বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে ‘গুণী শিক্ষক’ সম্মাননা পাচ্ছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) দুই অধ্যাপক। তারা হলেন অর্থনীতি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. নাসিফ আহসান এবং বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মোরসালিন বিল্লাহ।
আগামীকাল (৫ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেশের ১০০ জন গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেবেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরের ১০০ জন শিক্ষককে এবার এ সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে। তাদের মধ্যে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কারিগরি, মাদরাসা ও সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রয়েছেন।
পাশাপাশি চিকিৎসা, কৃষি, প্রকৌশল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত ক্ষেত্রের শিক্ষকদেরও নির্বাচিত করা হয়েছে।
অধ্যাপক ড. মো. নাসিফ আহসান প্রায় দুই দশক ধরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ডিসিপ্লিন বিভাগে শিক্ষকতা করছেন। ২০০৩ সালে অনার্স শেষ করার পর ২০০৫ সালে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন তিনি।
শিক্ষকতার পাশাপাশি উপকূলীয় মানুষের জীবন ও জীবিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছেন অধ্যাপক নাসিফ আহসান।
২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডরের পর উপকূলের মানুষের দুর্ভোগ কাছ থেকে দেখার পর এ বিষয়ে তার গবেষণার আগ্রহ তৈরি হয়।
তিনি নেদারল্যান্ডসের ওয়াখেনিনগেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ে মাস্টার্স করেন। পরে জাপানের জাতীয় নীতি গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। গবেষণার কাজে টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়েও ভিজিটিং গবেষক হিসেবে কাজ করেছেন তিনি।
অধ্যাপক নাসিফ আহসানের গবেষণার অন্যতম ক্ষেত্র দুর্যোগপ্রবণ উপকূলীয় মানুষের জীবন ও জীবিকা।
কম খরচে আগাম সতর্কীকরণ প্রযুক্তি তৈরি করে উপকূলের মানুষের কাছে স্থানীয় ভাষা বা উপভাষায় দুর্যোগের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়েও কাজ করছেন তিনি।
অন্যদিকে অধ্যাপক ড. মোরসালিন বিল্লাহ জীবপ্রযুক্তি, জীবরসায়ন ও অণুজীববিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণায় কাজ করছেন। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিন থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন, এবং যুক্তরাজ্যের লিডস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জীবরসায়ন ও অণুজীববিজ্ঞানে পিএইচডি সম্পন্ন করেন।
শিক্ষাজীবন ও গবেষণায় আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাও রয়েছে অধ্যাপক মোরসালিন বিল্লার। তিনি লিডস বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ফেলো, ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়ায় পোস্টডক্টরাল গবেষণা বিজ্ঞানী, ব্রিটিশ কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং অধ্যাপক এবং এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং গবেষক ও ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ফেলো হিসেবে কাজ করেছেন।
এ ছাড়া যুক্তরাজ্যের লিংকন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং একাডেমিক ও কমনওয়েলথ রাদারফোর্ড ফেলো হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
তার গবেষণার মধ্যে রয়েছে ধানশিল্পের তরল বর্জ্যকে পরিবেশবান্ধব বায়োপ্লাস্টিকে রূপান্তর, খাদ্য সংরক্ষণের জন্য জীবাণুরোধী প্যাকেজিং তৈরি এবং বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর মধ্যে সার্স-কোভ-২-এর ঝুঁকি ও রোগের মৃত্যুহার নিয়ে গবেষণা।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ





























