ঢাকা ০৩:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোই দুর্গাপূজার মূল দর্শন : রাষ্ট্রপতি Logo সাত মাসে ১৭ বার জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে বিএনপি : হাসনাত আবদুল্লাহ Logo মোটরসাইকেল মালিকের জামিন Logo দেবী দুর্গার সাজে পরীমনি Logo ময়লার ভাগাড় থেকে বাগান : ডিসি ফরিদার উদ্যোগের প্রশংসা প্রধানমন্ত্রীর Logo আন্তর্জাতিক সামাজিক ব্যবসা সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করলেন সবুর খান Logo নিরাপদ খাদ্যের অভিযান: এক সপ্তাহে সাড়ে ১৪ লাখ টাকা জরিমানা, ১১ মামলা Logo প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারে আইনের ব্যত্যয় হলে ব্যবস্থা: ডিবি প্রধান Logo দাম কমানো থেকে বেতন বাড়ানো, মানুষের হয়ে দরকষাকষি করবে এআই Logo শীতের আগেই বাড়ছে বডি লোশনের চাহিদা, উৎপাদন বাড়ানোর প্রস্তুতি রিমার্কের

নিরাপদ খাদ্যের অভিযান: এক সপ্তাহে সাড়ে ১৪ লাখ টাকা জরিমানা, ১১ মামলা

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে গত এক সপ্তাহে রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে ১১টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। এ সময় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ১১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গত ১১ থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত অভিযান, মোবাইল কোর্ট এবং বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের বিচারক ও মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে এসব জরিমানা আদায় করা হয়।

রোববার (১৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১১ থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ বাস্তবায়নে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় সাতটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি, বাধ্যতামূলক নিবন্ধন ছাড়া প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, রেফ্রিজারেটরে লেবেলবিহীন মাছ-মাংস ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষণ এবং ট্রেড লাইসেন্স, খাদ্যকর্মীদের স্বাস্থ্যসনদ ও পেস্ট কন্ট্রোলের প্রমাণ প্রদর্শনে ব্যর্থ হওয়ার মতো অপরাধ পাওয়া যায়। এসব অপরাধে চারটি প্রতিষ্ঠানকে মোট চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ঢাকার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলাতেও নিরাপদ খাদ্য আইন অনুযায়ী অভিযান চালানো হয়েছে। ওই সাত দিনে ফেনী, পাবনা, বরিশাল, নরসিংদী, সুনামগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জে মোট ছয়টি প্রতিষ্ঠানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।

এসব প্রতিষ্ঠানে লেবেলবিহীন পণ্য সংরক্ষণ, পণ্য কেনার চালান দেখাতে ব্যর্থ হওয়া, অননুমোদিত রাসায়নিক রং ব্যবহার, উৎপাদনস্থলে তেলাপোকা ও ছারপোকার বিচরণ, খাদ্যপণ্য খোলা অবস্থায় নন-ফুডগ্রেড পাত্রে সংরক্ষণ এবং নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার উৎপাদনের মতো অনিয়ম পাওয়া যায়। এসব অপরাধে প্রতিষ্ঠানগুলোকে মোট সাড়ে আট লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে, গত ১৬ অক্টোবর নাটোরের ‘মৌচাক বেকারি’ নামের একটি বেকারিতে লেবেলবিহীন ও বাসি খাদ্যপণ্য পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ৩২(ক) ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেন নাটোর বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইব্রাহিম আলী। জরিমানা অনাদায়ে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশও দেন তিনি।

জোরদার মনিটরিং ও প্রচার কার্যক্রম

আইন প্রয়োগের পাশাপাশি খাদ্য নিরাপদতা নিশ্চিত করতে সারাদেশে খাদ্যস্থাপনা মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করেছে বিএফএসএ। গত এক সপ্তাহে বাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান এবং খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানসহ মোট ২১৪টি খাদ্যস্থাপনায় মনিটরিং করা হয়।

এ কার্যক্রমের আওতায় খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবেশন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনে নিরাপদ খাদ্যবিধি অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা তদারকি করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতেও বিভিন্ন প্রচার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ টেলিভিশনে নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক টিভিসি ও স্ক্রলবার্তা এবং বাংলাদেশ বেতারে বিভিন্ন অডিওবার্তা প্রচার করা হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি, রিলস ও ভিডিওর মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ, স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য উৎপাদন ও বিপণন এবং এ বিষয়ে ভোক্তাদের করণীয় সম্পর্কে সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করা হচ্ছে।

চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বহুমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। খাদ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত তদারকি, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ, মোবাইল কোর্ট, খাদ্য নমুনা পরীক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘একই সঙ্গে খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার এই কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও বিস্তৃত করা হবে।’

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোই দুর্গাপূজার মূল দর্শন : রাষ্ট্রপতি

নিরাপদ খাদ্যের অভিযান: এক সপ্তাহে সাড়ে ১৪ লাখ টাকা জরিমানা, ১১ মামলা

আপডেট সময় ০২:৪৫:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে গত এক সপ্তাহে রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে ১১টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। এ সময় প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ১১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গত ১১ থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত অভিযান, মোবাইল কোর্ট এবং বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের বিচারক ও মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে এসব জরিমানা আদায় করা হয়।

রোববার (১৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১১ থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩ বাস্তবায়নে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় সাতটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি, বাধ্যতামূলক নিবন্ধন ছাড়া প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, রেফ্রিজারেটরে লেবেলবিহীন মাছ-মাংস ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষণ এবং ট্রেড লাইসেন্স, খাদ্যকর্মীদের স্বাস্থ্যসনদ ও পেস্ট কন্ট্রোলের প্রমাণ প্রদর্শনে ব্যর্থ হওয়ার মতো অপরাধ পাওয়া যায়। এসব অপরাধে চারটি প্রতিষ্ঠানকে মোট চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ঢাকার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলাতেও নিরাপদ খাদ্য আইন অনুযায়ী অভিযান চালানো হয়েছে। ওই সাত দিনে ফেনী, পাবনা, বরিশাল, নরসিংদী, সুনামগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জে মোট ছয়টি প্রতিষ্ঠানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।

এসব প্রতিষ্ঠানে লেবেলবিহীন পণ্য সংরক্ষণ, পণ্য কেনার চালান দেখাতে ব্যর্থ হওয়া, অননুমোদিত রাসায়নিক রং ব্যবহার, উৎপাদনস্থলে তেলাপোকা ও ছারপোকার বিচরণ, খাদ্যপণ্য খোলা অবস্থায় নন-ফুডগ্রেড পাত্রে সংরক্ষণ এবং নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার উৎপাদনের মতো অনিয়ম পাওয়া যায়। এসব অপরাধে প্রতিষ্ঠানগুলোকে মোট সাড়ে আট লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে, গত ১৬ অক্টোবর নাটোরের ‘মৌচাক বেকারি’ নামের একটি বেকারিতে লেবেলবিহীন ও বাসি খাদ্যপণ্য পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ৩২(ক) ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেন নাটোর বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইব্রাহিম আলী। জরিমানা অনাদায়ে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশও দেন তিনি।

জোরদার মনিটরিং ও প্রচার কার্যক্রম

আইন প্রয়োগের পাশাপাশি খাদ্য নিরাপদতা নিশ্চিত করতে সারাদেশে খাদ্যস্থাপনা মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করেছে বিএফএসএ। গত এক সপ্তাহে বাজার, হোটেল-রেস্তোরাঁ, বেকারি, মিষ্টির দোকান এবং খাদ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানসহ মোট ২১৪টি খাদ্যস্থাপনায় মনিটরিং করা হয়।

এ কার্যক্রমের আওতায় খাদ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবেশন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিপণনে নিরাপদ খাদ্যবিধি অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা তদারকি করা হয়। প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতেও বিভিন্ন প্রচার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশ টেলিভিশনে নিরাপদ খাদ্যবিষয়ক টিভিসি ও স্ক্রলবার্তা এবং বাংলাদেশ বেতারে বিভিন্ন অডিওবার্তা প্রচার করা হয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি, রিলস ও ভিডিওর মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ, স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য উৎপাদন ও বিপণন এবং এ বিষয়ে ভোক্তাদের করণীয় সম্পর্কে সচেতনতামূলক বার্তা প্রচার করা হচ্ছে।

চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বহুমুখী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। খাদ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত তদারকি, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ, মোবাইল কোর্ট, খাদ্য নমুনা পরীক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘একই সঙ্গে খাদ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তার কাছে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার এই কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও বিস্তৃত করা হবে।’

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ