রাজধানীর গুলশানে ককটেল বিস্ফোরণ ও নাশকতার অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের আরো চার আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন মাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
আসামিরা হলেন সহিম উদ্দিন (৩০), তুষার (২৭), সাদমান সাকিব (৩৬) ও আল আমিন মৃধা (৪৫)।
এদিন আসামিদের আদালতে হাজির করে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গুলশান থানার উপ-পরিদর্শক মো. রুহুল আমিন। অপরদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. রিয়াজ মোরশেদ মাহিম তাদের জামিন চেয়ে শুনানি করেন। তবে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে গত বুধবার এ মামলায় দুই আসামিকে সাত দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। গত মঙ্গলবার আরো সাতজনকে কারাগারে পাঠান আদালত। এরও আগে রবিবার ৯ জন এবং সোমবার আরো ৯ জনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠান আদালত।
গত শনিবার এই মামলায় ২৪ জনকে রিমান্ডে পাঠান আদালত।
আজ নতুন করে আরো চারজনকে কারাগারে পাঠানো হলো। মামলাটিতে এ পর্যন্ত রিমান্ডপ্রাপ্ত ও কারাগারে যাওয়া আসামির সংখ্যা দাঁড়াল ৫৫ জন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, রাজধানীর গুলশান থানাধীন এলাকায় গত ১১ সেপ্টেম্বর দুপুর পৌনে ১২টায় নির্বাচিত সরকারের ভাবমূর্তি নস্যাৎ করাসহ সরকারবিরোধী এজেন্ডা বাস্তবায়ন ও সরকারকে বেকায়দায় ফেলার লক্ষ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সমবেত হন। তারা সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান প্রদান এবং বিশৃঙ্খলা করার লক্ষ্যে সমাবেশের আয়োজন করেন।
এ সময় তারা ঘটনাস্থল ও আশপাশ এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন।
অজ্ঞাতনামা আসামিরা নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠনের সদস্য হয়ে নিষিদ্ধ সত্ত্বাকে সমর্থন করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নসহ রাষ্ট্রীয় সম্পদ ও জনগণের জান-মালের ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে তথা সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান প্রদান ও বিশৃঙ্খলা করার লক্ষ্যে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান।
পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে পুলিশের উদ্দেশ্যে ককটেল নিক্ষেপ করে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়লে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যান। এ সময় পাঁচটি ককটেল জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় গুলশান থানার উপপরিদর্শক মো. মাহবুব হোসাইন বাদী হয়ে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা করেন। মামলায় ১১৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৮০/১০০ জনকে আসামি করা হয়।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ






















