ঢাকা ০৭:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টাঙ্গাইলে শিশু ধর্ষণের দায়ে একজনের যাবজ্জীবন

টাঙ্গাইলে শিশু ধর্ষণের দায়ে রশিদ মিয়া (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া আসামিকে দুই লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আসামির উপস্থিতিতে ট্রাইব্যুনালের বিচারক ড. আব্দুল মজিদ এই রায় দেন।

দণ্ডিত রশিদ মিয়া টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের আগছাওয়ালী গ্রামের গোলামের ছেলে।

বিচারক রায়ে উল্লেখ করেন, আসামির কাছ থেকে অর্থদণ্ড আদায় করা সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে আসামি যে সম্পদের মালিক হবেন সেই সম্পদ থেকে ভুক্তভোগীকে দেওয়া হবে। ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর টাঙ্গাইলকে দণ্ডিত আসামি রশিদ মিয়ার স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে অর্থদণ্ডের সমপরিমাণ অর্থ ভুক্তভোগীকে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

রায়ে ট্রাইব্যুনালের বিচারক আরো বলেন, ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুর বাবা আসামি রশিদ মিয়া, তাকে উত্তরাধিকার ঘোষণা করেন এবং শিশুর ভরণপোষণের ব্যয় রাষ্ট্র গ্রহণ করবে বলে প্রকাশ করেন। শিশুর শিক্ষা, চিকিৎসা ও ভরণপোষণ বাবদ মাসিক প্রদেয় অর্থের পরিমাণ নির্ধারণপূর্বক ট্রাইব্যুনালকে জানানোর নির্দেশ দেন আদালত।

টাঙ্গাইলের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পিপি খন্দকার মো. রোকুনুজ্জামান জানান, ২০২৪ সালে ১৪ এপ্রিল ১৪ বছরের এক শিশু তার দাদিকে ডাকার জন্য পুকুর পাড়ে যায়। সে সময় প্রতিবেশী (সম্পর্কে দাদা) দণ্ডিত আসামি রশিদ মিয়া তাকে বলে শিশুটির দাদি তার বাড়িতে গেছে।

পরে শিশুটিকে নিয়ে নিজ বাড়িতে যায় এবং ধর্ষণ করে। এ ঘটনা কাউকে জানালে শিশু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করবে বলে জানায়। পরে ভুক্তভোগীর শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন হলে শিশুটি তার মায়ের কাছে সবকিছু বলে দেয়। এ ঘটনায় শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর ভুক্তভোগী তার বাবার বাড়িতে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়।

২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ভুক্তভোগী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। আদালত মির্জাপুর থানাকে মামলাটি এজাহারের জন্য আদেশ দেন। পরে দণ্ডিত আসামি রশীদ মিয়ার ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টে ওই কন্যা সন্তানের বাবা বলে নিশ্চিত হয়।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

টাঙ্গাইলে শিশু ধর্ষণের দায়ে একজনের যাবজ্জীবন

আপডেট সময় ০৬:৫৪:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টাঙ্গাইলে শিশু ধর্ষণের দায়ে রশিদ মিয়া (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া আসামিকে দুই লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আসামির উপস্থিতিতে ট্রাইব্যুনালের বিচারক ড. আব্দুল মজিদ এই রায় দেন।

দণ্ডিত রশিদ মিয়া টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের আগছাওয়ালী গ্রামের গোলামের ছেলে।

বিচারক রায়ে উল্লেখ করেন, আসামির কাছ থেকে অর্থদণ্ড আদায় করা সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে আসামি যে সম্পদের মালিক হবেন সেই সম্পদ থেকে ভুক্তভোগীকে দেওয়া হবে। ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর টাঙ্গাইলকে দণ্ডিত আসামি রশিদ মিয়ার স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে অর্থদণ্ডের সমপরিমাণ অর্থ ভুক্তভোগীকে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

রায়ে ট্রাইব্যুনালের বিচারক আরো বলেন, ধর্ষণের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুর বাবা আসামি রশিদ মিয়া, তাকে উত্তরাধিকার ঘোষণা করেন এবং শিশুর ভরণপোষণের ব্যয় রাষ্ট্র গ্রহণ করবে বলে প্রকাশ করেন। শিশুর শিক্ষা, চিকিৎসা ও ভরণপোষণ বাবদ মাসিক প্রদেয় অর্থের পরিমাণ নির্ধারণপূর্বক ট্রাইব্যুনালকে জানানোর নির্দেশ দেন আদালত।

টাঙ্গাইলের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পিপি খন্দকার মো. রোকুনুজ্জামান জানান, ২০২৪ সালে ১৪ এপ্রিল ১৪ বছরের এক শিশু তার দাদিকে ডাকার জন্য পুকুর পাড়ে যায়। সে সময় প্রতিবেশী (সম্পর্কে দাদা) দণ্ডিত আসামি রশিদ মিয়া তাকে বলে শিশুটির দাদি তার বাড়িতে গেছে।

পরে শিশুটিকে নিয়ে নিজ বাড়িতে যায় এবং ধর্ষণ করে। এ ঘটনা কাউকে জানালে শিশু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করবে বলে জানায়। পরে ভুক্তভোগীর শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন হলে শিশুটি তার মায়ের কাছে সবকিছু বলে দেয়। এ ঘটনায় শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর ভুক্তভোগী তার বাবার বাড়িতে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয়।

২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ভুক্তভোগী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। আদালত মির্জাপুর থানাকে মামলাটি এজাহারের জন্য আদেশ দেন। পরে দণ্ডিত আসামি রশীদ মিয়ার ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টে ওই কন্যা সন্তানের বাবা বলে নিশ্চিত হয়।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ