ঢাকা ০২:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম

মানি লন্ডারিং মামলায় রিজেন্টের সাহেদ ফের গ্রেপ্তার

৭১ লাখ ৮৭ হাজার ২৬৫ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ করিমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

আজ সোমবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আসামি সাহেদকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের আইনজীবী দেলোয়ার জাহান রুমি।

এদিন আদালতে সাহেদের আইনজীবী দবির উদ্দিন তার জামিনের আবেদন করেন। তবে জামিন আবেদনের ওপর শুনানি হয়নি।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৭ মার্চ দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী বাদী হয়ে এজাহার করেন।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ১০ জানুয়ারি দুদকের সহকারী পরিচালক ও তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়াতুল ইসলাম মোহাম্মদ সাহেদ ও তার স্ত্রী মিছেস সাদিয়া আরবীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, সাহেদের স্ত্রী সাদিয়া আরবী ২০২০ সালের ২৮ ডিসেম্বর দুদকে দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে মোট ৬১ লাখ ৩০ হাজার টাকার সম্পদের হিসাব দেন। তবে যাচাই-বাছাই ও তদন্তে তার নামে মোট ৭৬ লাখ ২৩ হাজার ৬২৫ টাকার সম্পদ পাওয়া যায়। এতে তিনি ১৪ লাখ ৯৩ হাজার ৬২৫ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করে মিথ্যা তথ্য দেন।

এ ছাড়া ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার পারিবারিক ব্যয়সহ সাদিয়া আরবীর অর্জিত সম্পদের মোট মূল্য দাঁড়ায় ৭৮ লাখ ২৩ হাজার ৬২৫ টাকা। কিন্তু তার আয়কর নথি অনুযায়ী অর্জিত আয়ের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ফলে তার ৭৩ লাখ ৫৩ হাজার ৬২৫ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ আয়কর নথির বাইরে এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত হিসেবে প্রমাণিত হয়।

তদন্তে আরো উঠে আসে, সাদিয়া আরবীর নিজস্ব কোনো নির্ভরযোগ্য আয়ের উৎস ছিল না। তার স্বামী মোহাম্মদ সাহেদ অবৈধ ও দুর্নীতিগ্রস্ত উপায়ে অর্জিত অর্থ স্ত্রীর নামে হস্তান্তর, রূপান্তর ও গোপন করে সম্পদ অর্জনে প্রত্যক্ষ সহায়তা করেন।

এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১), মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় চার্জ গঠনের আবেদন করা হয়।

উল্লেখ্য, মোহাম্মদ সাহেদ বিভিন্ন জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলায় একাধিক সাজাপ্রাপ্ত আসামি। অস্ত্র মামলা ও চেক ডিজঅনারের মামলায় সাজাসহ তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন আদালতে বেশ কয়েকটি মামলায় পরোয়ানা রয়েছে।

দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর মুক্তি পেলেও সম্প্রতি বিভিন্ন মামলায় তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের ঋণখেলাপি ও চেক ডিজঅনার মামলায় এক বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের সাজা সংক্রান্ত পরোয়ানায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় সাজা ও পরোয়ানা বহাল থাকায় তিনি কারাগারে রয়েছেন।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ

Tag :

এমবাপ্পের চেয়ে আমি ব্যালন ডি’অর জয়ের বেশি যোগ্য: ইয়ামাল

মানি লন্ডারিং মামলায় রিজেন্টের সাহেদ ফের গ্রেপ্তার

আপডেট সময় ০২:০২:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

৭১ লাখ ৮৭ হাজার ২৬৫ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ করিমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

আজ সোমবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আসামি সাহেদকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের আইনজীবী দেলোয়ার জাহান রুমি।

এদিন আদালতে সাহেদের আইনজীবী দবির উদ্দিন তার জামিনের আবেদন করেন। তবে জামিন আবেদনের ওপর শুনানি হয়নি।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ৭ মার্চ দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. ফরিদ আহমেদ পাটোয়ারী বাদী হয়ে এজাহার করেন।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ১০ জানুয়ারি দুদকের সহকারী পরিচালক ও তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়াতুল ইসলাম মোহাম্মদ সাহেদ ও তার স্ত্রী মিছেস সাদিয়া আরবীর বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, সাহেদের স্ত্রী সাদিয়া আরবী ২০২০ সালের ২৮ ডিসেম্বর দুদকে দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে মোট ৬১ লাখ ৩০ হাজার টাকার সম্পদের হিসাব দেন। তবে যাচাই-বাছাই ও তদন্তে তার নামে মোট ৭৬ লাখ ২৩ হাজার ৬২৫ টাকার সম্পদ পাওয়া যায়। এতে তিনি ১৪ লাখ ৯৩ হাজার ৬২৫ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করে মিথ্যা তথ্য দেন।

এ ছাড়া ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার পারিবারিক ব্যয়সহ সাদিয়া আরবীর অর্জিত সম্পদের মোট মূল্য দাঁড়ায় ৭৮ লাখ ২৩ হাজার ৬২৫ টাকা। কিন্তু তার আয়কর নথি অনুযায়ী অর্জিত আয়ের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ফলে তার ৭৩ লাখ ৫৩ হাজার ৬২৫ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ আয়কর নথির বাইরে এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত হিসেবে প্রমাণিত হয়।

তদন্তে আরো উঠে আসে, সাদিয়া আরবীর নিজস্ব কোনো নির্ভরযোগ্য আয়ের উৎস ছিল না। তার স্বামী মোহাম্মদ সাহেদ অবৈধ ও দুর্নীতিগ্রস্ত উপায়ে অর্জিত অর্থ স্ত্রীর নামে হস্তান্তর, রূপান্তর ও গোপন করে সম্পদ অর্জনে প্রত্যক্ষ সহায়তা করেন।

এ কারণে তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১), মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় চার্জ গঠনের আবেদন করা হয়।

উল্লেখ্য, মোহাম্মদ সাহেদ বিভিন্ন জালিয়াতি ও প্রতারণার মামলায় একাধিক সাজাপ্রাপ্ত আসামি। অস্ত্র মামলা ও চেক ডিজঅনারের মামলায় সাজাসহ তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন আদালতে বেশ কয়েকটি মামলায় পরোয়ানা রয়েছে।

দীর্ঘদিন কারাগারে থাকার পর মুক্তি পেলেও সম্প্রতি বিভিন্ন মামলায় তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের ঋণখেলাপি ও চেক ডিজঅনার মামলায় এক বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের সাজা সংক্রান্ত পরোয়ানায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় সাজা ও পরোয়ানা বহাল থাকায় তিনি কারাগারে রয়েছেন।

বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ