রাজধানীর হাতিরঝিল থানাধীন বাংলামোটর এলাকায় ৫০ হাজার টাকা চাঁদা না পেয়ে মারধর ও ফাঁকা গুলিবর্ষণের অভিযোগের মামলায় গ্রেপ্তার যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা ফেরদৌস আহমেদ সাইমনকে চার দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা আসামিপক্ষের জামিন আবেদন নাকচ করে এ আদেশ দেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আরিফ রেজা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ মামলার তিন আসামিকে তিন দিনের রিমান্ড শেষে গতকাল কারাগারে পাঠানো হয়। অপরদিকে, সাইমনকে চার দিনের রিমান্ড শেষে জামিন আবেদন নাকচ করে আজ কারাগারে পাঠানো হলো।
এর আগে গত শুক্রবার এই মামলায় আরো তিনজনকে তিন দিন করে রিমান্ডে পাঠানো হয়। তারা হলেন ওমর (৩২), মোর্শেদ (২৫) ও মো. শাওন (২৫)।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম রিমান্ড শেষে আসামিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে বাংলামোটরের নিউ ইস্কাটন এলাকায় একটি বাসার সামনে মামলার বাদী মো. সোহানের পথরোধ করেন আসামিরা। এ সময় প্রধান আসামি ফেরদৌস আহমেদ সাইমন তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। সোহান চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সাইমন পিস্তল বের করে তার বুকের দিকে তাক করেন এবং গুলি করার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এক পর্যায়ে সাইমন পিস্তলের বাট দিয়ে সোহানের মাথায় আঘাত করেন। অন্য আসামিরাও তাকে মারধর করেন। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। আহত সোহান স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য যাওয়ার পথে ভগ্নিপতি মো. মোক্তার হোসেন তার কাছে আসেন।
এ সময় সাইমনসহ অন্য আসামিরা মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থলে এসে আবারও সোহানকে মারধরের চেষ্টা করেন। বাধা দিতে গেলে মোক্তার হোসেনকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় সাইমন পিস্তল দিয়ে তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়েন বলে রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন ধাওয়া করে কয়েকজনকে আটক করেন। সাইমনও পালানোর চেষ্টাকালে আটক হন। খবর পেয়ে হাতিরঝিল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়।
এদিকে রিমান্ড শেষে আটক রাখার আবেদনে বলা হয়, চারদিনের রিমান্ডে আসামি এ মামলায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তা যাচাই-বাছাই করার জন্য তাকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন। আসামি জামিন পেলে পলাতক হতে পারেন বলে তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে উল্লেখ করেন।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ
























