ঢাকা ০৮:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিগত ১৭ বছরে পাড়ায়-পাড়ায় মাদকের আখড়া তৈরি করা হয়েছে: আইজিপি

বিগত ১৭ বছর সরকারিভাবে প্যাট্রোনাইজ করে দেশের পাড়ায় পাড়ায় মাদকের আখরা তৈরি করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে বাগেরহাট পুলিশ লাইন্স মিলনায়তনে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী, দুর্নীতি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রোবাদবিরোধী কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশে পুলিশের সংখ্যা মাত্র ২ লাখ ১৫ হাজার। আমরা এই বছরে ২০ হাজার লোক নিয়োগ দেব। কিন্তু আমাদের একসঙ্গে ২০ হাজার লোক প্রশিক্ষণ দেওয়ার মতো জায়গা নেই। এখন নতুন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরি করতে হবে।

দেশের উন্নয়ন নিয়ে মহাপরিদর্শক বলেন, একটা দেশের উন্নয়নের জন্য কোনো শর্টকাট ভূমিকা নেই। আপনারা সবাই মিলে যদি সরকারকে সহযোগিতা না করেন, তাহলে দেশ আগাবে না। দেশের শান্তি-সম্মৃদ্ধি উন্নয়নের জন্য, অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সবাই মিলে কাজ করতে হবে।

এ ছাড়াও সমাবেশে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী, দুর্নীতি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রোবাদ প্রতিরোধে নানা নির্দেশনা দেন পুলিশ প্রধান মো. আলী হোসেন ফকির।

তার ভাষ্য, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসিদের নিয়ে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি জেলা থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যন্ত থাকবে। আপনারা জানেন কার ছেলে কি করে। তাই আপনাদের তথ্যের মাধ্যমেই কিশোর গ্যাংয়ের দৌরত্ম্য কমবে। সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে দক্ষ সাইবার ইউনিট গঠন করা হয়েছে। যারা গুজব ও মব প্রতিরোধে কাজ করবে বলে জানান আইজিপি।

দেশে যুবকদের অপরাধে জড়ানোর কারণ হিসেবে বেকারত্বকে দায়ী করে আলী হোসেন ফকির বলেন, প্রতিবছর দেশে ২৭ লাখ বেকার যোগ হচ্ছে। এদের ভেতরে হতাশা এবং যে জীবনী শক্তি আছে তা আমরা ব্যবহার করতে পারছি। ব্যবসায়ীরাও বিনিয়োগ করছে না। তারা টাকা ব্যংকে রেখে দিচ্ছে। বিনিয়োগ না করলে কর্মসংস্থান তেরি হবে না।

মাদকের সঙ্গে জড়িত পুলিশের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, গত দুই মাসে আমি ২৭ জন পুলিশ সদস্যকে জেলে পাঠিয়েছি মাদকের কারণে। আগে ঘর পরিস্কার হোক, তারপরে আপনারা পরিস্কার হবেন। তবে মাদকের বিরুদ্ধে তথ্য দিয়ে সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান পুলিশ প্রধান।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে আইজিপি বলেন, গুজব, আপা আসবে, কে আসবে আর না আসবে, তা নিয়ে আমাদের প্রশাসনের, কমিউনিটি পুলিশের কোনো ভাবনা নেই।

বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. জামিলুর ইসলামের সভাপতিত্বে সভায়, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, সরকারি পিসি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মিসেস পারভীন আক্তার, বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু সাইদ শুনু, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতা প্রদীপ বসু শন্তুসহ জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এসময় মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী, দুর্নীতি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রোবাদ প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উপস্থিত সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ

বিগত ১৭ বছরে পাড়ায়-পাড়ায় মাদকের আখড়া তৈরি করা হয়েছে: আইজিপি

আপডেট সময় ০৬:৩৭:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

বিগত ১৭ বছর সরকারিভাবে প্যাট্রোনাইজ করে দেশের পাড়ায় পাড়ায় মাদকের আখরা তৈরি করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে বাগেরহাট পুলিশ লাইন্স মিলনায়তনে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী, দুর্নীতি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রোবাদবিরোধী কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশে পুলিশের সংখ্যা মাত্র ২ লাখ ১৫ হাজার। আমরা এই বছরে ২০ হাজার লোক নিয়োগ দেব। কিন্তু আমাদের একসঙ্গে ২০ হাজার লোক প্রশিক্ষণ দেওয়ার মতো জায়গা নেই। এখন নতুন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র তৈরি করতে হবে।

দেশের উন্নয়ন নিয়ে মহাপরিদর্শক বলেন, একটা দেশের উন্নয়নের জন্য কোনো শর্টকাট ভূমিকা নেই। আপনারা সবাই মিলে যদি সরকারকে সহযোগিতা না করেন, তাহলে দেশ আগাবে না। দেশের শান্তি-সম্মৃদ্ধি উন্নয়নের জন্য, অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সবাই মিলে কাজ করতে হবে।

এ ছাড়াও সমাবেশে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী, দুর্নীতি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রোবাদ প্রতিরোধে নানা নির্দেশনা দেন পুলিশ প্রধান মো. আলী হোসেন ফকির।

তার ভাষ্য, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসিদের নিয়ে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি জেলা থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যন্ত থাকবে। আপনারা জানেন কার ছেলে কি করে। তাই আপনাদের তথ্যের মাধ্যমেই কিশোর গ্যাংয়ের দৌরত্ম্য কমবে। সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে দক্ষ সাইবার ইউনিট গঠন করা হয়েছে। যারা গুজব ও মব প্রতিরোধে কাজ করবে বলে জানান আইজিপি।

দেশে যুবকদের অপরাধে জড়ানোর কারণ হিসেবে বেকারত্বকে দায়ী করে আলী হোসেন ফকির বলেন, প্রতিবছর দেশে ২৭ লাখ বেকার যোগ হচ্ছে। এদের ভেতরে হতাশা এবং যে জীবনী শক্তি আছে তা আমরা ব্যবহার করতে পারছি। ব্যবসায়ীরাও বিনিয়োগ করছে না। তারা টাকা ব্যংকে রেখে দিচ্ছে। বিনিয়োগ না করলে কর্মসংস্থান তেরি হবে না।

মাদকের সঙ্গে জড়িত পুলিশের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, গত দুই মাসে আমি ২৭ জন পুলিশ সদস্যকে জেলে পাঠিয়েছি মাদকের কারণে। আগে ঘর পরিস্কার হোক, তারপরে আপনারা পরিস্কার হবেন। তবে মাদকের বিরুদ্ধে তথ্য দিয়ে সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান পুলিশ প্রধান।

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে আইজিপি বলেন, গুজব, আপা আসবে, কে আসবে আর না আসবে, তা নিয়ে আমাদের প্রশাসনের, কমিউনিটি পুলিশের কোনো ভাবনা নেই।

বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. জামিলুর ইসলামের সভাপতিত্বে সভায়, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, সরকারি পিসি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মিসেস পারভীন আক্তার, বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু সাইদ শুনু, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নেতা প্রদীপ বসু শন্তুসহ জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

এসময় মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী, দুর্নীতি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রোবাদ প্রতিরোধে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উপস্থিত সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস