ঢাকা ০২:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জরুরি কূটনৈতিক যোগাযোগ স্থাপনের আহ্বান জামায়াত আমিরের Logo দেশের অর্থ লুটে বিলাসী জীবনযাপন করছেন ফ্যাসিবাদের দোসররা: রিজভী Logo এনসিপি মূলত জামায়াত নিয়ন্ত্রিত একটা প্রক্সি সংগঠন : আবু হানিফ Logo জন্মদিনে আনীতকে ‘মহাবিশ্বের উপহার’ বললেন আহান Logo মাদকের ভয়াল গ্রাস থেকে তরুণদের রক্ষা করুন: রাষ্ট্রপতি Logo টঙ্গীতে ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল কারখানায় ভয়াবহ আগুন: নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ২১ ইউনিট, যুক্ত হলো সেনাবাহিনী ও বিজিবি Logo না ফেরার শর্তে নয়, অসুস্থতার কারণে ক্যাম্পাস ছেড়েছি; সুস্থ হয়েই আবার ফিরব: চুয়েটের ভিসি Logo মাদকাসক্ত ছেলের ছুরিকাঘাতে মায়ের মৃত্যু, বাবা আহত Logo গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে রাশিয়ায় জাপানি সাংবাদিক গ্রেপ্তার Logo দেশকে অস্থিতিশীল করতে দোসররা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে

মাদকাসক্ত ছেলের ছুরিকাঘাতে মায়ের মৃত্যু, বাবা আহত

কুড়িগ্রাম সদরে মাদকাসক্ত ছেলের ছুরিকাঘাতে মুনিরা বেগম (৫৬) নামের এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার স্বামী অবসরপ্রাপ্ত টেক্সটাইল প্রকৌশলী সরদার আলী (৫৬) গুরুতর আহত হয়ে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ছেলে মোস্তাকিন আলম সুমন (৩৫) পলাতক রয়েছেন।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভোরে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পলাশবাড়ি গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদকাসক্ত সুমনকে এর আগেও বেশ কয়েকবার মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাঠিয়েছিলেন তার মা-বাবা।

কিন্তু প্রতিবারই সে সেখান থেকে পালিয়ে আসত। সম্প্রতি তাকে আবারও একটি নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তারা। এ বিষয়টিকে কেন্দ্র করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার তীব্র মনোমালিন্য চলছিল।

ঘটনার দিন বুধবার ভোরে সিরাজগঞ্জ থেকে একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রের কর্মীরা সুমনকে নিতে তাদের বাড়িতে এসে অপেক্ষা করছিলেন।

বিষয়টি টের পেয়ে সুমন ঘর থেকে বেরিয়ে এসে বাড়িতে থাকা ছুরি দিয়ে মায়ের বুকে উপর্যুপরি আঘাত করেন। এ সময় তার বাবা সরদার আলী বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও পেটে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান তিনি।

পরে নিরাময় কেন্দ্রের কর্মী ও স্থানীয়রা মিলে গুরুতর আহত ওই দম্পতিকে উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক মুনিরা বেগমকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, স্বামী সরদার আলীর অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে তাৎক্ষণিকভাবে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নিহত দম্পতির পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সুমনের মাদকাসক্তির কারণে তার কলেজশিক্ষক বড় ভাইও বাধ্য হয়ে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র ভাড়া থাকেন।

ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে খলিলগঞ্জ কারিগরি কলেজের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল কাদের বলেন, ‘মাদকের সহজলভ্যতার কারণেই আজ তরুণ সমাজ ধ্বংসের মুখে। যে মা ছেলেকে আগলে রেখেছিলেন, আজ তাকেই জীবন দিতে হলো। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।’

ওসি কামাল হোসেন জানান, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সুমনকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জরুরি কূটনৈতিক যোগাযোগ স্থাপনের আহ্বান জামায়াত আমিরের

মাদকাসক্ত ছেলের ছুরিকাঘাতে মায়ের মৃত্যু, বাবা আহত

আপডেট সময় ০২:০৫:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

কুড়িগ্রাম সদরে মাদকাসক্ত ছেলের ছুরিকাঘাতে মুনিরা বেগম (৫৬) নামের এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার স্বামী অবসরপ্রাপ্ত টেক্সটাইল প্রকৌশলী সরদার আলী (৫৬) গুরুতর আহত হয়ে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ছেলে মোস্তাকিন আলম সুমন (৩৫) পলাতক রয়েছেন।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভোরে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পলাশবাড়ি গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদকাসক্ত সুমনকে এর আগেও বেশ কয়েকবার মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাঠিয়েছিলেন তার মা-বাবা।

কিন্তু প্রতিবারই সে সেখান থেকে পালিয়ে আসত। সম্প্রতি তাকে আবারও একটি নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তারা। এ বিষয়টিকে কেন্দ্র করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার তীব্র মনোমালিন্য চলছিল।

ঘটনার দিন বুধবার ভোরে সিরাজগঞ্জ থেকে একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রের কর্মীরা সুমনকে নিতে তাদের বাড়িতে এসে অপেক্ষা করছিলেন।

বিষয়টি টের পেয়ে সুমন ঘর থেকে বেরিয়ে এসে বাড়িতে থাকা ছুরি দিয়ে মায়ের বুকে উপর্যুপরি আঘাত করেন। এ সময় তার বাবা সরদার আলী বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও পেটে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যান তিনি।

পরে নিরাময় কেন্দ্রের কর্মী ও স্থানীয়রা মিলে গুরুতর আহত ওই দম্পতিকে উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক মুনিরা বেগমকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, স্বামী সরদার আলীর অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে তাৎক্ষণিকভাবে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নিহত দম্পতির পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সুমনের মাদকাসক্তির কারণে তার কলেজশিক্ষক বড় ভাইও বাধ্য হয়ে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র ভাড়া থাকেন।

ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে খলিলগঞ্জ কারিগরি কলেজের সহকারী অধ্যাপক আব্দুল কাদের বলেন, ‘মাদকের সহজলভ্যতার কারণেই আজ তরুণ সমাজ ধ্বংসের মুখে। যে মা ছেলেকে আগলে রেখেছিলেন, আজ তাকেই জীবন দিতে হলো। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।’

ওসি কামাল হোসেন জানান, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সুমনকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ