ঢাকা ১২:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শরীরে জিংকের ঘাটতির ৩ লক্ষণ

অজান্তেই জিংকের ঘাটতি দেখা দিচ্ছে না তো, জেনে নিন এই ৩ লক্ষণে

স্বাভাবিকভাবে খাদ্যতালিকায় প্রোটিন ও ফাইবারের মাত্রা বজায় রাখার জন্য আমরা যতটা সচেতন, বিপরীতে বিপাকীয় স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি অনেক পুষ্টি উপাদানের কথা খেয়াল থাকে না। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে জিংক। এটি এমন অপরিহার্য খনিজ, যা রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী রাখার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি উপাদান।

সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের ব্যাঙ্গালুরুর অস্টার সিএমআই হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. ব্রিন্দা এম এস জানিয়েছেন, ক্ষত নিরাময়, ডিএনএ ও প্রোটিন তৈরি, স্বাভাবিক শারীরিক বৃদ্ধি, ত্বক সুস্থ রাখা এবং ঘ্রাণ ও স্বাদের অনুভূতি ঠিক রাখার জন্য জিংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। কিন্তু শরীরে গুরুত্বপূর্ণ এই উপাদানটির ঘাটতি দেখা দিলেই বিপত্তি।

জিংকের ঘাটতি দেখা দেয় কেন:
ডা. ব্রিন্দা জানিয়েছেন, খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত জিংকযুক্ত খাবারের অভাব থাকলে, পাচনতন্ত্রের সমস্যার জন্য শরীর জিংক ঠিকমত গ্রহণ করতে না পারলে, অন্তঃসত্ত্বা বা শারীরিক বৃদ্ধির সময় এর চাহিদা বেড়ে গেলে, দীর্ঘস্থায়ী কোনো রোগ থাকলে বা জিংকসমৃদ্ধ খাবার কম খাওয়া হলে গুরুত্বপূর্ণ এই উপাদানটির ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

তার মতে―বারবার সংক্রমণ, ক্ষত শুকাতে বেশি সময় লাগা, চুল পড়া, ত্বক শুষ্ক বা খসখসে হওয়া, ক্ষুধাভাব কমা এবং স্বাদ বা ঘ্রাণশক্তির পরিবর্তন জিংকের ঘাটতির সাধারণ লক্ষণ।

অচেনা ৩ সংকেত:
নখে সাদা দাগ বা রেখা: এটি অন্যসব পুষ্টির সমস্যার কারণে হতে পারে। এ জন্য নখে সাদা দাগ বা রেখার সমস্যাকে প্রথমেই বা সরাসরি জিংকের অভাব বলে চিহ্নিত করা যাবে না। তবে বিষয়টি অবহেলাও করা যাবে না।

হঠাৎ স্বাদ বা ঘ্রাণশক্তিতে পরিবর্তন: হঠাৎ করেই খাবার স্বাদহীন মনে হতে পারে। কখনো কখনো চিরচেনা ঘ্রাণও সহজে অনুধাবন করতে সমস্যা হতে পারে। বিষয়টি লক্ষণীয়।

বারবার ডায়রিয়া বা পেটের অস্বস্তি: জিংকের ঘাটতি অনেক সময় পাচনতন্ত্র এবং রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যকারিতার ওপর প্রভাব ফেলে।

ডা. ব্রিন্দা আরও মনে করিয়ে দেন, এসব লক্ষণগুলোর পেছনে অন্য কোনো কারণও থাকতে পারে। এসব জিংকের ঘাটতির একক কোনো লক্ষণ নয়। এসব লক্ষণে তাই বিচলিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

অন্য যেসব লক্ষণে সতর্ক থাকতে হবে:

এ ব্যাপারে ডা. ব্রিন্দা বলেন, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের শারীরিক বৃদ্ধি বা বয়ঃসন্ধিতে বিলম্ব হওয়া, রাতের বেলা চোখে দেখতে সমস্যা হওয়া, মনোযোগ বা মেজাজের সমস্যা এবং সংক্রমণে অস্বাভাবিকভাবে সংবেদনশীল হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

কারা বেশি ঝুঁকিতে:
চিকিৎসকের মতে, নির্দিষ্ট বিধিনিষেধযুক্ত খাদ্যাভ্যাস মেনে চলা ব্যক্তি, যাদের পুষ্টি শোষণে সমস্যা রয়েছে, অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান করেন বা শারীরিক পুষ্টির চাহিদা বেশি, তারা বেশি ঝুঁকিতে। এ জন্য নিজের মতো জিংকের উচ্চমাত্রার সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষার পর তবেই পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত।

এছাড়া ডা. ব্রিন্দা অতিরিক্ত জিংক গ্রহণের ব্যাপারে সতর্ক করে বলেন, এটি বমি বমি ভাব, পেটের সমস্যা, কপার শোষণে বাধা সৃষ্টি করা ও রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস করে দেয়াসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে জিংক গ্রহণের নিরাপদ উপায় হচ্ছে খাবারের মাধ্যমে গ্রহণ করা। যেমন- শিম, মসুর ডাল, ছোলা, দুগ্ধজাত খাবার, বাদাম, বীজ, গোটাশস্য, ডিম এবং আমিষভোজীদের জন্য মাংস ও সামুদ্রিক মাছ।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস

Tag :

শরীরে জিংকের ঘাটতির ৩ লক্ষণ

আপডেট সময় ০৯:৪৮:৫৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্বাভাবিকভাবে খাদ্যতালিকায় প্রোটিন ও ফাইবারের মাত্রা বজায় রাখার জন্য আমরা যতটা সচেতন, বিপরীতে বিপাকীয় স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি অনেক পুষ্টি উপাদানের কথা খেয়াল থাকে না। এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে জিংক। এটি এমন অপরিহার্য খনিজ, যা রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী রাখার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি উপাদান।

সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের ব্যাঙ্গালুরুর অস্টার সিএমআই হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. ব্রিন্দা এম এস জানিয়েছেন, ক্ষত নিরাময়, ডিএনএ ও প্রোটিন তৈরি, স্বাভাবিক শারীরিক বৃদ্ধি, ত্বক সুস্থ রাখা এবং ঘ্রাণ ও স্বাদের অনুভূতি ঠিক রাখার জন্য জিংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। কিন্তু শরীরে গুরুত্বপূর্ণ এই উপাদানটির ঘাটতি দেখা দিলেই বিপত্তি।

জিংকের ঘাটতি দেখা দেয় কেন:
ডা. ব্রিন্দা জানিয়েছেন, খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত জিংকযুক্ত খাবারের অভাব থাকলে, পাচনতন্ত্রের সমস্যার জন্য শরীর জিংক ঠিকমত গ্রহণ করতে না পারলে, অন্তঃসত্ত্বা বা শারীরিক বৃদ্ধির সময় এর চাহিদা বেড়ে গেলে, দীর্ঘস্থায়ী কোনো রোগ থাকলে বা জিংকসমৃদ্ধ খাবার কম খাওয়া হলে গুরুত্বপূর্ণ এই উপাদানটির ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

তার মতে―বারবার সংক্রমণ, ক্ষত শুকাতে বেশি সময় লাগা, চুল পড়া, ত্বক শুষ্ক বা খসখসে হওয়া, ক্ষুধাভাব কমা এবং স্বাদ বা ঘ্রাণশক্তির পরিবর্তন জিংকের ঘাটতির সাধারণ লক্ষণ।

অচেনা ৩ সংকেত:
নখে সাদা দাগ বা রেখা: এটি অন্যসব পুষ্টির সমস্যার কারণে হতে পারে। এ জন্য নখে সাদা দাগ বা রেখার সমস্যাকে প্রথমেই বা সরাসরি জিংকের অভাব বলে চিহ্নিত করা যাবে না। তবে বিষয়টি অবহেলাও করা যাবে না।

হঠাৎ স্বাদ বা ঘ্রাণশক্তিতে পরিবর্তন: হঠাৎ করেই খাবার স্বাদহীন মনে হতে পারে। কখনো কখনো চিরচেনা ঘ্রাণও সহজে অনুধাবন করতে সমস্যা হতে পারে। বিষয়টি লক্ষণীয়।

বারবার ডায়রিয়া বা পেটের অস্বস্তি: জিংকের ঘাটতি অনেক সময় পাচনতন্ত্র এবং রোগ-প্রতিরোধ ব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যকারিতার ওপর প্রভাব ফেলে।

ডা. ব্রিন্দা আরও মনে করিয়ে দেন, এসব লক্ষণগুলোর পেছনে অন্য কোনো কারণও থাকতে পারে। এসব জিংকের ঘাটতির একক কোনো লক্ষণ নয়। এসব লক্ষণে তাই বিচলিত না হয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

অন্য যেসব লক্ষণে সতর্ক থাকতে হবে:

এ ব্যাপারে ডা. ব্রিন্দা বলেন, শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের শারীরিক বৃদ্ধি বা বয়ঃসন্ধিতে বিলম্ব হওয়া, রাতের বেলা চোখে দেখতে সমস্যা হওয়া, মনোযোগ বা মেজাজের সমস্যা এবং সংক্রমণে অস্বাভাবিকভাবে সংবেদনশীল হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

কারা বেশি ঝুঁকিতে:
চিকিৎসকের মতে, নির্দিষ্ট বিধিনিষেধযুক্ত খাদ্যাভ্যাস মেনে চলা ব্যক্তি, যাদের পুষ্টি শোষণে সমস্যা রয়েছে, অতিরিক্ত অ্যালকোহল পান করেন বা শারীরিক পুষ্টির চাহিদা বেশি, তারা বেশি ঝুঁকিতে। এ জন্য নিজের মতো জিংকের উচ্চমাত্রার সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষার পর তবেই পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত।

এছাড়া ডা. ব্রিন্দা অতিরিক্ত জিংক গ্রহণের ব্যাপারে সতর্ক করে বলেন, এটি বমি বমি ভাব, পেটের সমস্যা, কপার শোষণে বাধা সৃষ্টি করা ও রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস করে দেয়াসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে জিংক গ্রহণের নিরাপদ উপায় হচ্ছে খাবারের মাধ্যমে গ্রহণ করা। যেমন- শিম, মসুর ডাল, ছোলা, দুগ্ধজাত খাবার, বাদাম, বীজ, গোটাশস্য, ডিম এবং আমিষভোজীদের জন্য মাংস ও সামুদ্রিক মাছ।

বাংলা৭১নিউজ/জেএস