ঢাকা ০৪:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সকালে খালি পেটে পানি পান শরীরের জন্য ভালো নাকি খারাপ?

সকালে ঘুম থেকে উঠেই এক গ্লাস পানি পান করার অভ্যাস অনেকেরই। কেউ মনে করেন, খালি পেটে পানি পান করলে দ্রুত ওজন কমে, কেউ আবার বিশ্বাস করেন, এতে হজম ভালো হয় এবং মস্তিষ্কও থাকে চাঙা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সকালবেলা পানি পানের নানা উপকারিতার কথা প্রায়ই দেখা যায়। কিন্তু এসব দাবির পেছনে কতটা বৈজ্ঞানিক প্রমাণ রয়েছে?

স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শরীর সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি। তবে দিনের ঠিক কোন সময়ে পানি পান করা হচ্ছে, তা স্বাস্থ্যের ওপর বিশেষ কোনো প্রভাব ফেলে এমন শক্ত প্রমাণ নেই।

ঘুম থেকে উঠেই পানি পান করলে কি শরীরের পানিশূন্যতা দূর হয়

রাতে দীর্ঘ সময় ঘুমানোর কারণে শরীরে নতুন করে পানি প্রবেশ করে না। তাই সকালে ঘুম থেকে উঠে পানি পান করা শরীরের পানির চাহিদা পূরণে সহায়ক হতে পারে। তবে সকালে প্রস্রাবের রং গাঢ় হলেই শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিয়েছে, এমনটা ভাবার কারণ নেই।

দীর্ঘ সময় পানি পান না করার কারণে প্রস্রাব কিছুটা ঘন হতে পারে। সাধারণত তৃষ্ণা লাগা শরীরের পানির প্রয়োজন বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। তবে যাদের খুব কম বা একেবারেই তৃষ্ণা লাগে না, তাদের এ বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

সকালে খালি পেটে পানি পান করলে কি ওজন নিয়ন্ত্রণে আসে

ওজন কমানোর জন্য সকালে ঘুম থেকে উঠেই পানি পান করার পরামর্শ প্রায়ই দেওয়া হয়। কিন্তু পানি পান করলেই যে ওজন কমবে, এমন নয়। হেলথলাইনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, একটি পুরোনো গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন অতিরিক্ত ১ দশমিক ৫ লিটার পানি পান করলে দিনে প্রায় ৪৮ ক্যালরি অতিরিক্ত খরচ হতে পারে। তবে এই ফলাফলকে সরাসরি দীর্ঘমেয়াদি ওজন কমার নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা যায় না।

সামান্য পানিশূন্যতাও সতর্কতা, মনোযোগ এবং স্বল্পমেয়াদি স্মৃতিশক্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে। ছবি: সংগৃহীত
সামান্য পানিশূন্যতাও সতর্কতা, মনোযোগ এবং স্বল্পমেয়াদি স্মৃতিশক্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে। ছবি: সংগৃহীত

পানি পান করার সময়ের চেয়ে মোট কতটা পানি পান করা হচ্ছে এবং খাবার ও জীবনযাপনের অভ্যাস কেমন, তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে চিনিযুক্ত পানীয়ের বদলে পানি পান করলে মোট ক্যালরি গ্রহণ কমাতে সহায়তা করতে পারে।

সকালে পানি পান করলে কি মস্তিষ্ক বেশি সক্রিয় থাকে

মনোযোগ ধরে রাখতে পারছেন না, কাজে বারবার ভুল হচ্ছে কিংবা কিছু মনে রাখতে কষ্ট হচ্ছে? শরীরে পানির ঘাটতি থাকলে এমন কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, সামান্য পানিশূন্যতাও সতর্কতা, মনোযোগ এবং স্বল্পমেয়াদি স্মৃতিশক্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ঘুম থেকে উঠেই পানি পান করলে দিনের অন্য সময়ে পানি পানের তুলনায় মস্তিষ্ক বেশি ভালো কাজ করে এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ, মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান জরুরি, কিন্তু এর জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময় মেনে চলার প্রয়োজন নেই।

ঠান্ডা পানি পান করলে কি বিপাকক্রিয়া হয়

কেউ কেউ মনে করেন, সকালে ঠান্ডা পানি পান করলে শরীরের বিপাকক্রিয়া বা মেটাবলিজম বেড়ে যায়। এতে ক্যালরি বেশি খরচ হয় এবং ওজন কমানো সহজ হয়। কিছু গবেষণায় ঠান্ডা পানি পান করার পর সামান্য অতিরিক্ত ক্যালরি খরচ হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে এই প্রভাব খুবই সীমিত। এমনকি পানি শরীরের তাপমাত্রায় পৌঁছানোর জন্য যে শক্তি খরচ হয়, তা দিয়েও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ওজন কমানোর আশা করা যায় না। তাই শুধু ক্যালরি পোড়ানোর উদ্দেশ্যে বরফঠান্ডা পানি পান করার বিশেষ প্রয়োজন নেই। স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানিও শরীরের পানির চাহিদা পূরণে কার্যকর।

পানি পানের জন্য সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। সকালে ঘুম থেকে উঠে পানি পান করা ভালো অভ্যাস হতে পারে, তবে এটিকে ওজন কমানো, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়ানো কিংবা বিপাকক্রিয়া দ্রুত করার বিশেষ কৌশল হিসেবে দেখা ঠিক নয়। দিনজুড়ে নিয়মিত পানি পান করা, তৃষ্ণার দিকে খেয়াল রাখা এবং গরম আবহাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যক্তিগত শারীরিক চাহিদা অনুযায়ী পানির পরিমাণ ঠিক রাখাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

সকালে খালি পেটে পানি পান শরীরের জন্য ভালো নাকি খারাপ?

আপডেট সময় ০৮:০৪:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

সকালে ঘুম থেকে উঠেই এক গ্লাস পানি পান করার অভ্যাস অনেকেরই। কেউ মনে করেন, খালি পেটে পানি পান করলে দ্রুত ওজন কমে, কেউ আবার বিশ্বাস করেন, এতে হজম ভালো হয় এবং মস্তিষ্কও থাকে চাঙা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সকালবেলা পানি পানের নানা উপকারিতার কথা প্রায়ই দেখা যায়। কিন্তু এসব দাবির পেছনে কতটা বৈজ্ঞানিক প্রমাণ রয়েছে?

স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শরীর সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি। তবে দিনের ঠিক কোন সময়ে পানি পান করা হচ্ছে, তা স্বাস্থ্যের ওপর বিশেষ কোনো প্রভাব ফেলে এমন শক্ত প্রমাণ নেই।

ঘুম থেকে উঠেই পানি পান করলে কি শরীরের পানিশূন্যতা দূর হয়

রাতে দীর্ঘ সময় ঘুমানোর কারণে শরীরে নতুন করে পানি প্রবেশ করে না। তাই সকালে ঘুম থেকে উঠে পানি পান করা শরীরের পানির চাহিদা পূরণে সহায়ক হতে পারে। তবে সকালে প্রস্রাবের রং গাঢ় হলেই শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দিয়েছে, এমনটা ভাবার কারণ নেই।

দীর্ঘ সময় পানি পান না করার কারণে প্রস্রাব কিছুটা ঘন হতে পারে। সাধারণত তৃষ্ণা লাগা শরীরের পানির প্রয়োজন বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। তবে যাদের খুব কম বা একেবারেই তৃষ্ণা লাগে না, তাদের এ বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া উচিত।

সকালে খালি পেটে পানি পান করলে কি ওজন নিয়ন্ত্রণে আসে

ওজন কমানোর জন্য সকালে ঘুম থেকে উঠেই পানি পান করার পরামর্শ প্রায়ই দেওয়া হয়। কিন্তু পানি পান করলেই যে ওজন কমবে, এমন নয়। হেলথলাইনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, একটি পুরোনো গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন অতিরিক্ত ১ দশমিক ৫ লিটার পানি পান করলে দিনে প্রায় ৪৮ ক্যালরি অতিরিক্ত খরচ হতে পারে। তবে এই ফলাফলকে সরাসরি দীর্ঘমেয়াদি ওজন কমার নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা যায় না।

সামান্য পানিশূন্যতাও সতর্কতা, মনোযোগ এবং স্বল্পমেয়াদি স্মৃতিশক্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে। ছবি: সংগৃহীত
সামান্য পানিশূন্যতাও সতর্কতা, মনোযোগ এবং স্বল্পমেয়াদি স্মৃতিশক্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে। ছবি: সংগৃহীত

পানি পান করার সময়ের চেয়ে মোট কতটা পানি পান করা হচ্ছে এবং খাবার ও জীবনযাপনের অভ্যাস কেমন, তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে চিনিযুক্ত পানীয়ের বদলে পানি পান করলে মোট ক্যালরি গ্রহণ কমাতে সহায়তা করতে পারে।

সকালে পানি পান করলে কি মস্তিষ্ক বেশি সক্রিয় থাকে

মনোযোগ ধরে রাখতে পারছেন না, কাজে বারবার ভুল হচ্ছে কিংবা কিছু মনে রাখতে কষ্ট হচ্ছে? শরীরে পানির ঘাটতি থাকলে এমন কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, সামান্য পানিশূন্যতাও সতর্কতা, মনোযোগ এবং স্বল্পমেয়াদি স্মৃতিশক্তিতে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ঘুম থেকে উঠেই পানি পান করলে দিনের অন্য সময়ে পানি পানের তুলনায় মস্তিষ্ক বেশি ভালো কাজ করে এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ, মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান জরুরি, কিন্তু এর জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময় মেনে চলার প্রয়োজন নেই।

ঠান্ডা পানি পান করলে কি বিপাকক্রিয়া হয়

কেউ কেউ মনে করেন, সকালে ঠান্ডা পানি পান করলে শরীরের বিপাকক্রিয়া বা মেটাবলিজম বেড়ে যায়। এতে ক্যালরি বেশি খরচ হয় এবং ওজন কমানো সহজ হয়। কিছু গবেষণায় ঠান্ডা পানি পান করার পর সামান্য অতিরিক্ত ক্যালরি খরচ হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে এই প্রভাব খুবই সীমিত। এমনকি পানি শরীরের তাপমাত্রায় পৌঁছানোর জন্য যে শক্তি খরচ হয়, তা দিয়েও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ওজন কমানোর আশা করা যায় না। তাই শুধু ক্যালরি পোড়ানোর উদ্দেশ্যে বরফঠান্ডা পানি পান করার বিশেষ প্রয়োজন নেই। স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানিও শরীরের পানির চাহিদা পূরণে কার্যকর।

পানি পানের জন্য সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। সকালে ঘুম থেকে উঠে পানি পান করা ভালো অভ্যাস হতে পারে, তবে এটিকে ওজন কমানো, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়ানো কিংবা বিপাকক্রিয়া দ্রুত করার বিশেষ কৌশল হিসেবে দেখা ঠিক নয়। দিনজুড়ে নিয়মিত পানি পান করা, তৃষ্ণার দিকে খেয়াল রাখা এবং গরম আবহাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম ও ব্যক্তিগত শারীরিক চাহিদা অনুযায়ী পানির পরিমাণ ঠিক রাখাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস