অস্ত্র, মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযানসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে আগস্ট মাসে ৮০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। একই সময়ে ৪ হাজার ৯২৯ গ্রাম স্বর্ণের বার ও অলংকার উদ্ধার করা হয়েছে। এপিবিএনের হিসাবে, উদ্ধার করা স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ৯ কোটি ৭৯ লাখ ৮৮ হাজার ৩৮৫ টাকা।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উত্তরায় এপিবিএন সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আগস্ট মাসের অভিযানের এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে তথ্যগুলো জানান এপিবিএন সদর দপ্তরের ডিআইজি (অ্যাডমিন) ড. মোহাম্মদ শাহজাহান।
এপিবিএনের তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট মাসজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযানে ৬ হাজার ৫২৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৩ দশমিক ৪৯ কেজি গাঁজা, ৪৩ দশমিক ৭৫ লিটার মদ, ৩৮৭ কার্টন সিগারেট, ২০৯ পিস ভেপ সিগারেট এবং মাদক বিক্রির ৩ হাজার ৪০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ঘটনায় ১১টি মামলা দায়ের করে ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অস্ত্র উদ্ধারের অভিযানে দুটি ওয়ান শুটার গান, তিন রাউন্ড গুলি ও দুটি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে এপিবিএন। এ ঘটনায় একটি মামলা করে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে ৩৬৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে বিভিন্ন মামলার ২৫ জন ওয়ারেন্টভুক্ত ও ১৫ জন এজাহারনামীয় আসামি রয়েছেন। এ ছাড়া ছয়জন সন্দেহভাজন আসামি, পুলিশ অ্যাসল্ট মামলায় ছয়জন, অন্যান্য মামলায় ৩০ জন এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ৩৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
চোরাচালানবিরোধী অভিযানে স্বর্ণের পাশাপাশি ২০০ গ্রাম রুপার বার, ১ দশমিক ৭৬ কেজি প্রসাধনী, ১১৫টি শাড়ি ও থ্রি-পিস, ২৬৮ কেজি খাদ্যদ্রব্য, ১৭টি ঘড়ি, ১০ কেজি ইমিটেশন জুয়েলারি এবং বিভিন্ন ধরনের আরও ৩৩৭ কেজি পণ্য উদ্ধার করা হয়েছে। স্বর্ণ উদ্ধারের ঘটনায় ১৭টি মামলা করে ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ ছাড়া বিভিন্ন অভিযানে সৌদি আরবের ৫ হাজার ৬৮৫ রিয়াল, কাতারের ৬০০ রিয়াল, মালয়েশিয়ার ৩ হাজার ২৯০ রিঙ্গিত, অস্ট্রেলিয়ার ১ হাজার ডলার, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৩৫ দিরহাম ও যুক্তরাষ্ট্রের ৪০ হাজার ডলার উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে বাংলাদেশি ২ লাখ ৬৪ হাজার ৯৭৬ টাকাও।
জাল টাকা ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা করে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও নাগরিকসেবায় প্রযুক্তির ব্যবহারও করেছে এপিবিএন। আগস্টে বিভিন্ন ইউনিটের অভিযানে ৭৪৮টি হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩০টি হ্যাকড ফেসবুক আইডি, ২০টি হ্যাকড হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট, দুটি হ্যাকড ই-মেইল এবং একটি হ্যাকড টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্ট উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছে বাহিনীটি।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে ৫৭২ জনকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বিকাশ ও নগদ প্রতারণার ঘটনায় ৯ লাখ ৪৮ হাজার ৯১৮ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
জুয়া খেলার অভিযোগে পরিচালিত অভিযানে ১৮টি মোবাইল ফোন, চুরি করা দুটি মোবাইল ফোন ও একটি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়।
মানবিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে একজন নিখোঁজ শিশু ও ১৯ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেছে এপিবিএন। এসব ঘটনায় দুটি মামলা করে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকাতেও অভিযান চালিয়েছে এপিবিএন। আগস্টে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ২৩টি যানবাহন আটক করে শাহপরীর দ্বীপ হাইওয়ে থানায় পাঠানো হয়। এ সময় বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী ও পণ্য উদ্ধারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ঘটনায় মামলা ও গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে বাহিনীটি।
সংবাদ সম্মেলনে ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে জনগণকে দ্রুত ও কার্যকর সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে এপিবিএনের বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং নাগরিকসেবা আরও সহজ করতে প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম বাড়ানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, এপিবিএনের বিভিন্ন ইউনিট অভিযান, গোয়েন্দা তৎপরতা ও তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। ভবিষ্যতেও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও নাগরিকসেবা আরও সহজ করার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ






















