শরীরে অতিরিক্ত চর্বি থাকলে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। কিন্তু তাই বলে শরীরে যত কম চর্বি থাকবে, ততই সুস্থ থাকা যাবে- এমন ধারণাও ভুল। হরমোন তৈরি থেকে শুরু করে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, শক্তি সঞ্চয় এবং রোগ প্রতিরোধ- শরীরের গুরুত্বপূর্ণ বহু কাজে চর্বির ভূমিকা রয়েছে। তাই অতিরিক্ত চর্বির মতো খুব কম চর্বিও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
বছরের পর বছর ধরে শরীরের চর্বিকে অনেকটা নেতিবাচকভাবে দেখা হয়েছে। ডায়েট সংস্কৃতিতে চর্বি ঝরানোর ওপর জোর দেওয়া হয়, বিভিন্ন খাদ্যপণ্য কম চর্বিযুক্ত হিসেবে বাজারজাত করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও শরীরের চর্বি যতটা সম্ভব কমিয়ে পেশিবহুল বা ‘শ্রেডেড’ শরীর পাওয়ার নানা পরামর্শ ছড়িয়ে আছে।
এ বছর বিশেষজ্ঞরা উদ্বিগ্ন, ওজন কমানোর প্রবণতা আবারও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এক্ষেত্রে ওষুধের জনপ্রিয়তাও কোথাও কোথাও এই প্রবণতাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। অথচ শরীরে অতিরিক্ত চর্বি যেমন স্থূলতা ও নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ায়, তেমনি চর্বি অত্যন্ত কমে গেলেও শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট ও মেডিসিনের অধ্যাপক এলিফ ওরাল বলেন, “আমাদের চর্বিকে ভালোবাসতে হবে। শরীরে এর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক ভূমিকা রয়েছে।”
তাহলে শরীরে আসলে কতটা চর্বি প্রয়োজন? আর চর্বি অত্যন্ত কমে গেলে কী ঘটে?
চর্বি শুধু শরীরে জমে থাকা পদার্থ নয়
সাধারণভাবে চর্বিকে দুই ধরনের হিসেবে দেখা যায়- খাদ্য থেকে পাওয়া চর্বি এবং শরীরের চর্বি। খাদ্য থেকে পাওয়া চর্বি আমরা বিভিন্ন খাবারের মাধ্যমে গ্রহণ করি। অন্যদিকে শরীরের চর্বি হলো এমন এক ধরনের শক্তির ভান্ডার, যেখানে শরীরের প্রয়োজনের অতিরিক্ত শক্তি জমা থাকে।
আমরা যখন খাবার খাই, তখন খাবারের চর্বি, কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিন ভেঙে শরীরের ব্যবহারযোগ্য উপাদানে পরিণত হয়। কার্বোহাইড্রেট ভেঙে গ্লুকোজ, প্রোটিন ভেঙে অ্যামিনো অ্যাসিড এবং চর্বি ভেঙে ফ্যাটি অ্যাসিড তৈরি হয়।
শরীর যত ক্যালরি খরচ করে, তার চেয়ে নিয়মিত বেশি ক্যালরি গ্রহণ করলে অতিরিক্ত পুষ্টি চর্বিকোষে জমা হতে থাকে। এসব চর্বিকোষকে বলা হয় অ্যাডিপোসাইট। অতিরিক্ত শক্তি জমতে থাকলে কোষগুলোর আকারও বড় হয়।
তবে চর্বি শরীরে শুধু নিষ্ক্রিয়ভাবে জমে থাকে- বিজ্ঞানীরা এখন আর এমনটি মনে করেন না। বরং শরীরের চর্বিকে একটি সক্রিয় অঙ্গ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে।
সুইডেনের ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের ক্লিনিক্যাল ও পরীক্ষামূলক ফ্যাট টিস্যু গবেষণার অধ্যাপক মিকায়েল রাইডেনের মতে, শরীরের চর্বিকে একটি বিশেষায়িত ভান্ডার হিসেবে ভাবা যায়। শরীরে যখন পর্যাপ্ত শক্তি থাকে, তখন এটি অতিরিক্ত পুষ্টি জমা রাখে এবং প্রয়োজনের সময় তা ব্যবহার করতে দেয়।
মানুষের পূর্বপুরুষদের জন্য খাদ্যের সংকটের সময়ে টিকে থাকার ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
হরমোন তৈরিতেও চর্বির ভূমিকা
চর্বির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো শরীরের বিভিন্ন অংশের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি করা।
চর্বিকোষ এমন কিছু হরমোন তৈরি করে, যা শরীরে কতটা শক্তি মজুত আছে এবং আমরা কতটা পরিতৃপ্ত- সে বিষয়ে মস্তিষ্ককে সংকেত দেয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গবেষণা করা হরমোনগুলোর একটি হলো লেপটিন।
অধ্যাপক এলিফ ওরালের ব্যাখ্যায়, লেপটিন মস্তিষ্ককে জানায় যে শরীরে পর্যাপ্ত শক্তি সঞ্চিত আছে। ফলে মস্তিষ্ক শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য কাজ চালিয়ে যেতে পারে।
এর মধ্যে প্রজনন এবং সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রমও রয়েছে।
কিন্তু শরীরে লেপটিনের মাত্রা খুব কমে গেলে মস্তিষ্ক মনে করতে শুরু করে যে শরীরে পর্যাপ্ত শক্তি নেই। তখন শরীর প্রয়োজনীয় নয় এমন অনেক কার্যক্রমকে পিছিয়ে দিতে শুরু করে।
শরীর গরম রাখতেও প্রয়োজন চর্বি
শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণেও চর্বির ভূমিকা রয়েছে। সাদা চর্বি বা হোয়াইট ফ্যাট শরীরে অতিরিক্ত শক্তি জমা রাখার পাশাপাশি তাপ নিরোধক স্তর হিসেবেও কাজ করে। অন্যদিকে বাদামি ও বেইজ চর্বিতে এমন বিশেষ কোষ রয়েছে, যা শক্তি ব্যবহার করে তাপ উৎপন্ন করতে পারে। এর ফলে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখতে সহায়তা করে।
চর্বি খুব কমে গেলে শরীরে কী হয়?
অতিরিক্ত চর্বির স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে আমরা অনেক কিছুই জানি। হৃদরোগ, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, কিছু ধরনের ক্যান্সার এবং অস্টিওআর্থ্রাইটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে অতিরিক্ত চর্বির কারণে। কিন্তু শরীরে চর্বি অত্যন্ত কমে গেলেও গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে।
মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপাকীয় রোগ নিয়ে গবেষণারত জেসিকা মং বলেন, তীব্র ক্যালরি-নিয়ন্ত্রণের কারণে শরীরে চর্বি খুব কমে গেলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ও শারীরবৃত্তীয় কার্যক্রমে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটতে পারে।
শরীরে পর্যাপ্ত চর্বি না থাকলে শরীর শক্তি সঞ্চয়ের চেষ্টা শুরু করে। অনেকটা অনাহারের পরিস্থিতির মতো তখন শরীর শক্তি বাঁচানোর জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম কমিয়ে দিতে থাকে।
এর ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হতে পারে। শরীরে শক্তির মজুত ফুরিয়ে গেলে চর্বির পরিবর্তে পেশি ভাঙতে শুরু করে। একই সময়ে হাড়ের গঠন ও ক্ষয়পূরণও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মেটাবলিক মেডিসিনের অধ্যাপক ফ্রেডরিক কার্পের মতে, এর ফলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে এবং হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
বিশেষ করে গুরুতর সংক্রমণ বা অন্য কোনও চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার মতো শক্তির মজুত তখন শরীরে থাকে না।
হরমোন ও প্রজননেও প্রভাব পড়ে
শরীরে অতিরিক্ত কম চর্বি হরমোনের ভারসাম্যও নষ্ট করতে পারে।
দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত খাবার না খেয়ে খুব বেশি ওজন কমানো পুরুষদের টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে শক্তি ও শারীরিক সক্ষমতাও কমে যেতে পারে।
নারীদের ক্ষেত্রেও শরীরে চর্বির মাত্রা খুব কমে গেলে মাসিক অনিয়মিত হতে পারে, এমনকি কোনও কোনও ক্ষেত্রে মাসিক পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ ও অপর্যাপ্ত খাবারের কারণে খুব কম চর্বিযুক্ত নারী ক্রীড়াবিদদের মধ্যে এ ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
গুরুতর অসুস্থতায় কিছুটা চর্বি কখনও সুরক্ষা দিতে পারে
আশ্চর্যের বিষয় হলো, মধ্য ও বয়স্ক বয়সে শরীরে কিছুটা অতিরিক্ত ওজন থাকা গুরুতর অসুস্থতার সময় বেঁচে থাকার সম্ভাবনার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে- এমন ফলও বিভিন্ন গবেষণায় পাওয়া গেছে।
উদাহরণ হিসেবে, স্থূলতায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি হলেও একই রোগে আক্রান্ত তুলনামূলক রোগা ব্যক্তিদের চেয়ে তাদের মৃত্যুঝুঁকি কিছু ক্ষেত্রে কম দেখা গেছে। এ ঘটনাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘অবেসিটি প্যারাডক্স’ বলা হয়।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, শরীরে থাকা অতিরিক্ত চর্বির মজুত গুরুতর হৃদরোগ, স্ট্রোক বা অন্য আকস্মিক অসুস্থতার সময় শরীরকে কিছুটা সহায়তা করতে পারে।
তবে এর অর্থ এই নয় যে অতিরিক্ত ওজন স্বাস্থ্যকর। বরং এটি দেখায়, শরীরে প্রয়োজনীয় মাত্রায় শক্তির মজুত থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
চর্বি কতটা থাকা স্বাভাবিক?
শরীরে কত শতাংশ চর্বি থাকা আদর্শ- এর কোনও একক উত্তর নেই। বয়স, লিঙ্গ, শারীরিক গঠন, জাতিগত বৈশিষ্ট্য ও জীবনযাত্রার ওপর প্রয়োজনীয় মাত্রা ভিন্ন হতে পারে।
তবে একটি সাধারণ নির্দেশনা অনুযায়ী, সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের শরীরে সাধারণত ১০ থেকে ২০ শতাংশ এবং নারীদের শরীরে ২০ থেকে ২৯ শতাংশ চর্বি থাকতে পারে। স্থূলতার ক্ষেত্রে শরীরের চর্বির পরিমাণ সাধারণত ৩০ শতাংশের বেশি হয়।
তবে ঠিক কোন মাত্রাটি সবার জন্য সবচেয়ে ভালো, তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
ক্রীড়াবিদদের শরীরে সাধারণত চর্বির পরিমাণ আরও কম থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েটের ওয়েন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া পারফরম্যান্স গবেষক তামারা হিউ-বাটলার ও তার সহকর্মীরা ডেক্সা স্ক্যানের মাধ্যমে ৭০০-এর বেশি ক্রীড়াবিদের শরীর পরীক্ষা করেছেন।
তাদের গবেষণায় সবচেয়ে কম শরীরের চর্বি পাওয়া গেছে একজন পুরুষ ক্রীড়াবিদের ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ এবং একজন নারী ক্রীড়াবিদের ক্ষেত্রে ১৬ শতাংশ।
অংশগ্রহণকারীদের কেউ কেউ এতে বিস্মিত হয়েছিলেন। কারণ নিয়মিত কঠোর প্রশিক্ষণ নেওয়া এসব ক্রীড়াবিদের অনেকে মনে করতেন, তাদের শরীরে চর্বির পরিমাণ মাত্র ১ থেকে ২ শতাংশ।
চর্বি কোথায় জমছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ
শুধু শরীরে মোট কতটা চর্বি রয়েছে, তা নয়- চর্বি কোথায় জমছে, সেটিও স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে ভিসেরাল ফ্যাট বা পেটের ভেতরের চর্বি বেশি থাকা ক্ষতিকর। ত্বকের নিচে থাকা চর্বির বিপরীতে ভিসেরাল ফ্যাট গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোর চারপাশে জমে থাকে।
এই চর্বি এমন কিছু প্রদাহজনিত রাসায়নিক নিঃসরণ করে, যা রক্তচাপ বাড়াতে পারে এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতায় বাধা দিতে পারে। ফলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে।
শরীরে কতটা চর্বি আছে, তা কীভাবে মাপবেন?
শরীরে চর্বির পরিমাণ নির্ণয়ের সবচেয়ে বিস্তারিত পদ্ধতিগুলোর একটি হলো ডেক্সা স্ক্যান। এর মাধ্যমে শরীরের চর্বি, পেশি ও হাড়ের পরিমাণ আলাদাভাবে নির্ণয় করা যায়। তবে এ জন্য বিশেষ যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয় এবং পরীক্ষা ব্যয়বহুল হতে পারে।
বাড়িতে ব্যবহারের একটি প্রচলিত পদ্ধতি হলো স্কিনফোল্ড পরীক্ষা। বিশেষ ধরনের ক্যালিপার দিয়ে ত্বকের নিচের চর্বির স্তরের পুরুত্ব মাপা হয়। তবে শরীরের নির্দিষ্ট কিছু জায়গার চর্বিই এতে মাপা যায় এবং পেটের ভেতরের ভিসেরাল ফ্যাট সরাসরি পরিমাপ করা যায় না।
এছাড়া রয়েছে স্মার্ট ওজন মাপার যন্ত্র। এগুলো শরীরের মধ্য দিয়ে অল্প মাত্রার বৈদ্যুতিক প্রবাহ পাঠিয়ে চর্বির পরিমাণ অনুমান করে। কিন্তু শরীরে পানির পরিমাণের তারতম্যের কারণে এসব যন্ত্রের ফল বদলে যেতে পারে। তাই শরীরের চর্বি মাপার ক্ষেত্রে এগুলোকে খুব নির্ভরযোগ্য মনে করা হয় না। এ ধরনের যন্ত্র শরীরের কোথায় চর্বি জমেছে, সেটিও নির্ভুলভাবে জানাতে পারে না।
কোমরের মাপও দিতে পারে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা
সুস্থ থাকার জন্য শরীরে চর্বির পরিমাণ অত্যন্ত নিখুঁতভাবে মাপা সাধারণত জরুরি নয়। বরং শরীরের ওজন ও চর্বি কোথায় জমছে, তা পর্যবেক্ষণের জন্য কয়েকটি সহজ মাপ কাজে আসতে পারে।
এর মধ্যে রয়েছে কোমর ও উচ্চতার অনুপাত। কোমরের পরিধি মেপে সেটিকে উচ্চতা দিয়ে ভাগ করলে এই অনুপাত পাওয়া যায়। সাধারণভাবে প্রায় ০.৪ থেকে ০.৪৯ অনুপাতকে স্বাস্থ্যকর পরিসর হিসেবে ধরা হয়।
আরেকটি হলো কোমর ও নিতম্বের অনুপাত। কোমরের পরিধিকে নিতম্বের সবচেয়ে প্রশস্ত অংশের পরিধি দিয়ে ভাগ করে এটি হিসাব করা হয়। পুরুষের ক্ষেত্রে ০.৯০-এর বেশি এবং নারীর ক্ষেত্রে ০.৮৫-এর বেশি হলে তা বেশি হিসেবে বিবেচিত হয়। কোমরের চারপাশে অতিরিক্ত চর্বি থাকা বিপাকীয় স্বাস্থ্যের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
শরীরের চর্বি বোঝার ক্ষেত্রে বডি মাস ইনডেক্স (বিএমআই)-এরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কারণ বিএমআই শরীরের চর্বি ও পেশির মধ্যে পার্থক্য করতে পারে না। ফলে অনেক পেশিবহুল ও কম চর্বিযুক্ত ব্যক্তির বিএমআই বেশি হতে পারে, যদিও তাদের শরীরে অতিরিক্ত চর্বি নেই।
বয়স বাড়ার সঙ্গে নজর রাখা জরুরি
বয়স বাড়ার সঙ্গে সাধারণত শরীরে চর্বির পরিমাণ বাড়ে, অন্যদিকে পেশি ও হাড়ের পরিমাণ কমতে থাকে। এর ফলে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
তাই বয়স বাড়ার সঙ্গে সুষম খাবার খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম করা এবং শক্তিবর্ধক বা স্ট্রেংথ ট্রেনিং চালিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- শরীরের চর্বিকে পুরোপুরি শত্রু হিসেবে দেখা ঠিক নয়। অতিরিক্ত চর্বি যেমন ক্ষতিকর, তেমনি শরীরে যত কম চর্বি থাকবে তত ভালো- এমন ধারণাও ভুল।
বরং শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক মাত্রায় চর্বি থাকাই গুরুত্বপূর্ণ। চরম মাত্রায় চর্বি কমানোর লক্ষ্য শরীরের স্বাভাবিক জৈবিক কার্যক্রম ব্যাহত করতে পারে।
মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এলিফ ওরালের ভাষায়, “চর্বি শক্তিশালী এবং সুন্দর- দুটিই।”
সূত্র: বিবিসি
বাংলা৭১নিউজ/জেএস




























