নীল তরঙ্গের বুক চিরে সহসা জেগে ওঠে এক মায়াবী আভা, যেন ভোরের প্রথম আলোর স্বপ্নিল পরশ লেগেছে জলের হৃদয়ে। প্রকৃতির এই অনবদ্য বিস্ময় আর কিছুই নয়—গোলাপি ডলফিন, সমুদ্র ও নদীর বুকে ভেসে বেড়ানো এক বিরল ও অনন্য অলংকার। গভীর নীল আর শ্যাওলা-সবুজ জলরাশির মাঝে এদের উজ্জ্বল গোলাপির উপস্থিতি ঠিক যেন ক্যানভাসে আঁকা কোনো রূপকথার চিত্রকর্ম।
সামুদ্রিক জগতের যে প্রজাতিটি ভারত মহাসাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলীয় অগভীর জলে বিচরণ করে, তারা শৈশবে ধূপছায়া ধূসর কিংবা কালচে পোশাকে আবৃত থাকে। সময়ের সাথে সাথে বয়স বাড়লে প্রকৃতির এক অদ্ভুত নিয়মে তাদের ত্বকের রঞ্জক পদার্থ বা পিগমেন্ট ক্ষয় হতে শুরু করে। যদিও এরা মূলত সাদা বা অ্যালবিনো রূপ ধারণ করে, তবে রক্তের শিরায় যখন উত্তাপের ছোঁয়া লাগে, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে রক্তের প্রবাহ বৃদ্ধি পায়, তখনই এরা ধারণ করে সেই প্রাণবন্ত ও মোহনীয় গোলাপি রূপ।
ওমানের নিস্তব্ধ উপকূল, থাইল্যান্ডের খানোম সৈকত, কিংবা হংকংয়ের পার্ল রিভার এস্টুযারি থেকে শুরু করে দক্ষিণ চীন সাগর, তাইওয়ান ও ভিয়েতনামের নীল জলসীমায় এই রূপসী সামুদ্রিক জাদুকরদের অবাধ বিচরণ চোখ জুড়িয়ে দেয়।
অন্যদিকে, কেবল সাগর নয়, মিষ্টি পানির অতল রূপকথা রচনা করে বেঁচে আছে আমাজন ও ওরিনোকো নদী অববাহিকার অনন্য সদস্য—’বোতো’ বা আমাজন রিভার ডলফিন। মিষ্টি পানির সবচেয়ে বড় এই প্রজাতিটির প্রতিটি পদচারণা এক অপার রহস্য। এদের অদ্ভুত নমনীয় ঘাড় জলের নিচে ডুবে থাকা গাছের ডালপালার ভিড়েও বাঁক নিয়ে সহজে সাঁতার কাটার অসামান্য সক্ষমতা দেয়।
আর এই প্রজাতিতে পুরুষ ডলফিনদের দেহে গোলাপি রঙের মাধুর্য ফুটে ওঠে সবচাইতে বেশি তীব্রতায়। ব্রাজিল, পেরু, বলিভিয়া, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, ভেনেজুয়েলা কিংবা গায়ানার প্লাবিত বন ও শান্ত নদ-নদীর বুক জুড়ে এদের ভাসমান অস্তিত্ব প্রকৃতির এক অপার সৌন্দর্য ও অপরূপ সজীবতার সাক্ষ্য দিয়ে চলেছে।
বাংলা৭১নিউজ/এসএইচবি



























