ঢাকা ০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৭ উইকেটে পাকিস্তান নারী টিমকে উড়িয়ে দিল ভারত

দেওয়াল লিখন পাকিস্তানের ইনিংসেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। ৫৬ রান করতে যে ভারতের বিশেষ সমস্যা হবে না, তা-ও স্পষ্ট ছিল। ৮.৪ ওভারে জয়ের রান তুলে নিল ভারত। ৭ উইকেটে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিল তারা। কিন্তু ৫৬ রান তাড়া করতে নেমে ৩ উইকেট পড়ল ভারতের। দলের টপ অর্ডার কিছুটা হলেও কোচ অমল মুজুমদারকে চিন্তায় রাখবে।

মহিলাদের ক্রিকেটে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের দাপট বজায় রয়েছে। টি-টোয়েন্টিতে দু’দলের মধ্যে ১৮টি ম্যাচ হয়েছে। ভারত জিতেছে ১৫টি। পাকিস্তান তিনটি। এশিয়া কাপে ছ’বারের সাক্ষাতে এটি ভারতের পাঁচ নম্বর জয়। ২০২২ সালে জিতেছিল পাকিস্তান। সেটিই মহিলাদের কুড়ি-বিশের ক্রিকেটে ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের শেষ জয়।

৫৬ রান তাড়া করতে নেমে প্রথম বলেই ছক্কা মারেন শেফালি বর্মা। দেখে বোঝা যাচ্ছিল, দ্রুত খেলা শেষ করার লক্ষ্যে নেমেছেন তিনি। কিন্তু আরও একবার লম্বা ইনিংস খেলতে ব্যর্থ শেফালি। লড়াই করলেন পাকিস্তানের অধিনায়ক ফাতিমা সানা। শেফালিকে প্রথমে ১২ রানের মাথায় ফেরালেন তিনি।

তিন নম্বরে জেমাইমা রদ্রিগেজ়ের জায়গায় এখনও থিতু হতে পারেননি প্রতিকা রাওয়াল। আরও একটি ম্যাচে রান পেলেন না। ৪ রানের মাথায় তাঁকে ফেরালেন ফাতিমা। একই ওভারে জোড়া উইকেট নিলেন তিনি।

গত ম্যাচে শতরানের ইনিংস খেলেছিলেন স্মৃতি মন্ধানা। কিন্তু এই ম্যাচে শুরু থেকে ধীরে খেলছিলেন। ফাতিমার দ্বিতীয় ওভারে ৯ রানের মাথায় আউট হলেন তিনি। তবে বল লেগ স্টাম্পের বাইরে পড়েছিল কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়ে গিয়েছে। এই এশিয়া কাপে ডিআরএস নেই। ফলে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

তিন উইকেট পড়ার পর অবশ্য ভারতের ইনিংস সামলান অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর ও অভিজ্ঞ দীপ্তি শর্মা। তাঁরা দলকে জয়ের পথে নিয়ে গেলেন। ছক্কা মেরে খেলা শেষ করলেন হরমনপ্রীত। তিনি ১৮ রানে অপরাজিত থাকলেন। ১২ রানে অপরাজিত থাকলেন দীপ্তি।

তবে এই ম্যাচে চাইলে ভারত কিছু পরীক্ষা করতে পারত। রিচা ঘোষ, ভারতী ফুলমালিদের আগে নামানো যেত। অন্তত তাঁরা একটু খেলার সুযোগ পেতেন। কিন্তু ভারত তাদের নির্ধারিত পথেই এগোল। ভারতের টপ অর্ডার কিন্তু ধারাবাহিকতা দেখাতে পারছে না। এই ম্যাচে সমস্যা না হলেও এ রকম হলে নক আউটে সমস্যা হতে পারে ভারতের।

ব্যাটারদের নিয়ে চিন্তা থাকলেও ভারতের বোলারেরা নিজের কাজ করছেন। পাকিস্তানের ব্যাটারদের মাটি ধরিয়েছেন তাঁরা। এর আগে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে পাকিস্তানের সর্বনিম্ন রান ছিল ৫৬। দু’বছর আগে ২০২৪ সালে দুবাইয়ের এই মাঠেই নিউ জ়িল্যান্ডের কাছে ৫৬ রানে শেষ হয়ে গিয়েছিল সেই দল। সেই লজ্জা এই ম্যাচে আরও বাড়ল। তা-ও ভারতের কাছে।

ভারতের চার স্পিনার মিলে ৯ উইকেট নিয়েছেন। বাকি একটি রান আউট। সবচেয়ে সফল শ্রী চরণি। চার ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি। এই বছরে কুড়ি-বিশের ক্রিকেটে ৩৪ উইকেট হল তাঁর। আর ২ উইকেট নিলেই ভারতীয় বোলারদের মধ্যে এক বছরে সর্বাধিক টি-টোয়েন্টি উইকেটের রেকর্ড হবে তাঁর।

প্রেমা রাওয়াত চার ওভারে ৯ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন। দীপ্তি ৫ রান দিয়ে ২ ও শেফালি ১০ রান দিয়ে ১ উইকেট নিয়েছেন। দুই পেসার ক্রান্তি গৌড় ও নন্দিনী শর্মা উইকেট পাননি। তবে পেতে পারতেন। দুই পেসারের বলেই মুনিবা আলির ক্যাচ ফেলেন প্রতিকা। নইলে তাঁরাও উইকেটের তালিকায় নাম লেখাতে পারতেন। এই ক্যাচ ফস্কানো কিছুটা চিন্তায় রাখবে কোচ অমল মুজুমদারকে।

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন পাকিস্তানের অধিনায়ক ফাতিমা। ভেবেছিলেন, বড় রান করে ভারতকে চাপে ফেলবেন। দুই ওপেনার সাবধানে শুরু করেন। উইকেট রেখে খেলার চেষ্টা করেন। ওপেনিং জুটিতে ওঠে ২৭ রান। তবে ভারতীয় স্পিনারেরা বল করতে এলেই ছবিটা বদলে যায়।

পঞ্চম ওভারের তৃতীয় বলে মুনিবাকে আউট করেন শেফালি। সেই শুরু। পরের ১৩ ওভারে শুধুই উইকেট পড়ল। দুই ওপেনার ছাড়া আর কেউ দুই অঙ্কে পৌঁছোতে পারেননি। দুবাইয়ের মন্থর উইকেটে তাঁদের অসহায় দেখাচ্ছিল। দেখে মনে হচ্ছিল, কী ভাবে খেলবেন, কোথায় খেলবেন কিছুই বুঝতে পারছেন না। ফলে যা হওয়ার তা-ই হল। ভারতীয় স্পিনারেরা নিজেদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগালেন। মাত্র ৫৫ রানে অল আউট হয়ে গেল গোটা পাকিস্তান দল। সহজেই সেই ম্যাচ জিতল ভারত।

সূত্র: আনন্দাবাজার অনলাইন

বাংলা৭১নিউজ/এসএইচবি

Tag :

৭ উইকেটে পাকিস্তান নারী টিমকে উড়িয়ে দিল ভারত

আপডেট সময় ০৮:৫৩:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেওয়াল লিখন পাকিস্তানের ইনিংসেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। ৫৬ রান করতে যে ভারতের বিশেষ সমস্যা হবে না, তা-ও স্পষ্ট ছিল। ৮.৪ ওভারে জয়ের রান তুলে নিল ভারত। ৭ উইকেটে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিল তারা। কিন্তু ৫৬ রান তাড়া করতে নেমে ৩ উইকেট পড়ল ভারতের। দলের টপ অর্ডার কিছুটা হলেও কোচ অমল মুজুমদারকে চিন্তায় রাখবে।

মহিলাদের ক্রিকেটে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের দাপট বজায় রয়েছে। টি-টোয়েন্টিতে দু’দলের মধ্যে ১৮টি ম্যাচ হয়েছে। ভারত জিতেছে ১৫টি। পাকিস্তান তিনটি। এশিয়া কাপে ছ’বারের সাক্ষাতে এটি ভারতের পাঁচ নম্বর জয়। ২০২২ সালে জিতেছিল পাকিস্তান। সেটিই মহিলাদের কুড়ি-বিশের ক্রিকেটে ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের শেষ জয়।

৫৬ রান তাড়া করতে নেমে প্রথম বলেই ছক্কা মারেন শেফালি বর্মা। দেখে বোঝা যাচ্ছিল, দ্রুত খেলা শেষ করার লক্ষ্যে নেমেছেন তিনি। কিন্তু আরও একবার লম্বা ইনিংস খেলতে ব্যর্থ শেফালি। লড়াই করলেন পাকিস্তানের অধিনায়ক ফাতিমা সানা। শেফালিকে প্রথমে ১২ রানের মাথায় ফেরালেন তিনি।

তিন নম্বরে জেমাইমা রদ্রিগেজ়ের জায়গায় এখনও থিতু হতে পারেননি প্রতিকা রাওয়াল। আরও একটি ম্যাচে রান পেলেন না। ৪ রানের মাথায় তাঁকে ফেরালেন ফাতিমা। একই ওভারে জোড়া উইকেট নিলেন তিনি।

গত ম্যাচে শতরানের ইনিংস খেলেছিলেন স্মৃতি মন্ধানা। কিন্তু এই ম্যাচে শুরু থেকে ধীরে খেলছিলেন। ফাতিমার দ্বিতীয় ওভারে ৯ রানের মাথায় আউট হলেন তিনি। তবে বল লেগ স্টাম্পের বাইরে পড়েছিল কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়ে গিয়েছে। এই এশিয়া কাপে ডিআরএস নেই। ফলে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

তিন উইকেট পড়ার পর অবশ্য ভারতের ইনিংস সামলান অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর ও অভিজ্ঞ দীপ্তি শর্মা। তাঁরা দলকে জয়ের পথে নিয়ে গেলেন। ছক্কা মেরে খেলা শেষ করলেন হরমনপ্রীত। তিনি ১৮ রানে অপরাজিত থাকলেন। ১২ রানে অপরাজিত থাকলেন দীপ্তি।

তবে এই ম্যাচে চাইলে ভারত কিছু পরীক্ষা করতে পারত। রিচা ঘোষ, ভারতী ফুলমালিদের আগে নামানো যেত। অন্তত তাঁরা একটু খেলার সুযোগ পেতেন। কিন্তু ভারত তাদের নির্ধারিত পথেই এগোল। ভারতের টপ অর্ডার কিন্তু ধারাবাহিকতা দেখাতে পারছে না। এই ম্যাচে সমস্যা না হলেও এ রকম হলে নক আউটে সমস্যা হতে পারে ভারতের।

ব্যাটারদের নিয়ে চিন্তা থাকলেও ভারতের বোলারেরা নিজের কাজ করছেন। পাকিস্তানের ব্যাটারদের মাটি ধরিয়েছেন তাঁরা। এর আগে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে পাকিস্তানের সর্বনিম্ন রান ছিল ৫৬। দু’বছর আগে ২০২৪ সালে দুবাইয়ের এই মাঠেই নিউ জ়িল্যান্ডের কাছে ৫৬ রানে শেষ হয়ে গিয়েছিল সেই দল। সেই লজ্জা এই ম্যাচে আরও বাড়ল। তা-ও ভারতের কাছে।

ভারতের চার স্পিনার মিলে ৯ উইকেট নিয়েছেন। বাকি একটি রান আউট। সবচেয়ে সফল শ্রী চরণি। চার ওভারে মাত্র ৭ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি। এই বছরে কুড়ি-বিশের ক্রিকেটে ৩৪ উইকেট হল তাঁর। আর ২ উইকেট নিলেই ভারতীয় বোলারদের মধ্যে এক বছরে সর্বাধিক টি-টোয়েন্টি উইকেটের রেকর্ড হবে তাঁর।

প্রেমা রাওয়াত চার ওভারে ৯ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন। দীপ্তি ৫ রান দিয়ে ২ ও শেফালি ১০ রান দিয়ে ১ উইকেট নিয়েছেন। দুই পেসার ক্রান্তি গৌড় ও নন্দিনী শর্মা উইকেট পাননি। তবে পেতে পারতেন। দুই পেসারের বলেই মুনিবা আলির ক্যাচ ফেলেন প্রতিকা। নইলে তাঁরাও উইকেটের তালিকায় নাম লেখাতে পারতেন। এই ক্যাচ ফস্কানো কিছুটা চিন্তায় রাখবে কোচ অমল মুজুমদারকে।

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন পাকিস্তানের অধিনায়ক ফাতিমা। ভেবেছিলেন, বড় রান করে ভারতকে চাপে ফেলবেন। দুই ওপেনার সাবধানে শুরু করেন। উইকেট রেখে খেলার চেষ্টা করেন। ওপেনিং জুটিতে ওঠে ২৭ রান। তবে ভারতীয় স্পিনারেরা বল করতে এলেই ছবিটা বদলে যায়।

পঞ্চম ওভারের তৃতীয় বলে মুনিবাকে আউট করেন শেফালি। সেই শুরু। পরের ১৩ ওভারে শুধুই উইকেট পড়ল। দুই ওপেনার ছাড়া আর কেউ দুই অঙ্কে পৌঁছোতে পারেননি। দুবাইয়ের মন্থর উইকেটে তাঁদের অসহায় দেখাচ্ছিল। দেখে মনে হচ্ছিল, কী ভাবে খেলবেন, কোথায় খেলবেন কিছুই বুঝতে পারছেন না। ফলে যা হওয়ার তা-ই হল। ভারতীয় স্পিনারেরা নিজেদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগালেন। মাত্র ৫৫ রানে অল আউট হয়ে গেল গোটা পাকিস্তান দল। সহজেই সেই ম্যাচ জিতল ভারত।

সূত্র: আনন্দাবাজার অনলাইন

বাংলা৭১নিউজ/এসএইচবি