ঢাকা ০৮:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo পায়রা বন্দর থেকে ৭৫৫ কিমি দূরে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব, কখন ও কোথায় আঘাত হানতে পারে Logo আকামার মেয়াদ শেষ হলেও সৌদি যেতে পারবেন বাংলাদেশিরা Logo আমুসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এ সপ্তাহেই Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একই দিনে দুর্ঘটনায় নিহত ৩ Logo ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্য আইনের শাসনের প্রতি চরম অবজ্ঞার প্রকাশ: টিআইবি Logo সরকারি বাসায় এডিস মশার লার্ভা পেলে বরাদ্দ বাতিল : এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী Logo নিউ গিনি প্রোপার্টিজে ভাঙচুর : জামিন পেলেন জামায়াত এমপির জামাতা মিজানুর Logo খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা : শ্রমিক লীগ নেতা সোহাগ ৩ দিনের রিমান্ডে Logo ‘আপনি আসুন, জনগণ আপনার অপেক্ষায় আছে’: শেখ হাসিনার উদ্দেশে হুইপ দুলু Logo গোলাপির ছোঁয়ায় ‘ঘায়েল’ করলেন জয়া আহসান

দাফন কিংবা দাহ নয়, নিজের মৃতদেহকে জৈবসার করতে চান হলিউড অভিনেত্রী

মৃত্যুর পরও প্রকৃতির মাঝে বেঁচে থাকতে চান হলিউডের স্বর্ণযুগের কিংবদন্তি অভিনেত্রী কিম নোভাক। ৯৩ বছর বয়সে এসে নিজের শেষ ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন তিনি। প্রচলিত দাফন কিংবা দাহ নয়, মৃত্যুর পর নিজের দেহকে জৈব সারে পরিণত করতে চান এই অভিনেত্রী। সেই সার থেকে বেড়ে উঠবে গাছ। আর গাছের মধ্য দিয়েই যেন পৃথিবীতে তার অস্তিত্ব টিকে থাকে, এমনটাই প্রত্যাশা তার।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের এই ব্যতিক্রমী পরিকল্পনার কথা জানান কিম নোভাক। তিনি বলেন, কয়েক বছর আগেই মৃত্যুর পর দেহ জৈব সারে রূপান্তরের যাবতীয় ব্যবস্থা করে রেখেছেন।

এমন সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করে অভিনেত্রী বলেন, ‘ভাবনাটা হলো, আমি চলে যাওয়ার পরও গাছের মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকতে পারব। বিষয়টি আমার কাছে রোমাঞ্চকর এক অভিযানের মতো। মৃত্যুর পর আমি এটাই চাই। আমি বেঁচে থাকতে চাই।’

কিম নোভাক জানান, জীবনের দীর্ঘ সময় ধরে ধৈর্যের অভাব অনুভব করেছেন তিনি। অথচ প্রকৃতির গাছপালা ধীরস্থিরভাবে বেড়ে ওঠে। তাই মৃত্যুর পর গাছের মাধ্যমে নিজের অস্তিত্বকে নতুনভাবে উপলব্ধি করার ভাবনাটি তাকে প্রশান্তি দেয়।

অভিনেত্রীর ভাষায়, ‘ধৈর্যের অভাবে ভুগতাম। এদিকে গাছের ধৈর্য আছে। তাই নিজেকে উপলব্ধি করার এটাই সুযোগ। গাছের মধ্য দিয়ে আমি নিজেকে প্রকাশ করে যেতে পারব, জীবনের নানা রূপেরও সাক্ষী হতে পারব। আমার কাছে এই ভাবনাটা খুবই দারুণ লাগে; ভাবতেই মনে আলাদা একটা প্রশান্তি দেয়।’

নিজের এই ইচ্ছা অনেকের কাছে অস্বাভাবিক মনে হতে পারে, সেটিও জানেন নোভাক। তবে তার কাছে বিষয়টি প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যাওয়ার এক সুন্দর উপায়।

তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মাটির সঙ্গে এক হয়ে যাওয়ার ধারণাটিই খুব সুন্দর। কম্পোস্ট হয়ে থাকলে গাছপালা আরও ভালোভাবে বেড়ে ওঠে। এটি প্রাকৃতিক, বাস্তব, অকৃত্রিম ও বিশুদ্ধ।’

ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ‘আর্থ ফিউনারেল’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ বিষয়ে ব্যবস্থা করেছেন অভিনেত্রী। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, মৃত্যুর পর দেহ সংরক্ষণ করে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় জৈব সারে রূপান্তর করা হবে।

নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদেরও জানিয়েছেন কিম নোভাক। মৃত্যুর পর তার দেহ থেকে তৈরি জৈব সার ব্যবহার করে প্রত্যেককে একটি করে গাছ কিংবা ঝোপজাতীয় উদ্ভিদ লাগানোর অনুরোধ করেছেন তিনি। তবে গাছ লাগানোই তার বেশি পছন্দ।

এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি তাদের প্রত্যেককে একটি গাছ বা ঝোপজাতীয় উদ্ভিদ লাগাতে বলেছি। তবে গাছ লাগানোই আমার বেশি পছন্দ। কারণ, আমি আরও বেড়ে উঠতে চাই। আমার কাছে আসল বিষয়টাই হলো, বেড়ে চলা। আমি চাই, আমার বেড়ে ওঠা যেন থেমে না যায়। মৃত্যুর পরও জীবন এগিয়ে চলার এটি একটি সুন্দর প্রকাশ।’

হলিউডের স্বর্ণযুগের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী কিম নোভাক ১৯৫৮ থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত বক্স অফিসের শীর্ষ তারকাদের একজন ছিলেন। তবে খ্যাতির শীর্ষে থাকা অবস্থাতেই ১৯৬৬ সালে চলচ্চিত্রজগৎ থেকে সরে গিয়ে ব্যক্তিগত জীবনকে প্রাধান্য দেন তিনি।

এরপর প্রকৃতির কাছাকাছি নিরিবিলি জীবনযাপন ও ছবি আঁকার মাধ্যমে নিজের সৃজনশীলতা প্রকাশ করতে থাকেন এই অভিনেত্রী। চলচ্চিত্রের পরিচয়ের বাইরেও নিজের একটি স্বতন্ত্র অস্তিত্ব রেখে যেতে চান তিনি।

আর সেই ভাবনা থেকেই মৃত্যুর পরও প্রকৃতির অংশ হয়ে নতুন জীবনের বিকাশে অবদান রাখার পরিকল্পনা করেছেন কিম নোভাক।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পায়রা বন্দর থেকে ৭৫৫ কিমি দূরে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব, কখন ও কোথায় আঘাত হানতে পারে

দাফন কিংবা দাহ নয়, নিজের মৃতদেহকে জৈবসার করতে চান হলিউড অভিনেত্রী

আপডেট সময় ০৬:৪২:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

মৃত্যুর পরও প্রকৃতির মাঝে বেঁচে থাকতে চান হলিউডের স্বর্ণযুগের কিংবদন্তি অভিনেত্রী কিম নোভাক। ৯৩ বছর বয়সে এসে নিজের শেষ ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন তিনি। প্রচলিত দাফন কিংবা দাহ নয়, মৃত্যুর পর নিজের দেহকে জৈব সারে পরিণত করতে চান এই অভিনেত্রী। সেই সার থেকে বেড়ে উঠবে গাছ। আর গাছের মধ্য দিয়েই যেন পৃথিবীতে তার অস্তিত্ব টিকে থাকে, এমনটাই প্রত্যাশা তার।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের এই ব্যতিক্রমী পরিকল্পনার কথা জানান কিম নোভাক। তিনি বলেন, কয়েক বছর আগেই মৃত্যুর পর দেহ জৈব সারে রূপান্তরের যাবতীয় ব্যবস্থা করে রেখেছেন।

এমন সিদ্ধান্তের কারণ ব্যাখ্যা করে অভিনেত্রী বলেন, ‘ভাবনাটা হলো, আমি চলে যাওয়ার পরও গাছের মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকতে পারব। বিষয়টি আমার কাছে রোমাঞ্চকর এক অভিযানের মতো। মৃত্যুর পর আমি এটাই চাই। আমি বেঁচে থাকতে চাই।’

কিম নোভাক জানান, জীবনের দীর্ঘ সময় ধরে ধৈর্যের অভাব অনুভব করেছেন তিনি। অথচ প্রকৃতির গাছপালা ধীরস্থিরভাবে বেড়ে ওঠে। তাই মৃত্যুর পর গাছের মাধ্যমে নিজের অস্তিত্বকে নতুনভাবে উপলব্ধি করার ভাবনাটি তাকে প্রশান্তি দেয়।

অভিনেত্রীর ভাষায়, ‘ধৈর্যের অভাবে ভুগতাম। এদিকে গাছের ধৈর্য আছে। তাই নিজেকে উপলব্ধি করার এটাই সুযোগ। গাছের মধ্য দিয়ে আমি নিজেকে প্রকাশ করে যেতে পারব, জীবনের নানা রূপেরও সাক্ষী হতে পারব। আমার কাছে এই ভাবনাটা খুবই দারুণ লাগে; ভাবতেই মনে আলাদা একটা প্রশান্তি দেয়।’

নিজের এই ইচ্ছা অনেকের কাছে অস্বাভাবিক মনে হতে পারে, সেটিও জানেন নোভাক। তবে তার কাছে বিষয়টি প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যাওয়ার এক সুন্দর উপায়।

তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মাটির সঙ্গে এক হয়ে যাওয়ার ধারণাটিই খুব সুন্দর। কম্পোস্ট হয়ে থাকলে গাছপালা আরও ভালোভাবে বেড়ে ওঠে। এটি প্রাকৃতিক, বাস্তব, অকৃত্রিম ও বিশুদ্ধ।’

ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ‘আর্থ ফিউনারেল’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ বিষয়ে ব্যবস্থা করেছেন অভিনেত্রী। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী, মৃত্যুর পর দেহ সংরক্ষণ করে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় জৈব সারে রূপান্তর করা হবে।

নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদেরও জানিয়েছেন কিম নোভাক। মৃত্যুর পর তার দেহ থেকে তৈরি জৈব সার ব্যবহার করে প্রত্যেককে একটি করে গাছ কিংবা ঝোপজাতীয় উদ্ভিদ লাগানোর অনুরোধ করেছেন তিনি। তবে গাছ লাগানোই তার বেশি পছন্দ।

এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি তাদের প্রত্যেককে একটি গাছ বা ঝোপজাতীয় উদ্ভিদ লাগাতে বলেছি। তবে গাছ লাগানোই আমার বেশি পছন্দ। কারণ, আমি আরও বেড়ে উঠতে চাই। আমার কাছে আসল বিষয়টাই হলো, বেড়ে চলা। আমি চাই, আমার বেড়ে ওঠা যেন থেমে না যায়। মৃত্যুর পরও জীবন এগিয়ে চলার এটি একটি সুন্দর প্রকাশ।’

হলিউডের স্বর্ণযুগের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী কিম নোভাক ১৯৫৮ থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত বক্স অফিসের শীর্ষ তারকাদের একজন ছিলেন। তবে খ্যাতির শীর্ষে থাকা অবস্থাতেই ১৯৬৬ সালে চলচ্চিত্রজগৎ থেকে সরে গিয়ে ব্যক্তিগত জীবনকে প্রাধান্য দেন তিনি।

এরপর প্রকৃতির কাছাকাছি নিরিবিলি জীবনযাপন ও ছবি আঁকার মাধ্যমে নিজের সৃজনশীলতা প্রকাশ করতে থাকেন এই অভিনেত্রী। চলচ্চিত্রের পরিচয়ের বাইরেও নিজের একটি স্বতন্ত্র অস্তিত্ব রেখে যেতে চান তিনি।

আর সেই ভাবনা থেকেই মৃত্যুর পরও প্রকৃতির অংশ হয়ে নতুন জীবনের বিকাশে অবদান রাখার পরিকল্পনা করেছেন কিম নোভাক।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ