর আওয়ামী ফ্যাসিবাদবিরোধী চেতনা থেকে যোজন যোজন দূরে

এআই যেন দেশে বেকারত্ব বাড়াতে না পারে : রাষ্ট্রপতি

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যেন বাংলাদেশের বেকারত্ব পরিস্থিতিকে আরো কঠিন করে না তোলে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, প্রযুক্তি মানুষের কল্যাণের জন্য তৈরি, মানুষ প্রযুক্তির জন্য নয়।

এ কারণে প্রযুক্তির অগ্রগতি যেন মানুষের দক্ষতা বৃদ্ধি ও মানবিক মূল্যবোধ রক্ষার কাজে লাগে, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) যৌথভাবে দেশের প্রথম এই এআই বিজনেস সামিটের আয়োজন করে।

রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বর্তমান বিশ্বের একটি বড় পরিবর্তনের অনুঘটক।

আগামী এক দশকে বাংলাদেশের কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প ও কর্মসংস্থানসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে এআই গভীর প্রভাব ফেলবে। তাই এই সম্মেলন নিছক কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং দেশের ভবিষ্যতের একটি পথরেখা তৈরির মঞ্চ।

বাংলাদেশে বিপুল তরুণসমাজকে সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, তরুণদের সময়োপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এআই প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে হবে। যেভাবে তৈরি পোশাকশিল্প বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের সুনাম বাড়িয়েছে, ঠিক সেভাবেই ভবিষ্যতে এআই খাতের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশ নতুন পরিচয় পেতে পারে।

তিনি সতর্ক করে দেন যে, নিরাপদ ব্যবহার ও কার্যকর তদারকি না থাকলে এআই মানবসভ্যতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সরকার ইতিমধ্যে মানবাধিকার, নৈতিকতা ও ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের ওপর ভিত্তি করে মানবকেন্দ্রিক ‘জাতীয় এআই নীতিমালা’ প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি বাংলা ভাষাভিত্তিক এআই সক্ষমতা তৈরির উদ্যোগও এতে রয়েছে।

ব্যবসায়ী নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এআইকে শুধু খরচ কমানোর মাধ্যম হিসেবে না দেখে নতুন পণ্য, সেবা এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরির সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ, গবেষক ও তরুণদের যৌথ প্রচেষ্টায় ২০৪১ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য পূরণ সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বক্তব্য শেষে রাষ্ট্রপতি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬’-এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন এবং অংশ নেওয়া গবেষক, উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তিবিদদের অভিনন্দন জানান।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াতের ওপর বিএনপির লোকেরা আক্রমণ করা শুরু করেছে: আখতারুজ্জামান

এআই যেন দেশে বেকারত্ব বাড়াতে না পারে : রাষ্ট্রপতি

আপডেট সময় ০১:২৫:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যেন বাংলাদেশের বেকারত্ব পরিস্থিতিকে আরো কঠিন করে না তোলে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, প্রযুক্তি মানুষের কল্যাণের জন্য তৈরি, মানুষ প্রযুক্তির জন্য নয়।

এ কারণে প্রযুক্তির অগ্রগতি যেন মানুষের দক্ষতা বৃদ্ধি ও মানবিক মূল্যবোধ রক্ষার কাজে লাগে, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) যৌথভাবে দেশের প্রথম এই এআই বিজনেস সামিটের আয়োজন করে।

রাষ্ট্রপতি তার বক্তব্যে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বর্তমান বিশ্বের একটি বড় পরিবর্তনের অনুঘটক।

আগামী এক দশকে বাংলাদেশের কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প ও কর্মসংস্থানসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে এআই গভীর প্রভাব ফেলবে। তাই এই সম্মেলন নিছক কোনো আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং দেশের ভবিষ্যতের একটি পথরেখা তৈরির মঞ্চ।

বাংলাদেশে বিপুল তরুণসমাজকে সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, তরুণদের সময়োপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এআই প্রযুক্তিতে দক্ষ করে তুলতে হবে। যেভাবে তৈরি পোশাকশিল্প বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের সুনাম বাড়িয়েছে, ঠিক সেভাবেই ভবিষ্যতে এআই খাতের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশ নতুন পরিচয় পেতে পারে।

তিনি সতর্ক করে দেন যে, নিরাপদ ব্যবহার ও কার্যকর তদারকি না থাকলে এআই মানবসভ্যতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সরকার ইতিমধ্যে মানবাধিকার, নৈতিকতা ও ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের ওপর ভিত্তি করে মানবকেন্দ্রিক ‘জাতীয় এআই নীতিমালা’ প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি বাংলা ভাষাভিত্তিক এআই সক্ষমতা তৈরির উদ্যোগও এতে রয়েছে।

ব্যবসায়ী নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এআইকে শুধু খরচ কমানোর মাধ্যম হিসেবে না দেখে নতুন পণ্য, সেবা এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরির সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত। সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ, গবেষক ও তরুণদের যৌথ প্রচেষ্টায় ২০৪১ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্য পূরণ সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বক্তব্য শেষে রাষ্ট্রপতি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬’-এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন এবং অংশ নেওয়া গবেষক, উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তিবিদদের অভিনন্দন জানান।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ