বাংলাদেশের চিকিৎসাক্ষেত্রে কোনো দূরদর্শী ব্যক্তিত্বের কথা স্মরণ করলে অধ্যাপক ডা. এম এ হাদীর নাম সর্বাগ্রে উচ্চারিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন নারী ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এমপি।
আজ রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ ডা. মিলন হলে প্রখ্যাত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এম এ হাদীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক আলোচনা ও স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, অধ্যাপক হাদী কেবল চিকিৎসকদের পেশাগত উন্নয়ন ও কল্যাণেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, বরং নার্স ও টেকনোলজিস্টসহ সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থার মানোন্নয়নে যুগান্তকারী অবদান রেখে গেছেন। অধ্যাপক ডা. এম এ হাদী ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক ডা. মোফাখখারুল ইসলাম রানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, এমপি এবং ডা. মাহবুবুর রহমান লিটন, এমপি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী আরও বলেন, দেশটা আমাদের সবার এবং এ দেশের মানুষকে সেবা করার দায়িত্বও আমাদের সকলের। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে রেফার্ডকৃত রোগীদের জন্য বছরের ৩৬৫ দিন ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও চিকিৎসা কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে গতানুগতিক ধারার বাইরে এসে কাজ করার তাগিদ দিয়ে গবেষণা কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি চিকিৎসকদের মৌলিক ও প্রায়োগিক গবেষণায় ব্যাপকভাবে উদ্বুদ্ধ করতে প্রয়োজনীয় প্রণোদনা বৃদ্ধির বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত আলোচক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ প্রয়াত অধ্যাপক ডা. এম এ হাদীর কর্মময় জীবন, কঠোর সময়ানুবর্তিতা, চিকিৎসাসেবায় তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকা, রোগীদের প্রতি গভীর মমত্ববোধ এবং শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষাদানের বিষয়গুলো গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।
উল্লেখ্য, দেশের প্রখ্যাত এই চিকিৎসক ও শিক্ষাবিদ ১৯৪১ সালের ৩১ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৪ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস এবং ১৯৭৩ সালে বিসিপিএস থেকে সার্জারিতে এফসিপিএস ডিগ্রি অর্জন করা এই গুণী ব্যক্তিত্ব পরবর্তীতে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের ডিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে নেতৃত্ব দেন। এছাড়া চিকিৎসাসেবা ও মেডিকেল শিক্ষার প্রসারে অসামান্য ভূমিকা রাখা এই চিকিৎসক নেতা বিসিপিএস, বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল (বিএমআরসি) এবং ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) শীর্ষ পদেও অধিষ্ঠিত ছিলেন এবং ২০০৭ সালের ১৬ অক্টোবর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
আলোচনা অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিএমএ ও ড্যাবের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হক, বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম, বিএনপির পরিবার কল্যাণ বিষয়ক কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সম্পাদক অধ্যাপক ডা. রফিকুল কবীর লাবু এবং প্রধানমন্ত্রীর সহকারী ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির বিটু উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, ড্যাবের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন জাতীয় ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং মরহুমের পরিবারের সদস্যরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বাংলা৭১নিউজ/এসএইচবি























