ঢাকা ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশের সব সেচ পাম্প পর্যায়ক্রমে সোলারে রূপান্তর করা হবে: প্রতিমন্ত্রী অমিত

দেশের সব ডিপ ও শ্যালো সেচ পাম্প পর্যায়ক্রমে সৌরশক্তিচালিত পাম্পে রূপান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ ঘাটতি ও ডিজেলের বাড়তি দামের মধ্যেও কৃষক সাশ্রয়ী খরচে সেচ দিতে পারবেন।

শুক্রবার বিকেলে যশোর সদর উপজেলার নদীয়ার মোড়, বর্মনপাড়া ও চাঁচড়া এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার কর্মসূচি নিয়ে আয়োজিত উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলা প্রশাসন, যশোর সদর ও জেলা তথ্য অফিস যৌথভাবে এ বৈঠকের আয়োজন করে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গ্যাস ও কয়লা আমদানি করতে হয়। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম বেড়েছে। আগে প্রতি ইউনিট গ্যাস ৮ থেকে ৯ ডলারে কেনা গেলেও এখন তা বেড়ে ২৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সাময়িক সমস্যা দেখা দিয়েছে।

এর স্থায়ী সমাধানে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, রোদ, বাতাস ও পানি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সেচ মৌসুমে ডিজেলের দাম বাড়া এবং বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে কৃষকের সেচব্যবস্থা ব্যাহত হয়। এতে উৎপাদন খরচও বেড়ে যায়। তাই বিদ্যুৎ ও ডিজেলচালিত সব সেচ পাম্প পর্যায়ক্রমে সৌরশক্তিচালিত পাম্পে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, যশোর সদরের লেবুতলা ইউনিয়নে এরই মধ্যে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়েছে। সেখানে সৌরশক্তিচালিত একটি পাম্প দিয়ে ৫০ থেকে ৬০ বিঘা জমিতে সেচ দেওয়া যাচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রথম ধাপে বরেন্দ্র প্রকল্পসহ সারা দেশে প্রায় ৩৬ হাজার সেচ পাম্প চিহ্নিত করে সোলারে রূপান্তরের কাজ শুরু হচ্ছে। এ জন্য সরকার নিজস্ব বাজেট অথবা বৈদেশিক সহায়তা থেকে অর্থের সংস্থান করবে।

বৈঠকে বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন। এতে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত অগ্রাধিকার কর্মসূচি ও স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও এলাকার সাধারণ মানুষ এতে অংশ নেন।

আয়োজকেরা জানান, এ ধরনের বৈঠকের মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সরাসরি জানানো হচ্ছে। পাশাপাশি তাঁদের মতামত ও পরামর্শও নেওয়া হচ্ছে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

দেশের সব সেচ পাম্প পর্যায়ক্রমে সোলারে রূপান্তর করা হবে: প্রতিমন্ত্রী অমিত

আপডেট সময় ১১:৫৮:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের সব ডিপ ও শ্যালো সেচ পাম্প পর্যায়ক্রমে সৌরশক্তিচালিত পাম্পে রূপান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ ঘাটতি ও ডিজেলের বাড়তি দামের মধ্যেও কৃষক সাশ্রয়ী খরচে সেচ দিতে পারবেন।

শুক্রবার বিকেলে যশোর সদর উপজেলার নদীয়ার মোড়, বর্মনপাড়া ও চাঁচড়া এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার কর্মসূচি নিয়ে আয়োজিত উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলা প্রশাসন, যশোর সদর ও জেলা তথ্য অফিস যৌথভাবে এ বৈঠকের আয়োজন করে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য গ্যাস ও কয়লা আমদানি করতে হয়। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম বেড়েছে। আগে প্রতি ইউনিট গ্যাস ৮ থেকে ৯ ডলারে কেনা গেলেও এখন তা বেড়ে ২৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এ কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সাময়িক সমস্যা দেখা দিয়েছে।

এর স্থায়ী সমাধানে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, রোদ, বাতাস ও পানি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সেচ মৌসুমে ডিজেলের দাম বাড়া এবং বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে কৃষকের সেচব্যবস্থা ব্যাহত হয়। এতে উৎপাদন খরচও বেড়ে যায়। তাই বিদ্যুৎ ও ডিজেলচালিত সব সেচ পাম্প পর্যায়ক্রমে সৌরশক্তিচালিত পাম্পে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, যশোর সদরের লেবুতলা ইউনিয়নে এরই মধ্যে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন হয়েছে। সেখানে সৌরশক্তিচালিত একটি পাম্প দিয়ে ৫০ থেকে ৬০ বিঘা জমিতে সেচ দেওয়া যাচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রথম ধাপে বরেন্দ্র প্রকল্পসহ সারা দেশে প্রায় ৩৬ হাজার সেচ পাম্প চিহ্নিত করে সোলারে রূপান্তরের কাজ শুরু হচ্ছে। এ জন্য সরকার নিজস্ব বাজেট অথবা বৈদেশিক সহায়তা থেকে অর্থের সংস্থান করবে।

বৈঠকে বিশেষ অতিথি ছিলেন যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন। এতে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত অগ্রাধিকার কর্মসূচি ও স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও এলাকার সাধারণ মানুষ এতে অংশ নেন।

আয়োজকেরা জানান, এ ধরনের বৈঠকের মাধ্যমে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সরাসরি জানানো হচ্ছে। পাশাপাশি তাঁদের মতামত ও পরামর্শও নেওয়া হচ্ছে।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস