হলিউড অভিনেতা রবার্ট ডাউনি জুনিয়রের ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় অধ্যায় বা পুনর্জন্ম বলতেই অনেকে ২০০৮ সালের ‘আয়রন ম্যান’ সিনেমার কথা ভাবেন। তবে বাস্তবে তার এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তনের মূল ভিত্তি তৈরি হয়েছিল তারও তিন বছর আগে, ২০০৫ সালে মুক্তি পাওয়া শেন ব্ল্যাকের ‘কিস কিস ব্যাং ব্যাং’ সিনেমাটির মাধ্যমে।
মাদকাসক্তি ও আইনি জটিলতায় যখন ডাউনির ক্যারিয়ার প্রায় ধ্বংসের মুখে, ঠিক তখন পরিচালক শেন ব্ল্যাক তাকে নিয়ে তৈরি করেন এই ছবি।
‘কিস কিস ব্যাং ব্যাং’ মূলত একটি পুরনো ধাঁচের ‘পাল্প মিস্ট্রি’ চলচ্চিত্র। গল্পে ডাউনি অভিনয় করেন ‘হ্যারি’ নামের এক ছোটখাটো অপরাধীর চরিত্রে, যে পুলিশ থেকে পালিয়ে বেড়ানোর সময় ভুল করে এক অভিনয়ের অডিশনে ঢুকে পড়ে এবং দুর্ঘটনাক্রমে হলিউডে সুযোগ পেয়ে যায়। হলিউডের গ্ল্যামারজগতের পেছনের অন্ধকার, গোপন পরিচয় ও জটিল রহস্যকে বেশ হাস্যরসাত্মক ও চতুরতার সঙ্গে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এতে।
চলচ্চিত্রটিতে প্রাইভেট ডিটেকটিভ ‘গে পেরি’ (ভ্যাল কিলমার) ও শৈশবের প্রেমিকা ‘হারমোনি’র (মিশেল মোনাঘান) সঙ্গে হ্যারির বোঝাপড়া দারুণভাবে প্রদর্শিত হয়েছে। শেন ব্ল্যাকের দ্রুতগতির বুদ্ধিদীপ্ত সংলাপ আর রবার্ট ডাউনি জুনিয়রের নিখুঁত অভিনয়ের কারণে সিনেমাটি সাধারণ প্যারোডি ছাড়িয়ে এক অন্য মাত্রায় পৌঁছায়। চিত্রনাট্যকার হিসেবে খ্যাত শেন ব্ল্যাক এই ছবির মাধ্যমেই প্রথম পরিচালক হিসেবে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেন।
নব্বইয়ের দশকের শেষভাগে ব্যক্তিগত কেলেঙ্কারির কারণে ডাউনি এবং পরপর কয়েকটি ফ্লপ সিনেমার কারণে শেন ব্ল্যাক—দুজনেই তখন ক্যারিয়ারের মারাত্মক সংকটে ছিলেন।
কিন্তু ‘কিস কিস ব্যাং ব্যাং’ তাদের দুজনকেই নতুন জীবন দেয়। এই সিনেমার ঋণের প্রতিদান হিসেবেই পরবর্তী সময়ে রবার্ট ডাউনি জুনিয়র ২০১৩ সালে তার ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ব্যবসা সফল ছবি ‘আয়রন ম্যান ৩’ পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দেন শেন ব্ল্যাকের হাতে।
বাংলা৭১নিউজ/আরএইচ





























