ঢাকা ০৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ: এক অলৌকিক সুরসাধকের মহাজীবন Logo প্ল্যানের ব্যত্যয় ঘটিয়ে যারা বিল্ডিং করেছেন তাদের জন্য বিধিমালা হচ্ছে : গণপূর্তমন্ত্রী Logo ইরান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৮১ সামরিক বিমান হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্ Logo ৫ হাজারের বেশি নিখোঁজ রেখেই নেপালে উদ্ধার অভিযান শেষ Logo ছাত্রদল প্রকাশ্যে রক্ত দিয়েছে বলেই তাদের কেউ ‘সুপ্ত’-‘গুপ্ত’ বলতে পারে না: রিজভী Logo এআইয়ের সুফলের আড়ালে মানবজাতির জন্য কতটা ঝুঁকি Logo চাপ দিয়ে লংমার্চ থামানো যাবে না, ইমরান খানের হাতেই চাবিকাঠি: ইউসুফজাই Logo ৭ ঘণ্টার জন্য সুপ্রিম কোর্টে প্রবেশে জরুরি নির্দেশনা Logo পিরোজপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি অনিক রিমান্ড শেষে কারাগারে Logo ক্যান্সার চিকিৎসাসেবায় আসছে ১৭ রেডিওথেরাপি মেশিন

ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ: এক অলৌকিক সুরসাধকের মহাজীবন

যাঁকে স্পর্শ করে সুর হয়ে উঠেছিল আধ্যাত্মিক সাধনা, যাঁর আঙুলের ছোঁয়ায় সরোদ ও সেতারের তারে তারে বেজে উঠেছিল প্রকৃতির পরম রহস্য—তিনি আর কেউ নন, সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ। তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার শিবপুর গ্রামে ১৮৬২ সালের ৮ অক্টোবর এক সংগীতানুরাগী পরিবারে জন্ম হয়েছিল এই মহান সুরসাধকের। পিতা সবদর হোসেন খাঁ (সদু খাঁ) ছিলেন বিশিষ্ট সংগীতজ্ঞ এবং মাতা সুন্দরী বেগম। আদরের পুত্রকে পিতা-মাতা ডাকতেন ‘আলম’ নামে। শিবপুরের সবুজ মেঠো পথ আর নদীঘেরা আবহাওয়ায় বেড়ে ওঠা এই বালকের রক্তে সেদিনই রোপিত হয়েছিল এক অনন্ত সুরের বীজ।
​
কৈশোরের গৃহত্যাগ ও দূরন্ত সুরতৃষ্ণা
​সুর যাঁর ধমনীতে প্রবাহিত, সংসার-সীমানা তাঁকে আটকে রাখবে কীভাবে? মাত্র ১০ বছর বয়সে সুরের অলৌকিক টানে আলম ছাড়লেন আপন ভিটেমাটি। ঘর ছেড়ে পথে নেমে তিনি যুক্ত হলেন এক যাযাবর যাত্রাদলের সঙ্গে। বাংলার লোকজীবনের গান—জারি, সারি, বাউল ও ভাটিয়ালির সুধাপানে ধন্য হতে লাগল তাঁর শৈশব ও কৈশোর। মাটির গন্ধে মাখা লোকসুরের এই প্রাথমিক অভিজ্ঞতাই পরবর্তী সময়ে তাঁর ধ্রুপদী সাধনার শক্ত ভিত গড়ে দিয়েছিল।

​কঠোর সাধনা ও গুরুমুখী শিক্ষা
​সংগীতকে আত্মস্থ করতে তিনি জীবনের দীর্ঘ ৩৩টি বছর উৎসর্গ করেছিলেন কঠোর থেকে কঠোরতম গুরুমুখী সাধনায়। সুরের খোঁজে তিনি পাড়ি জমান কলকাতায়। পরিচয় লুকিয়ে, ছদ্মনামে তিনি তালিম নেওয়া শুরু করেন বিখ্যাত কণ্ঠশিল্পী নুলো গোপালের কাছে। দীর্ঘ সাতটি বছর চলল নিবিড় কণ্ঠসংগীতের সাধনা। এরপর ক্ল্যারিনেট, বেহালাসহ নানা পশ্চিমা বাদ্যযন্ত্রের সূক্ষ্ম কারিগরি শিখে নেন হাবু দত্তের কাছে।
​কিন্তু যাঁর গন্তব্য সুরের সর্বোচ্চ শিখর, তিনি এক জায়গায় থেমে থাকবেন কীভাবে? কলকাতা থেকে তিনি ছোটেন রামপুরে। সেখানে বিখ্যাত সরোদবাদক আহমেদ আলী খাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করে সরোদের গভীরতায় ডুব দেন। তবে তাঁর শিক্ষার পূর্ণতা ঘটে সংগীতসম্রাট তানসেনের প্রত্যক্ষ বংশধর, রামপুর দরবারের মহাগুণী ওস্তাদ ওয়াজির খাঁর চরণে ঠাঁই পাওয়ার পর। ওস্তাদ ওয়াজির খাঁর কঠোর ও নিখুঁত তদারকিতে বছরের পর বছর সাধনা করে আলাউদ্দিন খাঁ সিদ্ধহস্ত হয়ে ওঠেন সেতার ও সুরবাহারের ধ্রুপদী বাদনে।

​মাইহার ঘরানার জন্ম ও পাশ্চাত্যে সুরের বিস্তার
​১৯১৮ সালে ভারতের মধ্যপ্রদেশের মাইহার রাজ্যের মহারাজা ব্রজনাথ সিংহ তাঁর অদ্ভুত সুরপ্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে তাঁকে রাজদরবারের প্রধান সংগীতশিল্পী হিসেবে বরণ করে নেন। মাইহারেই শুরু হয় তাঁর জীবনের এক নতুন স্বর্ণযুগ। সেখানে অবস্থানকালেই তিনি সৃষ্টি করেন ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের ইতিহাস সৃষ্টকারী ধারা—’মাইহার ঘরানা’।
​তিনি কেবল রাজদরবারেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না; অনাথ শিশুদের কুড়িয়ে এনে গড়ে তোলেন ‘মাইহার ব্যান্ড’ নামক এক অভূতপূর্ব অর্কেস্ট্রা দল। শাস্ত্রীয় সংগীতের জগতে সৃষ্টি করেন হেমন্ত, দুর্গেশ্বরী, মেঘবাহার, প্রভাতকেলি ও মদিনা মঞ্জুরির মতো অপূর্ব সব নতুন রাগ। ১৯৩৫ সালে বিশ্ববিখ্যাত নৃত্যশিল্পী উদয়শঙ্করের দলের সাথে তিনি বিশ্ব সফরে বের হন। তিনিই প্রথম বাঙালি সংগীতজ্ঞ, যিনি সমগ্র পাশ্চাত্য জগতের সামনে ভারতীয় উপমহাদেশের রাগসংগীতের গভীরতা ও সৌন্দর্য উন্মোচন করে বিশ্বকে মন্ত্রমুগ্ধ করেছিলেন।

বংশধারা ও শিষ্যের আলোয় চিরঞ্জীব গুরু
​ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ কেবল এক কালজয়ী শিল্পীই ছিলেন না, ছিলেন এক যুগস্রষ্টা মহাগুরু। তাঁর স্নেহছায়ায় গড়ে উঠেছে সংগীতজগতের একের পর এক উজ্জ্বল নক্ষত্র
​পণ্ডিত রবি শঙ্কর। তিনি ছিলেন বিশ্ববরেণ্য সেতার জাদুকর।
​ওস্তাদ আলী আকবর খাঁ তাঁরই সুযোগ্য পুত্র এবং বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সরোদবাদক।
​অন্নপূর্ণা দেবী হচ্ছেন তাঁর কন্যা এবং সুরবাহারের এক অলৌকিক প্রতিভা।
​আর পণ্ডিত নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতীয় সেতার বাদনের অন্যতম অমর পণ্ডিত।
​পান্নালাল ঘোষ হচ্ছেন বাঁশিকে শাস্ত্রীয় সংগীতের মূলমঞ্চে নিয়ে আসা কালজয়ী শিল্পী।

​প্রাপ্তি ও বিশ্বজোড়া সম্মাননা
​সংগীতের আকাশে যাঁর অবস্থান সূর্যের মতো, সম্মাননা ও খেতাব তাঁর চরণে লুটিয়ে পড়েছিল স্বতঃস্ফূর্তভাবে:
​ব্রিটিশ সরকার তাঁকে প্রদান করে ‘খাঁ সাহেব’ উপাধি।
​ইংল্যান্ডের রানি তাঁকে ভূষিত করেন ‘সুরসম্রাট’ খেতাবে।
​ভারত সরকার তাঁকে সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৫৮) এবং ‘পদ্মবিভূষণ’ (১৯৭১)-এ ভূষিত করে।
​বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে অর্পণ করে তাঁদের সর্বোচ্চ সম্মান ‘দেশীকোত্তম’ (১৯৬১)।
​ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাঁকে দেওয়া হয় সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি।

​মহাপ্রয়াণ ও অমর স্মৃতি
​১৯৭২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ভারতের মধ্যপ্রদেশের মাইহারে অবসান ঘটে এই মহান সুরসাধকের মর্ত্যলীলার। তবে দেহাবসান ঘটলেও তিনি সুরের অলৌকিক ধ্বনিতে চিরকাল বেঁচে আছেন মানব হৃদয়ে। ভারত ও বাংলাদেশ সরকার তাঁর স্মৃতি রক্ষার্থে প্রকাশ করেছে স্মারক ডাকটিকিট। সুরের আকাশে তিনি এমন এক ধ্রুবতারা, যাঁর দীপ্তি যুগে যুগে সুরপিয়াসীদের পথ দেখাবে অবিচল শ্রদ্ধায় ও ভালোবাসায়।
​
বাংলা৭১নিউজ/এসএইচবি

Tag :

ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ: এক অলৌকিক সুরসাধকের মহাজীবন

ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ: এক অলৌকিক সুরসাধকের মহাজীবন

আপডেট সময় ০৫:৩৫:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

যাঁকে স্পর্শ করে সুর হয়ে উঠেছিল আধ্যাত্মিক সাধনা, যাঁর আঙুলের ছোঁয়ায় সরোদ ও সেতারের তারে তারে বেজে উঠেছিল প্রকৃতির পরম রহস্য—তিনি আর কেউ নন, সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ। তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার শিবপুর গ্রামে ১৮৬২ সালের ৮ অক্টোবর এক সংগীতানুরাগী পরিবারে জন্ম হয়েছিল এই মহান সুরসাধকের। পিতা সবদর হোসেন খাঁ (সদু খাঁ) ছিলেন বিশিষ্ট সংগীতজ্ঞ এবং মাতা সুন্দরী বেগম। আদরের পুত্রকে পিতা-মাতা ডাকতেন ‘আলম’ নামে। শিবপুরের সবুজ মেঠো পথ আর নদীঘেরা আবহাওয়ায় বেড়ে ওঠা এই বালকের রক্তে সেদিনই রোপিত হয়েছিল এক অনন্ত সুরের বীজ।
​
কৈশোরের গৃহত্যাগ ও দূরন্ত সুরতৃষ্ণা
​সুর যাঁর ধমনীতে প্রবাহিত, সংসার-সীমানা তাঁকে আটকে রাখবে কীভাবে? মাত্র ১০ বছর বয়সে সুরের অলৌকিক টানে আলম ছাড়লেন আপন ভিটেমাটি। ঘর ছেড়ে পথে নেমে তিনি যুক্ত হলেন এক যাযাবর যাত্রাদলের সঙ্গে। বাংলার লোকজীবনের গান—জারি, সারি, বাউল ও ভাটিয়ালির সুধাপানে ধন্য হতে লাগল তাঁর শৈশব ও কৈশোর। মাটির গন্ধে মাখা লোকসুরের এই প্রাথমিক অভিজ্ঞতাই পরবর্তী সময়ে তাঁর ধ্রুপদী সাধনার শক্ত ভিত গড়ে দিয়েছিল।

​কঠোর সাধনা ও গুরুমুখী শিক্ষা
​সংগীতকে আত্মস্থ করতে তিনি জীবনের দীর্ঘ ৩৩টি বছর উৎসর্গ করেছিলেন কঠোর থেকে কঠোরতম গুরুমুখী সাধনায়। সুরের খোঁজে তিনি পাড়ি জমান কলকাতায়। পরিচয় লুকিয়ে, ছদ্মনামে তিনি তালিম নেওয়া শুরু করেন বিখ্যাত কণ্ঠশিল্পী নুলো গোপালের কাছে। দীর্ঘ সাতটি বছর চলল নিবিড় কণ্ঠসংগীতের সাধনা। এরপর ক্ল্যারিনেট, বেহালাসহ নানা পশ্চিমা বাদ্যযন্ত্রের সূক্ষ্ম কারিগরি শিখে নেন হাবু দত্তের কাছে।
​কিন্তু যাঁর গন্তব্য সুরের সর্বোচ্চ শিখর, তিনি এক জায়গায় থেমে থাকবেন কীভাবে? কলকাতা থেকে তিনি ছোটেন রামপুরে। সেখানে বিখ্যাত সরোদবাদক আহমেদ আলী খাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করে সরোদের গভীরতায় ডুব দেন। তবে তাঁর শিক্ষার পূর্ণতা ঘটে সংগীতসম্রাট তানসেনের প্রত্যক্ষ বংশধর, রামপুর দরবারের মহাগুণী ওস্তাদ ওয়াজির খাঁর চরণে ঠাঁই পাওয়ার পর। ওস্তাদ ওয়াজির খাঁর কঠোর ও নিখুঁত তদারকিতে বছরের পর বছর সাধনা করে আলাউদ্দিন খাঁ সিদ্ধহস্ত হয়ে ওঠেন সেতার ও সুরবাহারের ধ্রুপদী বাদনে।

​মাইহার ঘরানার জন্ম ও পাশ্চাত্যে সুরের বিস্তার
​১৯১৮ সালে ভারতের মধ্যপ্রদেশের মাইহার রাজ্যের মহারাজা ব্রজনাথ সিংহ তাঁর অদ্ভুত সুরপ্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে তাঁকে রাজদরবারের প্রধান সংগীতশিল্পী হিসেবে বরণ করে নেন। মাইহারেই শুরু হয় তাঁর জীবনের এক নতুন স্বর্ণযুগ। সেখানে অবস্থানকালেই তিনি সৃষ্টি করেন ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতের ইতিহাস সৃষ্টকারী ধারা—’মাইহার ঘরানা’।
​তিনি কেবল রাজদরবারেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না; অনাথ শিশুদের কুড়িয়ে এনে গড়ে তোলেন ‘মাইহার ব্যান্ড’ নামক এক অভূতপূর্ব অর্কেস্ট্রা দল। শাস্ত্রীয় সংগীতের জগতে সৃষ্টি করেন হেমন্ত, দুর্গেশ্বরী, মেঘবাহার, প্রভাতকেলি ও মদিনা মঞ্জুরির মতো অপূর্ব সব নতুন রাগ। ১৯৩৫ সালে বিশ্ববিখ্যাত নৃত্যশিল্পী উদয়শঙ্করের দলের সাথে তিনি বিশ্ব সফরে বের হন। তিনিই প্রথম বাঙালি সংগীতজ্ঞ, যিনি সমগ্র পাশ্চাত্য জগতের সামনে ভারতীয় উপমহাদেশের রাগসংগীতের গভীরতা ও সৌন্দর্য উন্মোচন করে বিশ্বকে মন্ত্রমুগ্ধ করেছিলেন।

বংশধারা ও শিষ্যের আলোয় চিরঞ্জীব গুরু
​ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ কেবল এক কালজয়ী শিল্পীই ছিলেন না, ছিলেন এক যুগস্রষ্টা মহাগুরু। তাঁর স্নেহছায়ায় গড়ে উঠেছে সংগীতজগতের একের পর এক উজ্জ্বল নক্ষত্র
​পণ্ডিত রবি শঙ্কর। তিনি ছিলেন বিশ্ববরেণ্য সেতার জাদুকর।
​ওস্তাদ আলী আকবর খাঁ তাঁরই সুযোগ্য পুত্র এবং বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সরোদবাদক।
​অন্নপূর্ণা দেবী হচ্ছেন তাঁর কন্যা এবং সুরবাহারের এক অলৌকিক প্রতিভা।
​আর পণ্ডিত নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায় ভারতীয় সেতার বাদনের অন্যতম অমর পণ্ডিত।
​পান্নালাল ঘোষ হচ্ছেন বাঁশিকে শাস্ত্রীয় সংগীতের মূলমঞ্চে নিয়ে আসা কালজয়ী শিল্পী।

​প্রাপ্তি ও বিশ্বজোড়া সম্মাননা
​সংগীতের আকাশে যাঁর অবস্থান সূর্যের মতো, সম্মাননা ও খেতাব তাঁর চরণে লুটিয়ে পড়েছিল স্বতঃস্ফূর্তভাবে:
​ব্রিটিশ সরকার তাঁকে প্রদান করে ‘খাঁ সাহেব’ উপাধি।
​ইংল্যান্ডের রানি তাঁকে ভূষিত করেন ‘সুরসম্রাট’ খেতাবে।
​ভারত সরকার তাঁকে সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘পদ্মভূষণ’ (১৯৫৮) এবং ‘পদ্মবিভূষণ’ (১৯৭১)-এ ভূষিত করে।
​বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে অর্পণ করে তাঁদের সর্বোচ্চ সম্মান ‘দেশীকোত্তম’ (১৯৬১)।
​ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাঁকে দেওয়া হয় সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি।

​মহাপ্রয়াণ ও অমর স্মৃতি
​১৯৭২ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ভারতের মধ্যপ্রদেশের মাইহারে অবসান ঘটে এই মহান সুরসাধকের মর্ত্যলীলার। তবে দেহাবসান ঘটলেও তিনি সুরের অলৌকিক ধ্বনিতে চিরকাল বেঁচে আছেন মানব হৃদয়ে। ভারত ও বাংলাদেশ সরকার তাঁর স্মৃতি রক্ষার্থে প্রকাশ করেছে স্মারক ডাকটিকিট। সুরের আকাশে তিনি এমন এক ধ্রুবতারা, যাঁর দীপ্তি যুগে যুগে সুরপিয়াসীদের পথ দেখাবে অবিচল শ্রদ্ধায় ও ভালোবাসায়।
​
বাংলা৭১নিউজ/এসএইচবি