ঢাকা ১২:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রথম বার প্যারিস থেকে লন্ডনে

ব্যালন ডি’অরের সাতকাহন

ফুটবলের ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট কার মাথায় উঠবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমর্থকদের আগ্রহের শেষ নেই। লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, হ্যারি কেইন, লামিনে ইয়ামালদের মতো তারকাদের ঘিরে সেই আলোচনা আরও জমজমাট। তবে ব্যালন ডি’অর শুধু কে সেরা খেলোয়াড়, তা নির্ধারণের পুরস্কার নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সাত দশকের ইতিহাস, ব্যক্তিগত কীর্তি, দেশের গৌরব আর ফুটবলের বহু স্মরণীয় অধ্যায়। এবার সেই ঐতিহ্যের আয়োজনে যুক্ত হচ্ছে নতুনত্ব। প্রথমবারের মতো প্যারিসের বাইরে, ইংল্যান্ডের লন্ডনে বসছে ব্যালন ডি’অরের মঞ্চ।

প্যারিস থেকে লন্ডনে কেন?

১৯৫৬ সালে ফ্রান্স ফুটবল সাময়িকীর হাত ধরে যাত্রা শুরু ব্যালন ডি’অরের। দীর্ঘদিন ধরে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত হয়ে আসা এই আয়োজন প্যারিসের থিয়েটার দু শাতলেকে নিয়মিত বসেছে। এবার ঐতিহ্যে পরিবর্তন এনে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হচ্ছে লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে। উয়েফার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যালন ডি’অরের প্রথম বিজয়ী ইংল্যান্ডের স্ট্যানলি ম্যাথিউসের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই লন্ডনকে বেছে নেওয়া হয়েছে।

২০২৬ সালের এই আসর পুরস্কারটির ৭০তম আয়োজন হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত ২টায় অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা। ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত ব্যক্তিগত পুরস্কারগুলোর একটি ঘিরে তাই অপেক্ষা শুধু বিজয়ীর নাম জানার নয়, নতুন ভেন্যুতে ঐতিহ্যবাহী আয়োজনটি কেমন হয়, সেটিও দেখার।

কীভাবে নির্ধারিত হয় ব্যালন ডি’অর বিজয়ী?

ব্যালন ডি’অরের বিজয়ী নির্বাচন করা হয় ভোটের মাধ্যমে। পুরুষদের পুরস্কারের জন্য ফ্রান্স ফুটবল ও সাংবাদিকরা প্রথমে ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করেন। এরপর নির্ধারিত দেশগুলোর সাংবাদিকদের তালিকাভুক্ত খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স বিবেচনায় তাদের পছন্দের ক্রমে সাজিয়ে ভোট দেন। সব ভোট গণনার পর নির্ধারিত হয় বিজয়ী।

ভোটের ক্ষেত্রে তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রথমত, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স এবং ম্যাচের ফল নির্ধারণে খেলোয়াড়ের ভূমিকা ও প্রভাব। দ্বিতীয়ত, দলীয় সাফল্য ও শিরোপা। তৃতীয়ত, খেলোয়াড়ের সামর্থ্য, নৈপুণ্য ও খেলোয়াড়সুলভ আচরণ। অর্থাৎ শুধু গোল কিংবা অ্যাসিস্ট নয়, দলের সাফল্যে অবদান ও মাঠের আচরণও বিবেচনায় থাকে।

পুরুষদের পুরস্কারে কারা আলোচনায়?

২০২৬ সালের পুরুষদের ব্যালন ডি’অরের ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় আছেন ইউরোপ ও বিশ্বের বিভিন্ন ক্লাবের তারকারা। আলোচনায় রয়েছেন লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, হ্যারি কেইন, আর্লিং হাল্যান্ড, লামিনে ইয়ামাল, রদ্রি, উসমান দেম্বেলে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, জুড বেলিংহাম ও লাউতারো মার্তিনেজের মতো খেলোয়াড়েরা। তবে শেষ পর্যন্ত কে পুরস্কার জিতবেন, তা নির্ধারণ করবে ভোটের ফল।

৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা

জুড বেলিংহাম (রিয়াল মাদ্রিদ/ইংল্যান্ড), পাউ কুবারসি (বার্সেলোনা/স্পেন), মার্ক কুকুরেয়া (রিয়াল মাদ্রিদ/স্পেন), উসমান দেম্বেলে (প্যারিস সেন্ট জার্মেই/ফ্রান্স), লুইস দিয়াজ (বায়ার্ন মিউনিখ/কলম্বিয়া), ব্রুনো ফার্নান্দেজ (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড/পর্তুগাল), গ্যাব্রিয়েল (আর্সেনাল/ব্রাজিল), আর্লিং হাল্যান্ড (ম্যানচেস্টার সিটি/নরওয়ে), আশরাফ হাকিমি (প্যারিস সেন্ট জার্মেই/মরক্কো), হ্যারি কেইন (বায়ার্ন মিউনিখ/ইংল্যান্ড), খিচা কাভারাস্কেইয়া (প্যারিস সেন্ট জার্মেই/জর্জিয়া), লামিনে ইয়ামাল (বার্সেলোনা/স্পেন), সাদিও মানে (আল নাসর/সেনেগাল), মারকিনিয়োস (প্যারিস সেন্ট জার্মেই/ব্রাজিল), লাউতারো মার্তিনেজ (ইন্টার মিলান/আর্জেন্টিনা), কিলিয়ান এমবাপ্পে (রিয়াল মাদ্রিদ/ফ্রান্স), নুনো মেন্দেস (প্যারিস সেন্ট জার্মেই/পর্তুগাল), লিওনেল মেসি (ইন্টার মায়ামি/আর্জেন্টিনা), জোয়াও নেভেস (প্যারিস সেন্ট জার্মেই/পর্তুগাল), মাইকেল ওলিসে (বায়ার্ন মিউনিখ/ফ্রান্স), উইলিয়ান পাচো (প্যারিস সেন্ট জার্মেই/ইকুয়েডর), হুলিয়ান কুইনোনেস (আল কাদসিয়াহ/মেক্সিকো), ডেকলান রাইস (আর্সেনাল/ইংল্যান্ড), রদ্রি (বার্সেলোনা/স্পেন), ফাবিয়ান রুইজ (প্যারিস সেন্ট জার্মেই/স্পেন), উইলিয়াম সালিবা (আর্সেনাল/ফ্রান্স), ফেরান তোরেস (প্যারিস সেন্ট জার্মেই/স্পেন), দায়ো উপামেকানো (বায়ার্ন মিউনিখ/ফ্রান্স), ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (রিয়াল মাদ্রিদ/ব্রাজিল) ও ভিতিনহা (প্যারিস সেন্ট জার্মেই/পর্তুগাল)।

ব্যালন ডি’অরের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দেশ কারা?

ব্যালন ডি’অরের ইতিহাসে দেশভিত্তিক সাফল্যের হিসাবে আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স যৌথভাবে শীর্ষে। দুই দেশের সংগ্রহেই আটটি করে পুরস্কার। তবে দুই দেশের সাফল্যের গল্প আলাদা। আর্জেন্টিনার আটটি পুরস্কারই জিতেছেন লিওনেল মেসি। ২০০৯, ২০১০, ২০১১, ২০১২, ২০১৫, ২০১৯, ২০২১ ও ২০২৩ সালে পুরস্কার জিতে এককভাবেই এই নজির গড়েন তিনি।

ফ্রান্সের আটটি পুরস্কার এসেছে ছয়জন খেলোয়াড়ের হাত ধরে। রেমন্ড কোপা জিতেছেন ১৯৫৮ সালে, মিশেল প্লাতিনি ১৯৮৩, ১৯৮৪ ও ১৯৮৫ সালে, জ্যঁ-পিয়ের পাপাঁ ১৯৯১ সালে, জিনেদিন জিদান ১৯৯৮ সালে, করিম বেনজেমা ২০২২ সালে এবং উসমান দেম্বেলে ২০২৫ সালে।

এরপরই রয়েছে পর্তুগাল, জার্মানি ও নেদারল্যান্ড। তিন দেশেরই সংগ্রহ সাতটি করে। পর্তুগালের হয়ে ইউসেবিও ১৯৬৫ সালে, লুইস ফিগো ২০০০ সালে এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ২০০৮, ২০১৩, ২০১৪, ২০১৬ ও ২০১৭ সালে পুরস্কার জিতেছেন।

জার্মানির হয়ে গার্ড মুলার ১৯৭০ সালে, ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার ১৯৭২ ও ১৯৭৬ সালে, কার্ল-হেইঞ্জ রুমেনিগে ১৯৮০ ও ১৯৮১ সালে, লোথার ম্যাথাউস ১৯৯০ সালে এবং ম্যাথিয়াস সামার ১৯৯৬ সালে ব্যালন ডি’অর জেতেন। নেদারল্যান্ডসের হয়ে ইয়োহান ক্রুইফ ১৯৭১, ১৯৭৩ ও ১৯৭৪ সালে, রুড গুলিট ১৯৮৭ সালে এবং মার্কো ফন বাস্তেন ১৯৮৮, ১৯৮৯ ও ১৯৯২ সালে এই সম্মান পান।

ব্রাজিল, ইংল্যান্ড ও ইতালি তিন দেশেরই সংগ্রহ পাঁচটি করে ব্যালন ডি’অর। ব্রাজিলের হয়ে রোনালদো নাজারিও ১৯৯৭ ও ২০০২ সালে, রিভালদো ১৯৯৯ সালে, রোনালদিনহো ২০০৫ সালে এবং কাকা ২০০৭ সালে পুরস্কার জিতেছেন।

ইংল্যান্ডের প্রথম ব্যালন ডি’অরজয়ী স্ট্যানলি ম্যাথিউস ১৯৫৬ সালে এই পুরস্কার পান। এরপর ববি চার্লটন ১৯৬৬ সালে, কেভিন কিগ্যান ১৯৭৮ ও ১৯৭৯ সালে এবং মাইকেল ওয়েন ২০০১ সালে পুরস্কার জেতেন।

ইতালির হয়ে ওমর সিভোরি ১৯৬১ সালে, জিয়ান্নি রিভেরা ১৯৬৯ সালে, পাওলো রসি ১৯৮২ সালে, রবার্তো বাজ্জিও ১৯৯৩ সালে এবং ফাবিও কানাভারো ২০০৬ সালে ব্যালন ডি’অর জিতেছেন।

স্পেনের ঝুলিতে রয়েছে চারটি ব্যালন ডি’অর। আলফ্রেদো দি স্তেফানো ১৯৫৭ ও ১৯৫৯ সালে এবং লুইস সুয়ারেজ ১৯৬০ সালে পুরস্কার জেতেন। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৪ সালে রদ্রি স্পেনের হয়ে এই পুরস্কার জিতে তালিকায় নতুন সংযোজন হন।

বছর ঘুরে আবারও দরজায় কড়া নাড়ছে সেই প্রশ্ন। ফুটবল বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়ের মুকুট উঠবে কার মাথায়? ব্যক্তিগত নৈপুণ্য, দলীয় সাফল্য আর মাঠের পারফরম্যান্সের হিসাব-নিকাশ শেষে কে হবেন এবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী, সেই উত্তর মিলবে ২৬ অক্টোবর রাতে। প্যারিসের গণ্ডি পেরিয়ে এবার ডেভিড বেকহ্যামের দেশ ইংল্যান্ডের লন্ডনে বসছে সোনালি বলের জমকালো আসর। তারকাদের ভিড়ে শেষ হাসি কে হাসবেন, তা জানতে অপেক্ষা এখন শুধু সেই মাহেন্দ্রক্ষণের।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রথম বার প্যারিস থেকে লন্ডনে

ব্যালন ডি’অরের সাতকাহন

আপডেট সময় ১০:৫০:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

ফুটবলের ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট কার মাথায় উঠবে, তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে সমর্থকদের আগ্রহের শেষ নেই। লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, হ্যারি কেইন, লামিনে ইয়ামালদের মতো তারকাদের ঘিরে সেই আলোচনা আরও জমজমাট। তবে ব্যালন ডি’অর শুধু কে সেরা খেলোয়াড়, তা নির্ধারণের পুরস্কার নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে সাত দশকের ইতিহাস, ব্যক্তিগত কীর্তি, দেশের গৌরব আর ফুটবলের বহু স্মরণীয় অধ্যায়। এবার সেই ঐতিহ্যের আয়োজনে যুক্ত হচ্ছে নতুনত্ব। প্রথমবারের মতো প্যারিসের বাইরে, ইংল্যান্ডের লন্ডনে বসছে ব্যালন ডি’অরের মঞ্চ।

প্যারিস থেকে লন্ডনে কেন?

১৯৫৬ সালে ফ্রান্স ফুটবল সাময়িকীর হাত ধরে যাত্রা শুরু ব্যালন ডি’অরের। দীর্ঘদিন ধরে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত হয়ে আসা এই আয়োজন প্যারিসের থিয়েটার দু শাতলেকে নিয়মিত বসেছে। এবার ঐতিহ্যে পরিবর্তন এনে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হচ্ছে লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে। উয়েফার ভাষ্য অনুযায়ী, ব্যালন ডি’অরের প্রথম বিজয়ী ইংল্যান্ডের স্ট্যানলি ম্যাথিউসের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই লন্ডনকে বেছে নেওয়া হয়েছে।

২০২৬ সালের এই আসর পুরস্কারটির ৭০তম আয়োজন হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত ২টায় অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা। ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত ব্যক্তিগত পুরস্কারগুলোর একটি ঘিরে তাই অপেক্ষা শুধু বিজয়ীর নাম জানার নয়, নতুন ভেন্যুতে ঐতিহ্যবাহী আয়োজনটি কেমন হয়, সেটিও দেখার।

কীভাবে নির্ধারিত হয় ব্যালন ডি’অর বিজয়ী?

ব্যালন ডি’অরের বিজয়ী নির্বাচন করা হয় ভোটের মাধ্যমে। পুরুষদের পুরস্কারের জন্য ফ্রান্স ফুটবল ও সাংবাদিকরা প্রথমে ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করেন। এরপর নির্ধারিত দেশগুলোর সাংবাদিকদের তালিকাভুক্ত খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স বিবেচনায় তাদের পছন্দের ক্রমে সাজিয়ে ভোট দেন। সব ভোট গণনার পর নির্ধারিত হয় বিজয়ী।

ভোটের ক্ষেত্রে তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রথমত, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স এবং ম্যাচের ফল নির্ধারণে খেলোয়াড়ের ভূমিকা ও প্রভাব। দ্বিতীয়ত, দলীয় সাফল্য ও শিরোপা। তৃতীয়ত, খেলোয়াড়ের সামর্থ্য, নৈপুণ্য ও খেলোয়াড়সুলভ আচরণ। অর্থাৎ শুধু গোল কিংবা অ্যাসিস্ট নয়, দলের সাফল্যে অবদান ও মাঠের আচরণও বিবেচনায় থাকে।

পুরুষদের পুরস্কারে কারা আলোচনায়?

২০২৬ সালের পুরুষদের ব্যালন ডি’অরের ৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকায় আছেন ইউরোপ ও বিশ্বের বিভিন্ন ক্লাবের তারকারা। আলোচনায় রয়েছেন লিওনেল মেসি, কিলিয়ান এমবাপ্পে, হ্যারি কেইন, আর্লিং হাল্যান্ড, লামিনে ইয়ামাল, রদ্রি, উসমান দেম্বেলে, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, জুড বেলিংহাম ও লাউতারো মার্তিনেজের মতো খেলোয়াড়েরা। তবে শেষ পর্যন্ত কে পুরস্কার জিতবেন, তা নির্ধারণ করবে ভোটের ফল।

৩০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা

জুড বেলিংহাম (রিয়াল মাদ্রিদ/ইংল্যান্ড), পাউ কুবারসি (বার্সেলোনা/স্পেন), মার্ক কুকুরেয়া (রিয়াল মাদ্রিদ/স্পেন), উসমান দেম্বেলে (প্যারিস সেন্ট জার্মেই/ফ্রান্স), লুইস দিয়াজ (বায়ার্ন মিউনিখ/কলম্বিয়া), ব্রুনো ফার্নান্দেজ (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড/পর্তুগাল), গ্যাব্রিয়েল (আর্সেনাল/ব্রাজিল), আর্লিং হাল্যান্ড (ম্যানচেস্টার সিটি/নরওয়ে), আশরাফ হাকিমি (প্যারিস সেন্ট জার্মেই/মরক্কো), হ্যারি কেইন (বায়ার্ন মিউনিখ/ইংল্যান্ড), খিচা কাভারাস্কেইয়া (প্যারিস সেন্ট জার্মেই/জর্জিয়া), লামিনে ইয়ামাল (বার্সেলোনা/স্পেন), সাদিও মানে (আল নাসর/সেনেগাল), মারকিনিয়োস (প্যারিস সেন্ট জার্মেই/ব্রাজিল), লাউতারো মার্তিনেজ (ইন্টার মিলান/আর্জেন্টিনা), কিলিয়ান এমবাপ্পে (রিয়াল মাদ্রিদ/ফ্রান্স), নুনো মেন্দেস (প্যারিস সেন্ট জার্মেই/পর্তুগাল), লিওনেল মেসি (ইন্টার মায়ামি/আর্জেন্টিনা), জোয়াও নেভেস (প্যারিস সেন্ট জার্মেই/পর্তুগাল), মাইকেল ওলিসে (বায়ার্ন মিউনিখ/ফ্রান্স), উইলিয়ান পাচো (প্যারিস সেন্ট জার্মেই/ইকুয়েডর), হুলিয়ান কুইনোনেস (আল কাদসিয়াহ/মেক্সিকো), ডেকলান রাইস (আর্সেনাল/ইংল্যান্ড), রদ্রি (বার্সেলোনা/স্পেন), ফাবিয়ান রুইজ (প্যারিস সেন্ট জার্মেই/স্পেন), উইলিয়াম সালিবা (আর্সেনাল/ফ্রান্স), ফেরান তোরেস (প্যারিস সেন্ট জার্মেই/স্পেন), দায়ো উপামেকানো (বায়ার্ন মিউনিখ/ফ্রান্স), ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (রিয়াল মাদ্রিদ/ব্রাজিল) ও ভিতিনহা (প্যারিস সেন্ট জার্মেই/পর্তুগাল)।

ব্যালন ডি’অরের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দেশ কারা?

ব্যালন ডি’অরের ইতিহাসে দেশভিত্তিক সাফল্যের হিসাবে আর্জেন্টিনা ও ফ্রান্স যৌথভাবে শীর্ষে। দুই দেশের সংগ্রহেই আটটি করে পুরস্কার। তবে দুই দেশের সাফল্যের গল্প আলাদা। আর্জেন্টিনার আটটি পুরস্কারই জিতেছেন লিওনেল মেসি। ২০০৯, ২০১০, ২০১১, ২০১২, ২০১৫, ২০১৯, ২০২১ ও ২০২৩ সালে পুরস্কার জিতে এককভাবেই এই নজির গড়েন তিনি।

ফ্রান্সের আটটি পুরস্কার এসেছে ছয়জন খেলোয়াড়ের হাত ধরে। রেমন্ড কোপা জিতেছেন ১৯৫৮ সালে, মিশেল প্লাতিনি ১৯৮৩, ১৯৮৪ ও ১৯৮৫ সালে, জ্যঁ-পিয়ের পাপাঁ ১৯৯১ সালে, জিনেদিন জিদান ১৯৯৮ সালে, করিম বেনজেমা ২০২২ সালে এবং উসমান দেম্বেলে ২০২৫ সালে।

এরপরই রয়েছে পর্তুগাল, জার্মানি ও নেদারল্যান্ড। তিন দেশেরই সংগ্রহ সাতটি করে। পর্তুগালের হয়ে ইউসেবিও ১৯৬৫ সালে, লুইস ফিগো ২০০০ সালে এবং ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ২০০৮, ২০১৩, ২০১৪, ২০১৬ ও ২০১৭ সালে পুরস্কার জিতেছেন।

জার্মানির হয়ে গার্ড মুলার ১৯৭০ সালে, ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার ১৯৭২ ও ১৯৭৬ সালে, কার্ল-হেইঞ্জ রুমেনিগে ১৯৮০ ও ১৯৮১ সালে, লোথার ম্যাথাউস ১৯৯০ সালে এবং ম্যাথিয়াস সামার ১৯৯৬ সালে ব্যালন ডি’অর জেতেন। নেদারল্যান্ডসের হয়ে ইয়োহান ক্রুইফ ১৯৭১, ১৯৭৩ ও ১৯৭৪ সালে, রুড গুলিট ১৯৮৭ সালে এবং মার্কো ফন বাস্তেন ১৯৮৮, ১৯৮৯ ও ১৯৯২ সালে এই সম্মান পান।

ব্রাজিল, ইংল্যান্ড ও ইতালি তিন দেশেরই সংগ্রহ পাঁচটি করে ব্যালন ডি’অর। ব্রাজিলের হয়ে রোনালদো নাজারিও ১৯৯৭ ও ২০০২ সালে, রিভালদো ১৯৯৯ সালে, রোনালদিনহো ২০০৫ সালে এবং কাকা ২০০৭ সালে পুরস্কার জিতেছেন।

ইংল্যান্ডের প্রথম ব্যালন ডি’অরজয়ী স্ট্যানলি ম্যাথিউস ১৯৫৬ সালে এই পুরস্কার পান। এরপর ববি চার্লটন ১৯৬৬ সালে, কেভিন কিগ্যান ১৯৭৮ ও ১৯৭৯ সালে এবং মাইকেল ওয়েন ২০০১ সালে পুরস্কার জেতেন।

ইতালির হয়ে ওমর সিভোরি ১৯৬১ সালে, জিয়ান্নি রিভেরা ১৯৬৯ সালে, পাওলো রসি ১৯৮২ সালে, রবার্তো বাজ্জিও ১৯৯৩ সালে এবং ফাবিও কানাভারো ২০০৬ সালে ব্যালন ডি’অর জিতেছেন।

স্পেনের ঝুলিতে রয়েছে চারটি ব্যালন ডি’অর। আলফ্রেদো দি স্তেফানো ১৯৫৭ ও ১৯৫৯ সালে এবং লুইস সুয়ারেজ ১৯৬০ সালে পুরস্কার জেতেন। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৪ সালে রদ্রি স্পেনের হয়ে এই পুরস্কার জিতে তালিকায় নতুন সংযোজন হন।

বছর ঘুরে আবারও দরজায় কড়া নাড়ছে সেই প্রশ্ন। ফুটবল বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়ের মুকুট উঠবে কার মাথায়? ব্যক্তিগত নৈপুণ্য, দলীয় সাফল্য আর মাঠের পারফরম্যান্সের হিসাব-নিকাশ শেষে কে হবেন এবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী, সেই উত্তর মিলবে ২৬ অক্টোবর রাতে। প্যারিসের গণ্ডি পেরিয়ে এবার ডেভিড বেকহ্যামের দেশ ইংল্যান্ডের লন্ডনে বসছে সোনালি বলের জমকালো আসর। তারকাদের ভিড়ে শেষ হাসি কে হাসবেন, তা জানতে অপেক্ষা এখন শুধু সেই মাহেন্দ্রক্ষণের।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস