ঢাকা ১০:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo পায়রা বন্দর থেকে ৭৫৫ কিমি দূরে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব, কখন ও কোথায় আঘাত হানতে পারে Logo আকামার মেয়াদ শেষ হলেও সৌদি যেতে পারবেন বাংলাদেশিরা Logo আমুসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এ সপ্তাহেই Logo ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একই দিনে দুর্ঘটনায় নিহত ৩ Logo ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্য আইনের শাসনের প্রতি চরম অবজ্ঞার প্রকাশ: টিআইবি Logo সরকারি বাসায় এডিস মশার লার্ভা পেলে বরাদ্দ বাতিল : এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী Logo নিউ গিনি প্রোপার্টিজে ভাঙচুর : জামিন পেলেন জামায়াত এমপির জামাতা মিজানুর Logo খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা : শ্রমিক লীগ নেতা সোহাগ ৩ দিনের রিমান্ডে Logo ‘আপনি আসুন, জনগণ আপনার অপেক্ষায় আছে’: শেখ হাসিনার উদ্দেশে হুইপ দুলু Logo গোলাপির ছোঁয়ায় ‘ঘায়েল’ করলেন জয়া আহসান

যমুনা সার কারখানার উৎপাদন আবারও বন্ধ

উৎপাদন শুরুর মাত্র দুই দিনের মাথায় গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় আবারও বন্ধ হয়ে গেছে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের ইউরিয়া উৎপাদন। এর আগে দীর্ঘ আট মাস পর গ্যাস সংকট কাটিয়ে ইউরিয়া উৎপাদন শুরু করেছিল প্রতিষ্ঠানটি।

রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোর ৫টা থেকে কারখানার উৎপাদন বন্ধ করা হয় বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যমুনা সার কারখানার উৎপাদনের বিভাগীয় প্রধান মো. ফজলুল হক।

তিনি জানান, নিরবচ্ছিন্নভাবে সার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে দৈনিক ৪২ থেকে ৪৩ পিএসআই গ্যাসের প্রয়োজন হয়। কিন্তু চাহিদামতো গ্যাস সরবরাহ না থাকায় ভোর থেকে কারখানায় সার উৎপাদন বন্ধ করা হয়েছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে আবারও উৎপাদন শুরু হবে।

তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন গ্যাস সংকটের কারণে কারখানা বন্ধ থাকার পর পুনরায় গ্যাস পেয়ে গত ৬ অক্টোবর থেকে কারখানায় উৎপাদন শুরু হয়। তবে কারিগরি ত্রুটির কারণে দুইদিনের মাথা ৮ অক্টোবর আবারও উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) কারিগরি ত্রুটি সমাধান করে পুনরায় উৎপাদনে ফিরলেও পেট্রোবাংলা ও তিতাস কর্তৃপক্ষ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিলে আবারও উৎপাদন বন্ধ হয়। পুরোপুরি উৎপাদনে যেতে না পারলেও গত দুইদিন মোট এক হাজার ৬০০ মেট্রিক টন সার উৎপাদন করা হয়েছে।

গ্যাস না থাকা ও বিভিন্ন যান্ত্রিক জটিলাতার কারণে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ ২৩ মাস বন্ধ থাকে যমুনা সার কারখানা। চলতি বছরের ১২ ই ফেব্রুয়ারি থেকে গ্যাস সংকটের ফলে কারখানাটির আবারও উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। পুনরায় গত ২০ সেপ্টেম্বর দুপুরে গ্যাস সংযোগ পায় কারখানাটি।

যমুনা সার কারখানা দৈনিক ১৭০০ মেট্রিক টন সার উৎপাদনের সক্ষমতা নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বেশ কয়েক বছর ধরে গ্যাসের চাপস্বল্পতা এবং বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বর্তমানে দৈনিক ১২০০ থেকে ১৪০০ মেট্রিক টন সার উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। যমুনা সার কারখানা বিসিআইসির তালিকাভুক্ত এক হাজার ৯০০ ডিলারের মাধ্যমে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ উত্তরবঙ্গের ২১টি জেলায় সার সরবরাহ করে আসছে। স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ ও কারখানাটি সচল থাকলে প্রতিমাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকার সার উৎপাদন হয়। এতে কারখানাটির লাভ থাকে প্রায় ৬০ কোটি টাকা। অন্যদিকে কারখানা বন্ধ থাকালে অন্যান্য খরচ ছাড়া শুধু প্লান্ট সচল রাখতে গ্যাস বিল দিতে হয় প্রায় ৬ কোটি টাকা।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

পায়রা বন্দর থেকে ৭৫৫ কিমি দূরে ঘূর্ণিঝড় অর্ণব, কখন ও কোথায় আঘাত হানতে পারে

যমুনা সার কারখানার উৎপাদন আবারও বন্ধ

আপডেট সময় ০৬:৪৬:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

উৎপাদন শুরুর মাত্র দুই দিনের মাথায় গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় আবারও বন্ধ হয়ে গেছে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের ইউরিয়া উৎপাদন। এর আগে দীর্ঘ আট মাস পর গ্যাস সংকট কাটিয়ে ইউরিয়া উৎপাদন শুরু করেছিল প্রতিষ্ঠানটি।

রোববার (২৫ অক্টোবর) ভোর ৫টা থেকে কারখানার উৎপাদন বন্ধ করা হয় বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যমুনা সার কারখানার উৎপাদনের বিভাগীয় প্রধান মো. ফজলুল হক।

তিনি জানান, নিরবচ্ছিন্নভাবে সার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে দৈনিক ৪২ থেকে ৪৩ পিএসআই গ্যাসের প্রয়োজন হয়। কিন্তু চাহিদামতো গ্যাস সরবরাহ না থাকায় ভোর থেকে কারখানায় সার উৎপাদন বন্ধ করা হয়েছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে আবারও উৎপাদন শুরু হবে।

তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন গ্যাস সংকটের কারণে কারখানা বন্ধ থাকার পর পুনরায় গ্যাস পেয়ে গত ৬ অক্টোবর থেকে কারখানায় উৎপাদন শুরু হয়। তবে কারিগরি ত্রুটির কারণে দুইদিনের মাথা ৮ অক্টোবর আবারও উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) কারিগরি ত্রুটি সমাধান করে পুনরায় উৎপাদনে ফিরলেও পেট্রোবাংলা ও তিতাস কর্তৃপক্ষ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিলে আবারও উৎপাদন বন্ধ হয়। পুরোপুরি উৎপাদনে যেতে না পারলেও গত দুইদিন মোট এক হাজার ৬০০ মেট্রিক টন সার উৎপাদন করা হয়েছে।

গ্যাস না থাকা ও বিভিন্ন যান্ত্রিক জটিলাতার কারণে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ ২৩ মাস বন্ধ থাকে যমুনা সার কারখানা। চলতি বছরের ১২ ই ফেব্রুয়ারি থেকে গ্যাস সংকটের ফলে কারখানাটির আবারও উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। পুনরায় গত ২০ সেপ্টেম্বর দুপুরে গ্যাস সংযোগ পায় কারখানাটি।

যমুনা সার কারখানা দৈনিক ১৭০০ মেট্রিক টন সার উৎপাদনের সক্ষমতা নিয়ে যাত্রা শুরু করলেও বেশ কয়েক বছর ধরে গ্যাসের চাপস্বল্পতা এবং বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বর্তমানে দৈনিক ১২০০ থেকে ১৪০০ মেট্রিক টন সার উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। যমুনা সার কারখানা বিসিআইসির তালিকাভুক্ত এক হাজার ৯০০ ডিলারের মাধ্যমে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ উত্তরবঙ্গের ২১টি জেলায় সার সরবরাহ করে আসছে। স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ ও কারখানাটি সচল থাকলে প্রতিমাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকার সার উৎপাদন হয়। এতে কারখানাটির লাভ থাকে প্রায় ৬০ কোটি টাকা। অন্যদিকে কারখানা বন্ধ থাকালে অন্যান্য খরচ ছাড়া শুধু প্লান্ট সচল রাখতে গ্যাস বিল দিতে হয় প্রায় ৬ কোটি টাকা।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস