গণিতের জটিল সমস্যা সমাধানে এআইয়ের সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। একটি কঠিন ‘মিলেনিয়াম প্রাইজ’ সমস্যার সমাধান প্রকাশের এক মাসের মধ্যে এবার শত শত গণিত সমস্যার সমাধান ও গবেষণালব্ধ ফল প্রকাশ করেছে ওপেনএআই।
হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদন এ তথ্য জানায়।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার রাতে ওপেনএআই তাদের এআই মডেলের তৈরি শত শত গাণিতিক প্রমাণ ও গবেষণার ফল অনলাইনে প্রকাশ করে। এতে মোট ৭২২টি পেপার রয়েছে, যা ৩৭২টি গাণিতিক ফলাফলের গ্রুপে সাজানো হয়েছে।
ওপেনএআই জানিয়েছে, এসব ফল তৈরির জন্য এআই মডেলটিকে প্রায় ৪ হাজার গণিত সমস্যা দেওয়া হয়েছিল।
সংখ্যাতত্ত্ব, বীজগণিতীয় জ্যামিতিসহ গণিতের বিভিন্ন শাখার জটিল সমস্যা নিয়ে মডেলটি কাজ করেছে।
প্রকাশিত ফলাফলের মধ্যে পাঁচটি অবশিষ্ট ‘মিলেনিয়াম প্রাইজ’ সমস্যার তিনটির সঙ্গে সম্পর্কিত অগ্রগতিও রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিখ্যাত রিম্যান হাইপোথিসিস। গণিতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমস্যাটি বহু বছর ধরে বিশ্বের শীর্ষ গণিতবিদদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত।
রাটগার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের অধ্যাপক অ্যালেক্স কনটোরোভিচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে রিম্যান হাইপোথিসিস-সংক্রান্ত ফল নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন। তার মতে, কোনো মানুষ এমন কাজ করলে তা অত্যন্ত বড় ধরনের গণিত গবেষণার স্বীকৃতি পাওয়ার মতো ঘটনা হতো।
তবে এআইয়ের এই সাফল্য নিয়ে গণিতবিদদের মধ্যে শুধু উচ্ছ্বাস নয়, উদ্বেগও রয়েছে। এর আগে ওপেনএআই একটি মিলেনিয়াম প্রাইজ সমস্যার সমাধান করেছে বলে ঘোষণা দেওয়ার পর গণিতবিদদের একটি অংশ প্রশ্ন তোলে, এআই দিয়ে এ ধরনের গবেষণা প্রকাশের ক্ষেত্রে যাচাই ও স্বচ্ছতার মানদণ্ড কী হওয়া উচিত।
এ নিয়ে ২০ জনের বেশি ফিল্ডস মেডালজয়ী গণিতবিদ একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেন।
সেখানে গণিতের সমস্যা সমাধানে এআই শিল্পের অতিরিক্ত প্রতিযোগিতা নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়। তাঁদের আশঙ্কা, শুধু দ্রুত সমস্যা সমাধানের দিকে নজর দিলে গণিতের মূল গবেষণা ও বোঝাপড়ার গুরুত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সমালোচনার পর ওপেনএআই গণিতবিদদের নিয়ে একটি স্বাধীন পরামর্শক দল গঠন করে। ওই দলের পরামর্শের ভিত্তিতে এআইয়ের তৈরি গাণিতিক ফল প্রকাশের ক্ষেত্রে কিছু নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
ওপেনএআই বলেছে, নতুন করে প্রকাশ করা ফলাফলে সেই পরামর্শগুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। তবে উন্নত এআই মডেলকে গণিত ও অন্যান্য বিজ্ঞানের জটিল সমস্যা সমাধানে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে তারা অটল।
এআইয়ের তৈরি এসব গাণিতিক প্রমাণ এখন গণিতবিদদের যাচাই ও বিশ্লেষণের অপেক্ষায়। ফলে ওপেনএআইয়ের এই প্রকাশনা শুধু এআইয়ের সক্ষমতার প্রদর্শন নয়, ভবিষ্যতে গণিত গবেষণায় মানুষ ও এআইয়ের ভূমিকা কী হবে—সেই বিতর্ককেও আরও জোরালো করতে পারে।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ




























