চট্টগ্রামে ১০ কোটি ৩০ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রাখার অভিযোগে রমা বিশ্বাস (৪৫) নামে এক নারীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, রমা বিশ্বাসের নামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১১ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। অন্যদিকে, পারিবারিক ও অন্যান্য সব ব্যয় বাদ দিয়ে তার বৈধ আয়ের পরিমাণ পাওয়া গেছে প্রায় ১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। বৈধ আয় ও মোট সম্পদের এই বড় ব্যবধানের ফলে তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুদক।
সোমবার (১২ অক্টোবর) দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২-এ মামলাটি দায়ের করা হয়। দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন বাদী হয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় মামলাটি করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, রমা বিশ্বাস চট্টগ্রাম নগরের ফিরিঙ্গী বাজার এলাকার শচীন্দ্রলাল ভবনের বাসিন্দা। তার স্বামী প্রয়াত অনুপ বিশ্বাস। তিনি চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানার এলাকার বাসিন্দা এবং আলোচিত মদ ব্যবসায়ী ছিলেন।
দুদকের অনুসন্ধানে ২০২২-২৩ করবর্ষ পর্যন্ত রমা বিশ্বাসের নামে ১১ কোটি ৮৯ লাখ ১০ হাজার ৮৬৪ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। এর মধ্যে স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ১১ কোটি ১৬ লাখ ৪২ হাজার ৬৩৫ টাকা এবং অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৭২ লাখ ৬৮ হাজার ২২৯ টাকা।
এজাহারে বলা হয়, ব্যবসা, গৃহসম্পত্তি ও অন্যান্য উৎস থেকে ২০২২-২৩ করবর্ষ পর্যন্ত রমা বিশ্বাসের বৈধ আয় পাওয়া গেছে ২ কোটি ৫৫ লাখ ৪৩ হাজার ৫২৬ টাকা। একই সময়ে তার পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় ছিল ৯৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৬৮ টাকা। এসব ব্যয় বাদ দেওয়ার পর সম্পদ অর্জনের বিপরীতে তার বৈধ আয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ১ কোটি ৫৮ লাখ ৯৬ হাজার ৮৫৮ টাকা।
অন্যদিকে, তার নামে অর্জিত সম্পদের পরিমাণ ১১ কোটি ৮৯ লাখ ১০ হাজার ৮৬৪ টাকা। বৈধ আয় থেকে ব্যয় বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট অর্থের সঙ্গে সম্পদের তুলনা করে ১০ কোটি ৩০ লাখ ১৪ হাজার ৬ টাকা অসংগতিপূর্ণ সম্পদ পাওয়া গেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
দুদক চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ২০০৮ সালের ১৩ নভেম্বর থেকে ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে এসব সম্পদ অর্জনের ঘটনা ঘটেছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রাখার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত ৭ অক্টোবর দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এ মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়। মামলার তদন্তকালে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তা-ও তদন্তের আওতায় আনা হবে।
বাংলা৭১নিউজ/হোসেন



























