দানবীর রণদা প্রসাদ সাহার বাড়ির পূজামণ্ডপ ঘিরে দুর্গোৎসব মানেই ঐতিহ্য আর আনন্দের মেলবন্ধন। টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে অবস্থিত বাড়িটি এবারও দৃষ্টিদন্দন প্রতিমা, প্রাঙ্গণের সাজসজ্জা আর দর্শনার্থীতে মুখর।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) মহাসপ্তমীর সন্ধ্যায় সাহা বাড়ির পূজামণ্ডপে গান ও আরতির পরিবেশন করেন পরিবারটির প্রতিষ্ঠিত দেশের অন্যতম নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভারতেশ্বরী হোমসের ছাত্রীরা। এতে মুখর হয়ে ওঠে কুমুদিনী প্রাঙ্গণ।
এর আগে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মণ্ডপটিতে দেবীর বোধনের মাধ্যমে পূজা শুরু করেন ভক্তরা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, শনিবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে ভারতেশ্বরী হোমসের ছাত্রীদের সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
পরে পূজায় ৩০ জন শিক্ষার্থী আটটি গানের মাধ্যমে আরতি পরিবেশন করেন। মণ্ডপের সামনে থাকা হাজারো দর্শকের মুহুর্মুহু করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মণ্ডপ প্রাঙ্গণ। এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলে এ অনুষ্ঠান।
এ সময় কুমুদিনী কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজীব প্রসাদ সাহা, পরিচালক শ্রীমতি সাহা, পরিচালক (শিক্ষা) প্রতিভা মুৎসুদ্দি, পরিচালক মহাবীর পতি, কুমুদিনী মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ মো. আবদুল হালিম, কুমুদিনী হাসপাতালের উপপরিচালক অনিমেষ ভৌমিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
আরতি উপভোগ করতে আসা বগুড়া মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক চিন্ময় মালাকারের ভাষ্য, ‘আমার দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল রণদা প্রসাদ সাহার বাড়ির মণ্ডপের পূজা দেখতে আসার। সেই আকাঙ্খা থেকে আজ এই মণ্ডপে আসা। রণদার বাড়িজুড়ে মানুষের যে আনন্দ; মনে হচ্ছে এখানে মা দুর্গা স্বয়ং হাজির হয়েছেন।’
ভারতেশ্বরী হোমসের সাবেক শিক্ষক কবি ও সাহিত্যিক হেনা সুলতানা বলেন, ‘পুরো কুমুদিনীই মনে হয় আমার প্রাণ। আমার সবকিছুজুড়ে কুমুদিনী জড়িয়ে আছে।
’ তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর দুর্গাপূজায় আমরা যে আনন্দ করতাম, তার কোনোটিই ভোলার নয়। আমি এখানে শিক্ষকতা না করলেও আমার নাড়ির টান থেকেই এসেছি।’
অনিমেষ ভৌমিক লিটন বলেন, ‘দানবীর রণদার আতিথেয়তা ধরে রেখেছেন তার উত্তরসূরী রাজীব প্রসাদ সাহা। প্রতিবছরের মতো এবারও কুমুদিনী পরিবারের সদস্যরা অতিথিদের বরণ করে নিতে প্রস্তুত। দেশ-বিদেশের অতিথিরা কুমুদিনী প্রাঙ্গণে পা রাখছেন। তাদের পদচারণে কুমুদিনী ক্যাম্পাস মুখর।’
এদিকে, রণদার বাড়ি যেতে লৌহজং নদ পাড়ি দিতে হয়। এ জন্য নদে রাখা হয়েছে বজরা নৌকা। কুমুদিনী চত্বরে আসা অতিথিরা নদের উত্তরপাড় থেকে বজরা নৌকায় চেপে দক্ষিণপাড়ে সাহা বাড়িতে যাচ্ছেন। নদের ঢালু স্থান সহজে অতিক্রম নির্মাণ করা হয়েছে কাঠের সিঁড়ি। পর্যাপ্ত নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাদের সাহা বাড়ির মণ্ডপে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানা গেছে।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ





























