ঢাকা ০৫:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মালয়ালমে রেকর্ড, ২৫ কোটি বাজেটে আয় ৩১০ কোটি!

মাত্র ২৫ কোটি রুপি বাজেটে নির্মিত সিনেমা আয় করেছে ৩১০ কোটি রুপির বেশি! নিভিন পাউলি ও মমিতা বাইজু অভিনীত ‘বেথলেহেম কুদুম্বা ইউনিট’ মুক্তির ২৬তম দিনেই এই মাইলফলক স্পর্শ করেছে। শুধু ব্যবসায়িক সাফল্য নয়, এর মধ্য দিয়ে মালয়ালম ভাষার সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমার রেকর্ডও গড়েছে ছবিটি।

এর আগে এই রেকর্ড ছিল ‘লোকাহ চ্যাপটার ১: চন্দ্র’-এর দখলে। ২৪তম দিনেই ছবিটিকে পেছনে ফেলে দেয় ‘বেথলেহেম কুদুম্বা ইউনিট’। তখন ছবিটির বিশ্বব্যাপী আয় ছিল ৩০৪ কোটি ৯৫ লাখ রুপি। অন্যদিকে ‘লোকাহ চ্যাপটার ১: চন্দ্র’-এর লাইফটাইম আয় ছিল ৩০১ কোটি ৪১ লাখ রুপি।

ভারতীয় বক্স অফিসের হিসাব দেওয়া প্রতিষ্ঠান স্যাকনিল্কের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ সেপ্টেম্বর ভারতে ছবিটির নেট আয় হয়েছে ১ কোটি ৪০ লাখ রুপি। এদিন ১ হাজার ৪১২টি প্রদর্শনীতে ছবিটির গড় দর্শক উপস্থিতি ছিল ২৪ দশমিক ৭ শতাংশ। ফলে ভারতে সিনেমাটির মোট নেট আয় দাঁড়িয়েছে ১৪৯ কোটি ৯০ লাখ রুপি। বিদেশের বাজার থেকে এসেছে আরও ১৩৫ কোটি ৫০ লাখ রুপি।

সব মিলিয়ে বিশ্বব্যাপী আয় ৩১০ কোটি ৫৫ লাখ রুপি।

মুক্তির চতুর্থ সপ্তাহেও ছবিটির ব্যবসায় বড় ধরনের ভাটা দেখা যায়নি। ১১ সেপ্টেম্বর ২ কোটি ৫০ লাখ রুপি আয় করে ‘বেথলেহেম কুদুম্বা ইউনিট’। পরদিন শনিবার আয় বেড়ে দাঁড়ায় ৩ কোটি ৮৫ লাখ রুপি। রোববার সবচেয়ে ভালো ব্যবসা করে ছবিটি—আয় হয় ৪ কোটি ৬০ লাখ রুপি।

সোমবারও ২ কোটি ১০ লাখ রুপি যোগ হয়। এরপর মঙ্গলবার আয় কিছুটা কমে দাঁড়ায় ১ কোটি ৪০ লাখ রুপি।

প্রথম সপ্তাহে ছবিটির আয় ছিল ৫২ কোটি ৩০ লাখ রুপি। দ্বিতীয় সপ্তাহে ৪৯ কোটি ৮৫ লাখ এবং তৃতীয় সপ্তাহে ৩৩ কোটি ৩০ লাখ রুপি আয় করে সিনেমাটি। চতুর্থ সপ্তাহেও দর্শকদের আগ্রহ ধরে রাখতে পারায় দ্রুত বাড়ছে এর মোট আয়।

ছবিটির সাফল্যে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে মালয়ালম সংস্করণ। এখন পর্যন্ত এই সংস্করণ থেকে আয় হয়েছে ১৪৩ কোটি ২৫ লাখ রুপি। মুক্তির ২৬তম দিনে ১ হাজার ২৫৭টি প্রদর্শনী থেকে মালয়ালম সংস্করণ আয় করেছে ১ কোটি ২৫ লাখ রুপি। তেলুগু সংস্করণ থেকে এসেছে ৩ কোটি ৫২ লাখ এবং তামিল সংস্করণ থেকে ৩ কোটি ১৩ লাখ রুপি।

বর্তমানে মালয়ালম সিনেমার সর্বোচ্চ আয় করা ছবির তালিকায় ‘বেথলেহেম কুদুম্বা ইউনিট’-এর পর রয়েছে ‘লোকাহ চ্যাপটার ১: চন্দ্র’। প্রায় ২৬২ কোটি রুপি আয় নিয়ে তৃতীয় স্থানে ‘এল ২: এমপুরান’। এরপর প্রায় ২৩৫ কোটি রুপি আয় নিয়ে ‘ভাঝা ২: বায়োপিক অব আ বিলিয়ন ব্রোস’ এবং প্রায় ২৩২ কোটি রুপি আয় নিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছে ‘থুদারুম’।

মাত্র ২৫ কোটি রুপি বাজেটে নির্মিত এই সিনেমার বর্তমান আয় তাই নির্মাণ ব্যয়ের তুলনায় অনেক গুণ বেশি। একই সঙ্গে এটি নিভিন পাউলির ক্যারিয়ারেরও সবচেয়ে বড় বক্স অফিস সাফল্য।

ছবিটির সাফল্যের পেছনে পরিবারের দর্শকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করেন নিভিন। ‘ভ্যারাইটি ইন্ডিয়া’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিনেতা বলেন, এটি তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় হিট। ছবিটির সাফল্যের কৃতিত্ব তিনি পুরো দলের পাশাপাশি বিশেষভাবে পরিচালক গিরিশ এ ডিকে দিয়েছেন।

নিভিনের মতে, বয়সের ব্যবধান থাকা প্রেমের গল্প, হাস্যরস এবং ছবিটির নির্মাণশৈলী দর্শকের কাছে ভালোভাবে গ্রহণযোগ্য হয়েছে। ভারতীয় সিনেমার ব্যবসায় পরিবারের দর্শকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও মনে করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, পরিবারের সবাই কোনো সিনেমা পছন্দ করলে টিকিট বিক্রির পাশাপাশি প্রেক্ষাগৃহের অন্যান্য ব্যবসাও লাভবান হয়।

পরিচালক গিরিশ এ ডির ‘বেথলেহেম কুদুম্বা ইউনিট’-এর গল্প অ্যাশলি নামের এক তরুণী ও তাঁর বয়সে বড় প্রতিবেশী জাস্টিনকে ঘিরে। বয়সের পার্থক্যকে কেন্দ্র করে তৈরি প্রেমের গল্পের সঙ্গে এতে রয়েছে হাস্যরস, আবেগ ও পারিবারিক নানা টানাপোড়েন।

নিভিন পাউলি ও মমিতা বাইজুর সঙ্গে ছবিটিতে অভিনয় করেছেন সংগীত প্রতাপ, সুরেশ কৃষ্ণ, বিনয় ফোর্ট, রোশন শানাভাস ও শ্যাম মোহন।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

মালয়ালমে রেকর্ড, ২৫ কোটি বাজেটে আয় ৩১০ কোটি!

আপডেট সময় ০৪:৪৫:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মাত্র ২৫ কোটি রুপি বাজেটে নির্মিত সিনেমা আয় করেছে ৩১০ কোটি রুপির বেশি! নিভিন পাউলি ও মমিতা বাইজু অভিনীত ‘বেথলেহেম কুদুম্বা ইউনিট’ মুক্তির ২৬তম দিনেই এই মাইলফলক স্পর্শ করেছে। শুধু ব্যবসায়িক সাফল্য নয়, এর মধ্য দিয়ে মালয়ালম ভাষার সর্বোচ্চ আয় করা সিনেমার রেকর্ডও গড়েছে ছবিটি।

এর আগে এই রেকর্ড ছিল ‘লোকাহ চ্যাপটার ১: চন্দ্র’-এর দখলে। ২৪তম দিনেই ছবিটিকে পেছনে ফেলে দেয় ‘বেথলেহেম কুদুম্বা ইউনিট’। তখন ছবিটির বিশ্বব্যাপী আয় ছিল ৩০৪ কোটি ৯৫ লাখ রুপি। অন্যদিকে ‘লোকাহ চ্যাপটার ১: চন্দ্র’-এর লাইফটাইম আয় ছিল ৩০১ কোটি ৪১ লাখ রুপি।

ভারতীয় বক্স অফিসের হিসাব দেওয়া প্রতিষ্ঠান স্যাকনিল্কের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ সেপ্টেম্বর ভারতে ছবিটির নেট আয় হয়েছে ১ কোটি ৪০ লাখ রুপি। এদিন ১ হাজার ৪১২টি প্রদর্শনীতে ছবিটির গড় দর্শক উপস্থিতি ছিল ২৪ দশমিক ৭ শতাংশ। ফলে ভারতে সিনেমাটির মোট নেট আয় দাঁড়িয়েছে ১৪৯ কোটি ৯০ লাখ রুপি। বিদেশের বাজার থেকে এসেছে আরও ১৩৫ কোটি ৫০ লাখ রুপি।

সব মিলিয়ে বিশ্বব্যাপী আয় ৩১০ কোটি ৫৫ লাখ রুপি।

মুক্তির চতুর্থ সপ্তাহেও ছবিটির ব্যবসায় বড় ধরনের ভাটা দেখা যায়নি। ১১ সেপ্টেম্বর ২ কোটি ৫০ লাখ রুপি আয় করে ‘বেথলেহেম কুদুম্বা ইউনিট’। পরদিন শনিবার আয় বেড়ে দাঁড়ায় ৩ কোটি ৮৫ লাখ রুপি। রোববার সবচেয়ে ভালো ব্যবসা করে ছবিটি—আয় হয় ৪ কোটি ৬০ লাখ রুপি।

সোমবারও ২ কোটি ১০ লাখ রুপি যোগ হয়। এরপর মঙ্গলবার আয় কিছুটা কমে দাঁড়ায় ১ কোটি ৪০ লাখ রুপি।

প্রথম সপ্তাহে ছবিটির আয় ছিল ৫২ কোটি ৩০ লাখ রুপি। দ্বিতীয় সপ্তাহে ৪৯ কোটি ৮৫ লাখ এবং তৃতীয় সপ্তাহে ৩৩ কোটি ৩০ লাখ রুপি আয় করে সিনেমাটি। চতুর্থ সপ্তাহেও দর্শকদের আগ্রহ ধরে রাখতে পারায় দ্রুত বাড়ছে এর মোট আয়।

ছবিটির সাফল্যে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে মালয়ালম সংস্করণ। এখন পর্যন্ত এই সংস্করণ থেকে আয় হয়েছে ১৪৩ কোটি ২৫ লাখ রুপি। মুক্তির ২৬তম দিনে ১ হাজার ২৫৭টি প্রদর্শনী থেকে মালয়ালম সংস্করণ আয় করেছে ১ কোটি ২৫ লাখ রুপি। তেলুগু সংস্করণ থেকে এসেছে ৩ কোটি ৫২ লাখ এবং তামিল সংস্করণ থেকে ৩ কোটি ১৩ লাখ রুপি।

বর্তমানে মালয়ালম সিনেমার সর্বোচ্চ আয় করা ছবির তালিকায় ‘বেথলেহেম কুদুম্বা ইউনিট’-এর পর রয়েছে ‘লোকাহ চ্যাপটার ১: চন্দ্র’। প্রায় ২৬২ কোটি রুপি আয় নিয়ে তৃতীয় স্থানে ‘এল ২: এমপুরান’। এরপর প্রায় ২৩৫ কোটি রুপি আয় নিয়ে ‘ভাঝা ২: বায়োপিক অব আ বিলিয়ন ব্রোস’ এবং প্রায় ২৩২ কোটি রুপি আয় নিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছে ‘থুদারুম’।

মাত্র ২৫ কোটি রুপি বাজেটে নির্মিত এই সিনেমার বর্তমান আয় তাই নির্মাণ ব্যয়ের তুলনায় অনেক গুণ বেশি। একই সঙ্গে এটি নিভিন পাউলির ক্যারিয়ারেরও সবচেয়ে বড় বক্স অফিস সাফল্য।

ছবিটির সাফল্যের পেছনে পরিবারের দর্শকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করেন নিভিন। ‘ভ্যারাইটি ইন্ডিয়া’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিনেতা বলেন, এটি তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় হিট। ছবিটির সাফল্যের কৃতিত্ব তিনি পুরো দলের পাশাপাশি বিশেষভাবে পরিচালক গিরিশ এ ডিকে দিয়েছেন।

নিভিনের মতে, বয়সের ব্যবধান থাকা প্রেমের গল্প, হাস্যরস এবং ছবিটির নির্মাণশৈলী দর্শকের কাছে ভালোভাবে গ্রহণযোগ্য হয়েছে। ভারতীয় সিনেমার ব্যবসায় পরিবারের দর্শকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও মনে করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, পরিবারের সবাই কোনো সিনেমা পছন্দ করলে টিকিট বিক্রির পাশাপাশি প্রেক্ষাগৃহের অন্যান্য ব্যবসাও লাভবান হয়।

পরিচালক গিরিশ এ ডির ‘বেথলেহেম কুদুম্বা ইউনিট’-এর গল্প অ্যাশলি নামের এক তরুণী ও তাঁর বয়সে বড় প্রতিবেশী জাস্টিনকে ঘিরে। বয়সের পার্থক্যকে কেন্দ্র করে তৈরি প্রেমের গল্পের সঙ্গে এতে রয়েছে হাস্যরস, আবেগ ও পারিবারিক নানা টানাপোড়েন।

নিভিন পাউলি ও মমিতা বাইজুর সঙ্গে ছবিটিতে অভিনয় করেছেন সংগীত প্রতাপ, সুরেশ কৃষ্ণ, বিনয় ফোর্ট, রোশন শানাভাস ও শ্যাম মোহন।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ