ঢাকা ০৫:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo হামের উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু Logo রূপপুরের প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু Logo দিল্লিতে আ. লীগ আর বাংলাদেশে জামায়াত দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র করছে Logo ‘রহস্যজনক’ বস্তা দেখে ৯৯৯-এ ফোন, ভেতরে মিললো তরুণীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ Logo মনপুরায় শিক্ষক ও তার ভাইকে মারধরের অভিযোগ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে Logo আজও দিল্লিতে বিক্ষোভ, আবারো আটক নেহা বোরা Logo বিশ্বের প্রথম নিউক্লিয়ার ঘড়ি তৈরি করলেন বিজ্ঞানীরা Logo দ্বিতীয় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা : এমপি গাজী নজরুলকে মেলেনি জামিন Logo মেগা প্রকল্প নয়, পারস্পরিক মর্যাদা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভিত্তি: রিয়াজ হামিদুল্লাহ Logo রাবিতে সাংবাদিকদের মারধর: হল সংসদের জিএসের ছাত্রত্ব বাতিলে শিবিরের ক্ষোভ

নারায়ণগঞ্জে এক রাতেই তিন স্থানে বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৯

নারায়ণগঞ্জে এক রাতের ব্যবধানে পৃথক তিনটি স্থানে গ্যাস ও রাসায়নিক পদার্থের কারণে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী-পুরুষসহ অন্তত ৯ জন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরের বড় অংশ পুড়ে গেছে। গুরুতর দগ্ধ চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

শনিবার (১০ অক্টোবর) গভীর রাত থেকে রোববার (১১ অক্টোবর) ভোর পর্যন্ত জেলার কাঁচপুর, ফতুল্লা ও নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। দগ্ধ ব্যক্তিদের রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, তিনটি ঘটনার মধ্যে কাঁচপুরে গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ, ফতুল্লায় রাসায়নিক গুদামে গ্যাস জমে এবং দেওভোগে বাসার রান্নাঘরে গ্যাস জমে বিস্ফোরণ ঘটে।

শনিবার রাত দেড়টার দিকে সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর এলাকায় তাজুল ইসলামের ছয়তলা ভাড়াবাড়ির দ্বিতীয় তলায় গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে একই পরিবারের চারজন দগ্ধ হন।

দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন পোশাকশ্রমিক রোজিনা, তার স্বামী শরিফ, ভাই রিয়াজ ও রনি। তাদের মধ্যে রোজিনার শরীরের ৬০ শতাংশ, শরিফ ও রিয়াজের ৪০ শতাংশ করে এবং রনির শরীরের ৭০ শতাংশ পুড়ে গেছে বলে জানা গেছে।

একই রাতে ফতুল্লার একটি রাসায়নিক গুদামে বিস্ফোরণে দুই শ্রমিক দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে আনোয়ারের শরীরের ৫৪ শতাংশ এবং শামসুলের ৫৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, গুদামে রাসায়নিক গ্যাস জমে বিস্ফোরণটি ঘটে থাকতে পারে।

এরপর রোববার ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ আখড়া এলাকার একটি তিনতলা ভবনের নিচতলার রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাস থেকে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে গৃহবধূ শিখা রানী, তার স্বামী মনা আচার্য ও তার বৃদ্ধা শাশুড়ি দগ্ধ হন। এ ঘটনায় পাশের একটি টিনশেড ঘরে থাকা আরও একজন আহত হন।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের মণ্ডলপাড়া ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে দগ্ধ ও আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন জানান, কাঁচপুরে গ্যাস সিলিন্ডার এবং দেওভোগে তিতাসের পাইপলাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আর ফতুল্লার রাসায়নিক গুদামে গ্যাস জমে বিস্ফোরণ হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক সুলতান মাহমুদ শিকদার জানান, দগ্ধদের মধ্যে কয়েকজনের শ্বাসনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের কয়েকজনকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

হামের উপসর্গে আরও ৭ জনের মৃত্যু

নারায়ণগঞ্জে এক রাতেই তিন স্থানে বিস্ফোরণ, দগ্ধ ৯

আপডেট সময় ০৩:৫৫:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

নারায়ণগঞ্জে এক রাতের ব্যবধানে পৃথক তিনটি স্থানে গ্যাস ও রাসায়নিক পদার্থের কারণে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী-পুরুষসহ অন্তত ৯ জন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরের বড় অংশ পুড়ে গেছে। গুরুতর দগ্ধ চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

শনিবার (১০ অক্টোবর) গভীর রাত থেকে রোববার (১১ অক্টোবর) ভোর পর্যন্ত জেলার কাঁচপুর, ফতুল্লা ও নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। দগ্ধ ব্যক্তিদের রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, তিনটি ঘটনার মধ্যে কাঁচপুরে গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ, ফতুল্লায় রাসায়নিক গুদামে গ্যাস জমে এবং দেওভোগে বাসার রান্নাঘরে গ্যাস জমে বিস্ফোরণ ঘটে।

শনিবার রাত দেড়টার দিকে সোনারগাঁয়ের কাঁচপুর এলাকায় তাজুল ইসলামের ছয়তলা ভাড়াবাড়ির দ্বিতীয় তলায় গ্যাস সিলিন্ডার লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে একই পরিবারের চারজন দগ্ধ হন।

দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন পোশাকশ্রমিক রোজিনা, তার স্বামী শরিফ, ভাই রিয়াজ ও রনি। তাদের মধ্যে রোজিনার শরীরের ৬০ শতাংশ, শরিফ ও রিয়াজের ৪০ শতাংশ করে এবং রনির শরীরের ৭০ শতাংশ পুড়ে গেছে বলে জানা গেছে।

একই রাতে ফতুল্লার একটি রাসায়নিক গুদামে বিস্ফোরণে দুই শ্রমিক দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে আনোয়ারের শরীরের ৫৪ শতাংশ এবং শামসুলের ৫৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, গুদামে রাসায়নিক গ্যাস জমে বিস্ফোরণটি ঘটে থাকতে পারে।

এরপর রোববার ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ আখড়া এলাকার একটি তিনতলা ভবনের নিচতলার রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাস থেকে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে গৃহবধূ শিখা রানী, তার স্বামী মনা আচার্য ও তার বৃদ্ধা শাশুড়ি দগ্ধ হন। এ ঘটনায় পাশের একটি টিনশেড ঘরে থাকা আরও একজন আহত হন।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের মণ্ডলপাড়া ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে দগ্ধ ও আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন জানান, কাঁচপুরে গ্যাস সিলিন্ডার এবং দেওভোগে তিতাসের পাইপলাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আর ফতুল্লার রাসায়নিক গুদামে গ্যাস জমে বিস্ফোরণ হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক সুলতান মাহমুদ শিকদার জানান, দগ্ধদের মধ্যে কয়েকজনের শ্বাসনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের কয়েকজনকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ