বাগেরহাটের শরণখোলায় সুন্দরবনসংলগ্ন বলেশ্বর নদে বিশাল আকৃতির একটি কুমিরের দেখা মিলেছে। সোমবার দুপুর ২টার দিকে সাউথখালী ইউনিয়নের বাবলাতলা ও গাবতলা এলাকায় কুমিরটি দেখতে পান স্থানীয়রা। কুমিরটি দেখতে নদীর পাড়ে শত শত উৎসুক মানুষ ভিড় করেন। হঠাৎ নদে কুমিরের বিচরণে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন নদীপাড়ের বাসিন্দা ও জেলেরা।
স্থানীয় বাসিন্দা রাজু হাওলাদার, আনোয়ার খলিফাসহ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে দক্ষিণ সাউথখালীর বাবলাতলা এলাকায় বেড়িবাঁধসংলগ্ন বলেশ্বর নদে কুমিরটি ভেসে ওঠে। পরে কিছুক্ষণ পরপর ডুব দিয়ে মাথা ও শরীরের অংশ ভাসিয়ে সাঁতার কাটতে দেখা যায়। এভাবে প্রায় আধা কিলোমিটার সাঁতরে গাবতলা এলাকায় যায় কুমিরটি। পরে সেটি মাঝ নদীতে চলে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণা, কুমিরটির দৈর্ঘ্য ১০ থেকে ১২ ফুট।
স্থানীয়রা জানান, বলেশ্বর নদে অনেকে নৌকায় এবং কেউ কেউ নদীতে নেমে জাল টেনে মাছ ধরেন। এ ছাড়া নদীপাড়ের অনেক নারী, পুরুষ ও শিশু গোসলসহ দৈনন্দিন কাজে নদীতে নামেন। হঠাৎ কুমিরের দেখা মেলায় তাঁদের মধ্যে ভয় তৈরি হয়েছে।
সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. খলিলুর রহমান জানান, সুন্দরবনের আলীবান্দা ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র এলাকার বাইরে একটি বড় আকৃতির কুমির প্রায়ই দেখা যায়। কুমিরটি মাঝেমধ্যে রেঞ্জ অফিসের সামনের শরণখোলা ও বগী ভাড়ানি হয়ে তেড়াবেকা পর্যন্ত বিচরণ করে। পরে আবার আলীবান্দা এলাকায় ফিরে যায়।
তিনি বলেন, ‘বলেশ্বর নদ সুন্দরবনের কাছাকাছি হওয়ায় কুমিরের এখানে আসা অস্বাভাবিক কিছু নয়। হয়তো কোনো কারণে কুমিরটি বলেশ্বরে চলে এসেছে। তবে এর আগে বলেশ্বর নদে কুমির এসেছে বলে শোনা যায়নি। কুমিরটির দৈর্ঘ্য ১২ থেকে ১৩ ফুট হতে পারে।’
সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা আরও জানান, নদীপাড়ের অনেক মানুষ মাছ আহরণের সঙ্গে জড়িত হওয়ায় তাঁদের সতর্কতার সঙ্গে মাছ ধরতে বলা হয়েছে। স্থানীয়দের নদীতে নেমে গোসল না করার জন্যও সতর্ক করা হয়েছে। কুমিরটির গতিবিধি নজরে রাখতে বগী ফরেস্ট স্টেশনের বনরক্ষীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলা৭১নিউজ/জেএস



























