ঢাকা ০৮:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় পদ্ধতিগত দুর্বলতা পেয়েছে সংসদীয় কমিটি Logo নামাজরত অবস্থায় বৃদ্ধাকে কুপিয়ে হত্যা, প্রধান আসামিসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo ৭ বছরের শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ বৃদ্ধের বিরুদ্ধে Logo অনুষ্ঠানের স্ক্রিনে ভেসে উঠল দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার ছবি, দুই শিক্ষককে শোকজ Logo সর্বজনীন পেনশন স্কিমে মুনাফার হার বাড়ল Logo ইরানে সামরিক হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ Logo আগস্টে এপিবিএনের অভিযানে গ্রেপ্তার ৮০০, উদ্ধার সাড়ে ৯ কোটি টাকার স্বর্ণ Logo হুতিদের নিয়ন্ত্রণে মরিয়া সৌদি, এবার ইরানের সহায়তা চাইল চীন Logo রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর সৌজন্য সাক্ষাৎ Logo রুশ তেল কেনায় নতুন মার্কিন শুল্ক, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে ভারতের সতর্কতা

সর্বজনীন পেনশন স্কিমে মুনাফার হার বাড়ল

সর্বজনীন পেনশন স্কিমের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বিনিয়োগের বিপরীতে গ্রাহকদের মুনাফার হার ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের (এনপিএ) পরিচালনা পর্ষদের চতুর্থ সভায় এই হারে মুনাফা প্রদানের অনুমোদন দেওয়া হয়।

এদিন দুপুরে অর্থ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চতুর্থ সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচ্য সূচি অনুযায়ী এদিন সভা পরিচালনা করেন বোর্ডের সদস্য সচিব জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান।

সভায় সর্বজনীন পেনশন স্কিমের কার্যক্রম পর্যালোচনার পাশাপাশি গ্রাহকদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ এবং স্কিমের বিনিয়োগ ও ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চতুর্থ সভায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিনিয়োগকৃত অর্থের বিপরীতে গ্রাহকদের মুনাফা প্রদানের বিষয়টি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল।

আলোচনার পর বাড়তি মুনাফা প্রদানের অনুমোদন দেওয়া হয়। এর ফলে সংশ্লিষ্ট অর্থবছরের বিনিয়োগের বিপরীতে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের গ্রাহকদের হিসাবে নির্ধারিত হারে মুনাফা যুক্ত হবে। এ ছাড়াও সভায় সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাকে আরও জনবান্ধব ও অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে পেনশনারের মৃত্যুর পর তার নমিনিকে ৭৫ বছরের পরিবর্তে ৮০ বছর পর্যন্ত পেনশন প্রদানের সুযোগ রাখার বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়।

এদিন সভায় সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় ইসলামিক ভার্সন চালুর প্রস্তাবও গুরুত্ব পায়। প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা স্কিমের শরিয়াহভিত্তিক সংস্করণ চালুর বিষয়েও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগের মাধ্যমে এ ধরনের স্কিম পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি হলে দেশের মুসলিম জনগোষ্ঠীর একটি অংশকে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় আরও বেশি সম্পৃক্ত করা সম্ভব হবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

এ ছাড়াও সভায় চাঁদাদাতাদের জন্য বিশেষ পরিস্থিতিতে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়। ন্যূনতম ৫ বছর চাঁদা জমা দেওয়ার পর শারীরিক বা আর্থিক অক্ষমতার মতো বিশেষ পরিস্থিতিতে নির্ধারিত শর্তে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেয়ার প্রস্তাব বিবেচনার জন্য সুনির্দিষ্ট সুপারিশসহ প্রস্তাব করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

এদিকে গ্রাহক নিবন্ধন বাড়াতে সভায় ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারকে প্রদেয় কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাবও আলোচিত হয়। এ ক্ষেত্রে বর্তমানে প্রদেয় কমিশন ১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। একইসঙ্গে ব্যাংক, ডাক বিভাগ ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসসহ অন্যান্য অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের কমিশন নির্ধারণের বিষয়টিও এদিন আলোচনায় উঠে আসে। এ ছাড়াও সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় স্বাস্থ্যবীমা চালুর বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়।

অন্যদিকে পরিচালনা পর্ষদের সভায় আগের সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়। সেই সঙ্গে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাকে আরও টেকসই, কার্যকর ও গ্রাহকবান্ধব করতে বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শেষে পরবর্তী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেয়া হয়। সভায় অর্থ সচিবসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান, এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসকসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তার আওতায় আনার লক্ষ্যেই সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। গ্রাহকদের আস্থা বৃদ্ধি, বিনিয়োগের সুফল প্রদান এবং নতুন সুযোগ-সুবিধা যুক্ত করার মাধ্যমে স্কিমটির পরিধি আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

বিদেশে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় পদ্ধতিগত দুর্বলতা পেয়েছে সংসদীয় কমিটি

সর্বজনীন পেনশন স্কিমে মুনাফার হার বাড়ল

আপডেট সময় ০৭:২৪:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সর্বজনীন পেনশন স্কিমের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বিনিয়োগের বিপরীতে গ্রাহকদের মুনাফার হার ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের (এনপিএ) পরিচালনা পর্ষদের চতুর্থ সভায় এই হারে মুনাফা প্রদানের অনুমোদন দেওয়া হয়।

এদিন দুপুরে অর্থ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চতুর্থ সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচ্য সূচি অনুযায়ী এদিন সভা পরিচালনা করেন বোর্ডের সদস্য সচিব জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান।

সভায় সর্বজনীন পেনশন স্কিমের কার্যক্রম পর্যালোচনার পাশাপাশি গ্রাহকদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ এবং স্কিমের বিনিয়োগ ও ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চতুর্থ সভায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিনিয়োগকৃত অর্থের বিপরীতে গ্রাহকদের মুনাফা প্রদানের বিষয়টি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল।

আলোচনার পর বাড়তি মুনাফা প্রদানের অনুমোদন দেওয়া হয়। এর ফলে সংশ্লিষ্ট অর্থবছরের বিনিয়োগের বিপরীতে সর্বজনীন পেনশন স্কিমের গ্রাহকদের হিসাবে নির্ধারিত হারে মুনাফা যুক্ত হবে। এ ছাড়াও সভায় সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাকে আরও জনবান্ধব ও অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে পেনশনারের মৃত্যুর পর তার নমিনিকে ৭৫ বছরের পরিবর্তে ৮০ বছর পর্যন্ত পেনশন প্রদানের সুযোগ রাখার বিষয়েও সিদ্ধান্ত হয়।

এদিন সভায় সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় ইসলামিক ভার্সন চালুর প্রস্তাবও গুরুত্ব পায়। প্রবাস, প্রগতি, সুরক্ষা ও সমতা স্কিমের শরিয়াহভিত্তিক সংস্করণ চালুর বিষয়েও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগের মাধ্যমে এ ধরনের স্কিম পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি হলে দেশের মুসলিম জনগোষ্ঠীর একটি অংশকে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় আরও বেশি সম্পৃক্ত করা সম্ভব হবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

এ ছাড়াও সভায় চাঁদাদাতাদের জন্য বিশেষ পরিস্থিতিতে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়। ন্যূনতম ৫ বছর চাঁদা জমা দেওয়ার পর শারীরিক বা আর্থিক অক্ষমতার মতো বিশেষ পরিস্থিতিতে নির্ধারিত শর্তে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেয়ার প্রস্তাব বিবেচনার জন্য সুনির্দিষ্ট সুপারিশসহ প্রস্তাব করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।

এদিকে গ্রাহক নিবন্ধন বাড়াতে সভায় ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারকে প্রদেয় কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাবও আলোচিত হয়। এ ক্ষেত্রে বর্তমানে প্রদেয় কমিশন ১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। একইসঙ্গে ব্যাংক, ডাক বিভাগ ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসসহ অন্যান্য অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের কমিশন নির্ধারণের বিষয়টিও এদিন আলোচনায় উঠে আসে। এ ছাড়াও সর্বজনীন পেনশন স্কিমের আওতায় স্বাস্থ্যবীমা চালুর বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়।

অন্যদিকে পরিচালনা পর্ষদের সভায় আগের সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়। সেই সঙ্গে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাকে আরও টেকসই, কার্যকর ও গ্রাহকবান্ধব করতে বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শেষে পরবর্তী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেয়া হয়। সভায় অর্থ সচিবসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের প্রতিনিধি, বাংলাদেশ সিকিউরিটি এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান, এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসকসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তার আওতায় আনার লক্ষ্যেই সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। গ্রাহকদের আস্থা বৃদ্ধি, বিনিয়োগের সুফল প্রদান এবং নতুন সুযোগ-সুবিধা যুক্ত করার মাধ্যমে স্কিমটির পরিধি আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ