ঢাকা ০৮:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বামীর পুরুষাঙ্গ কর্তনের মামলায় স্ত্রীর ৭ বছরের কারাদণ্ড

রাজধানীর বংশালের কসাইটুলী এলাকায় স্বামীর পুরুষাঙ্গ কেটে দেওয়ার মামলায় স্ত্রী মোছা. রুমা আক্তারকে পৃথক দুই ধারায় সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে দুই ধারার সাজা একসঙ্গে চলবে।

ফলে তাকে সর্বোচ্চ চার বছর কারাভোগ করতে হবে।

সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন এ রায় দেন। মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাদীপক্ষের আইনজীবী আতাউর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

আইনজীবী আতাউর রহমান বলেন, ‘কাঁচি দিয়ে আঘাত করার দায়ে রুমাকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরো এক মাস কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। গুরুতর আঘাতের অপরাধে তাকে চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই অর্থদণ্ড অনাদায়েও তাকে আরো এক মাস কারাভোগ করতে হবে।

জানা যায়, ২০২৪ সালের জুন মাসে সিয়াম ও রুমার বিয়ে হয়।

বিয়ের পর তারা বংশালের কসাইটুলী এলাকায় আলাদা বাসায় থাকতেন। দাম্পত্য জীবনে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছর ১৮ ফেব্রুয়ারি ভোর সাড়ে চারটার দিকে ঘুমন্ত সিয়ামের পুরুষাঙ্গ কাপড় কাটার কাঁচি দিয়ে কেটে দেন রুমা। এর আগে ১৭ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাইরে থেকে খাবার খেয়ে বাসায় ফেরেন সিয়াম। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।

পরে ঘুমন্ত অবস্থায় সিয়ামের ওপর হামলা করা হয়। এ সময় ধস্তাধস্তিতে তার বাঁ হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলও রক্তাক্ত জখম হয়।

ঘটনার দিনই সিয়ামের বাবা বংশাল থানায় মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে গত বছরের ৫ মে রুমাকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন বংশাল থানার উপপরিদর্শক ফেরদৌস আলম।

এরপর গত বছরের ১০ নভেম্বর রুমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে মামলার ১১ জন সাক্ষীর মধ্যে সাতজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। আসামি রুমাও নিজের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন। পরে আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত আজ সাজা ঘোষণা করেন।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

স্বামীর পুরুষাঙ্গ কর্তনের মামলায় স্ত্রীর ৭ বছরের কারাদণ্ড

আপডেট সময় ০৭:৩২:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর বংশালের কসাইটুলী এলাকায় স্বামীর পুরুষাঙ্গ কেটে দেওয়ার মামলায় স্ত্রী মোছা. রুমা আক্তারকে পৃথক দুই ধারায় সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে দুই ধারার সাজা একসঙ্গে চলবে।

ফলে তাকে সর্বোচ্চ চার বছর কারাভোগ করতে হবে।

সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন এ রায় দেন। মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাদীপক্ষের আইনজীবী আতাউর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

আইনজীবী আতাউর রহমান বলেন, ‘কাঁচি দিয়ে আঘাত করার দায়ে রুমাকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরো এক মাস কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। গুরুতর আঘাতের অপরাধে তাকে চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই অর্থদণ্ড অনাদায়েও তাকে আরো এক মাস কারাভোগ করতে হবে।

জানা যায়, ২০২৪ সালের জুন মাসে সিয়াম ও রুমার বিয়ে হয়।

বিয়ের পর তারা বংশালের কসাইটুলী এলাকায় আলাদা বাসায় থাকতেন। দাম্পত্য জীবনে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছর ১৮ ফেব্রুয়ারি ভোর সাড়ে চারটার দিকে ঘুমন্ত সিয়ামের পুরুষাঙ্গ কাপড় কাটার কাঁচি দিয়ে কেটে দেন রুমা। এর আগে ১৭ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাইরে থেকে খাবার খেয়ে বাসায় ফেরেন সিয়াম। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।

পরে ঘুমন্ত অবস্থায় সিয়ামের ওপর হামলা করা হয়। এ সময় ধস্তাধস্তিতে তার বাঁ হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলও রক্তাক্ত জখম হয়।

ঘটনার দিনই সিয়ামের বাবা বংশাল থানায় মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে গত বছরের ৫ মে রুমাকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন বংশাল থানার উপপরিদর্শক ফেরদৌস আলম।

এরপর গত বছরের ১০ নভেম্বর রুমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার বিচার শুরু হয়। বিচার চলাকালে মামলার ১১ জন সাক্ষীর মধ্যে সাতজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। আসামি রুমাও নিজের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন। পরে আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত আজ সাজা ঘোষণা করেন।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ