টাঙ্গাইলের মধুপুরে বিনামূল্যের পাঠ্যবই কালোবাজারে বিক্রির ঘটনায় তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তদন্তের শুরুতেই বই পাচারের ঘটনায় মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের গাফিলতি খুঁজে পেয়েছে তদন্ত কমিটি।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) তদন্ত কমিটির আহবায়ক এবং টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. সেলিম মিয়া এ তথ্য জানান।
এর আগে বৃহস্পতিবার কমিটির আহ্বায়ক এবং টাঙ্গাইলের অতিরিক্তি জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. সেলিম মিয়ার নেতৃত্বে সরেজমিন তদন্ত হয়।
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গঠিত ৫ সদস্যের কমিটির অন্যান্যরা হলেন মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোপালপুর সার্কেল) ফৌজিয়া হাবিব খান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শাহীন মিয়া এবং জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রেবেকা সুলতানা।
তদন্ত কমিটি শহিদ স্মৃতি উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অবস্থিত মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের দুটি গুদাম পরিদর্শন করেন। শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ভুয়া শিক্ষার্থী দেখিয়ে বাড়তি বই বরাদ্দ এবং পাচার ও কালোবাজারে বিক্রির বিষয়ে জানতে চান।
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার রেবেকা সুলতানা জানান, একটি বইও বাড়তি থাকার কথা নয়। অবিলিকৃত বই বিতরণ কমিটির সভাপতি এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে নিলামে বিক্রির কথা। সেটি ভাঙারি দোকানে কীভাবে গেলো তা দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনায় থানায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই জুয়েল জানান, ঘটনায় ভাঙারি দোকানি ইব্রাহীম হোসেনকে কারাগারে পাঠানো হয়। অন্য আসামি মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের নৈশপ্রহরী তোফায়েল আহমেদ পলাতক। সংরক্ষিত এলাকার গুদাম থেকে কীভাবে পাঠ্যবই পাচার হয়ে কালোবাজারে যায় এবং কারা নেপথ্যে তা খুঁজে বের করা হবে।
তদন্ত কমিটির আহ্বাযক এবং টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. সেলিম মিয়া জানান, বই কেলেঙ্কারির ঘটনায় প্রাথমিকভাবে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের গাফিলতি ও দায়িত্বহীনতার বিষয় চিহিৃত হয়েছে।
টাঙ্গাইলে বিনামূল্যে বিতরণের বই ভাঙারি দোকানেটাঙ্গাইলে বিনামূল্যে বিতরণের বই ভাঙারি দোকানে
মধুপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বাবুল রানা জানান, তদন্ত কমিটি গুদামে প্রায় এক লাখ অবিলিকৃত বই দেখতে পান। তবে আদর্শ ফাজিল মাদ্রাসার গুদামে রাখা ৫ হাজার অবিলিকৃত বই তদন্ত কমিটি দেখতে যাননি।
উল্লেখ্য, এর আগে ১৬ সেপ্টেম্বর উপজেলার নরকোনা এলাকায় কয়েকটি রিকশাভ্যানে করে পাচারে পথে বিপুল পরিমাণ বই আটক করেন স্থানীয়রা।
ওই সময় স্থানীয়রা জানান, ইব্রাহীম হোসেন নামের ওই ভাঙারি দোকানি মাঝেমধ্যে মধুপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের গুদাম থেকে ৬ষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণীর বিনামূল্যের পাঠ্যবই কেজি দরে কিনে এনে বিক্রি করছিলেন। গত মঙ্গলবার তিনি বেশ কিছু পাঠ্যবই ওই গুদাম থেকে কিনে আনেন। তারপর বাড়িতে বাঁধাই করে সেগুলো বুধবার পাচারের পথে সেগুলো জব্দ করা হয়। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করে পুলিশ।
ঘটনাটি জানাজানির পর থেকে ভাঙারি ব্যবসায়ী ইব্রাহীম হোসেন দাবি করে আসছেন, তিনি মধুপুর শিক্ষা অফিসের অনুমোদন সাপেক্ষে নাইট গার্ড তোফায়েল আহমেদের সহযোগিতায় গুদাম থেকে এসব বই কেজি ধরে কিনে এনেছেন। কাজেই তার কোনো দোষ নেই। এই ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত তোফায়েল পলাতক রয়েছে।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ


























