ঢাকা ০২:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo মাদকাসক্ত ছেলের ছুরিকাঘাতে মায়ের মৃত্যু, বাবা আহত Logo গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে রাশিয়ায় জাপানি সাংবাদিক গ্রেপ্তার Logo দেশকে অস্থিতিশীল করতে দোসররা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে Logo ইউক্রেনে মার্কিন প্রতিষ্ঠানে রাশিয়ার হামলা, নিশ্চুপ ট্রাম্প প্রশাসন Logo হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক এমপি সুলতান মনসুরকে গ্রেপ্তার দেখালেন আদালত Logo টঙ্গীর ওষুধ কারখানার আগুন আরো বাড়ছে, নিয়ন্ত্রণে ২০ ইউনিট Logo গভীর রাতে গ্রামীণ ব্যাংকে আগুন দিল দুর্বৃত্তরা Logo বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় পাশে থাকার আশ্বাস যুক্তরাষ্ট্রের Logo ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা নেই: ইসি সানাউল্লাহ Logo বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদের জানাজায় প্রধানমন্ত্রী

চুয়েটে ২১ ঘণ্টাতেও বের হতে পারেননি অবরুদ্ধ উপাচার্য

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ রয়েছেন। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকে তালা দেন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ৯টা পর্যন্ত উপাচার্যসহ ভবনের ভেতরে থাকা ব্যক্তিরা বের হতে পারেননি।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, সোমবার সকাল ৯টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের ফটকের তালা ভেঙে চুয়েট শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম। খবর পেয়ে শিক্ষার্থীরা দুপুর ১২টার মধ্যে তাকে ভবন ছাড়ার সময় বেঁধে দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি বের না হওয়ায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা।

এতে উপাচার্যের সঙ্গে চুয়েট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ, তার সহযোগী এবং কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীও আটকা পড়েন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ভবনের ভেতরে ১০ থেকে ১১ জন রয়েছেন।

সোমবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করে নবনিযুক্ত উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এরপর রাতভর প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান করেন তারা। মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলছিল।

সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ভবনের ভেতরে একজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে খবর পাওয়া যায়। পরে চুয়েটের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক মো. আবদুল্লাহ সেখানে যান। তার সঙ্গে সাংবাদিকেরাও ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন।

চিকিৎসক আবদুল্লাহ প্রকৌশলী শাহরিয়ারের রক্তচাপ পরীক্ষা করে সিস্টোলিক ১৭০ ও ডায়াস্টোলিক ১০০ মিলিমিটার পারদ পান। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এ ছাড়া ভবনের ভেতরে আরও একজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানান চিকিৎসক। তবে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়নি।

নিজের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম জানান, তিনি সুস্থ আছেন। তবে ভবনের ভেতরে থাকা দুজন অ্যালামনাই সদস্য উচ্চ রক্তচাপের জটিলতায় ভুগছেন। এ কারণে তিনি অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসক ডেকেছেন। দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকায় অন্যরাও অসুস্থ ও ক্লান্ত বোধ করছেন বলে জানান তিনি।

গত ২১ সেপ্টেম্বর খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণের প্রতিবাদ এবং তাকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তারা সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন। একই দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও।

আন্দোলনের কারণে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা আরও বেড়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

মাদকাসক্ত ছেলের ছুরিকাঘাতে মায়ের মৃত্যু, বাবা আহত

চুয়েটে ২১ ঘণ্টাতেও বের হতে পারেননি অবরুদ্ধ উপাচার্য

আপডেট সময় ১১:১৩:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ রয়েছেন। সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকে তালা দেন। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ৯টা পর্যন্ত উপাচার্যসহ ভবনের ভেতরে থাকা ব্যক্তিরা বের হতে পারেননি।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, সোমবার সকাল ৯টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের ফটকের তালা ভেঙে চুয়েট শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম। খবর পেয়ে শিক্ষার্থীরা দুপুর ১২টার মধ্যে তাকে ভবন ছাড়ার সময় বেঁধে দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি বের না হওয়ায় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা।

এতে উপাচার্যের সঙ্গে চুয়েট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ, তার সহযোগী এবং কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীও আটকা পড়েন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ভবনের ভেতরে ১০ থেকে ১১ জন রয়েছেন।

সোমবার সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করে নবনিযুক্ত উপাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এরপর রাতভর প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান করেন তারা। মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি চলছিল।

সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ভবনের ভেতরে একজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে খবর পাওয়া যায়। পরে চুয়েটের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক মো. আবদুল্লাহ সেখানে যান। তার সঙ্গে সাংবাদিকেরাও ভবনের ভেতরে প্রবেশ করেন।

চিকিৎসক আবদুল্লাহ প্রকৌশলী শাহরিয়ারের রক্তচাপ পরীক্ষা করে সিস্টোলিক ১৭০ ও ডায়াস্টোলিক ১০০ মিলিমিটার পারদ পান। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। এ ছাড়া ভবনের ভেতরে আরও একজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানান চিকিৎসক। তবে তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়নি।

নিজের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে উপাচার্য শেখ শরীফুল আলম জানান, তিনি সুস্থ আছেন। তবে ভবনের ভেতরে থাকা দুজন অ্যালামনাই সদস্য উচ্চ রক্তচাপের জটিলতায় ভুগছেন। এ কারণে তিনি অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসক ডেকেছেন। দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকায় অন্যরাও অসুস্থ ও ক্লান্ত বোধ করছেন বলে জানান তিনি।

গত ২১ সেপ্টেম্বর খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর আগে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণের প্রতিবাদ এবং তাকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তারা সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন। একই দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও।

আন্দোলনের কারণে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অচলাবস্থা আরও বেড়েছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ